Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ময়ূরঝর্না এলিফ্যান্ট রিজার্ভ প্রকল্প নিয়ে তৎপরতা

ময়ূরঝর্না এলিফ্যান্ট রিজার্ভ প্রকল্প নিয়ে তৎপরতা
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রামে প্রায়দিনই ফসল নষ্টের পাশাপাশি বাড়িঘর ভাঙচুর করছে হাতি। হাতির হামলায় প্রাণহানিও হচ্ছে। মানুষের সঙ্গে সংঘাতে হাতিরাও বিপন্ন। আগস্ট মাসে জেলা শহরে জ্বলন্ত শলাকায় বিদ্ধ হয়ে একটি স্ত্রী হাতির মৃত্যু হয়। হাতি-মানুষ সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে রাজ্য সরকার উদ্যোগী হয়েছে। রাজ্যের নির্দেশে দীর্ঘদিন আটকে থাকা ময়ূরঝর্না এলিফ্যান্ট রিজার্ভ প্রকল্প গড়ার কাজে তৎপরতা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।
Advertisement
ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। তবে সংরক্ষিত এলাকা পরিদর্শন চলছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে হয়েছে।
বেলপাহাড়ি ব্লকের অরণ্য এলাকা ময়ূরঝর্নার নামে এলিফ্যান্ট রিজার্ভ ফরেস্টের নামকরণ হয়েছে। দলমা পাহাড় থেকে জঙ্গলমহলে আসা হাতির দলকে সংরক্ষিত এলাকায় রাখার জন্য এই প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রায় ৪১৪বর্গকিমিজুড়ে এই এলাকা ছড়িয়ে রয়েছে। প্রজেক্টের উত্তরদিকে পুরুলিয়া জেলার মানবাজার ব্লক, বাঁকুড়া জেলার সিমলি ব্লক, দক্ষিণে ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুর ব্লক ও বাঁকুড়া জেলার রাইপুর ব্লক রয়েছে। রাজ্য সরকার ২০১৬ সালের ১০ মার্চ ময়ূরঝর্না এলিফ্যান্ট রিজার্ভের জন্য নতুন ওয়াইল্ডলাইফ ডিভিশন গঠনের নোটিফিকেশন জারি করেছিল। ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া ডিভিশনের বিভিন্ন বনাঞ্চল নিয়ে সংরক্ষিত এলাকা তৈরির কাজও শুরু হয়। কিন্তু সেই কাজ মাঝপথে থেমে ছিল।
বনবিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ময়ূরঝর্নায় ১২ হাজার একর জায়গার মধ্যে হাতির পছন্দমতো নানা ফলের বাগান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। জলাশয়ও তৈরি হবে। সংরক্ষিত এলাকায় হাতির দল পর্যাপ্ত খাবার পেলে জনবসতি এলাকায় আসবে না। ফলে হাতির হানায় প্রাণহানি কমবে। হাতিরাও নিজেদের এলাকায় সুরক্ষিত থাকবে।
ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল বলেন, ময়ূরঝর্না এলিফ্যান্ট রিজার্ভ প্রকল্প নিয়ে প্রাথমিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। আধিকারিকরা এলাকা পরিদর্শন করছেন। রাজ্যস্তরেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। আশা করছি, প্রকল্পটির কাজ তাড়াতাড়ি শুরু করা যাবে।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের আন্দোলনে জড়িত পরিতোষ মজুমদার বলেন, ময়ূরঝর্না এলিফ্যান্ট রিজার্ভ প্রকল্পের কাজ কোনও অজ্ঞাত কারণে বহুদিন ধরে থমকে আছে। মানুষের প্রাণহানি রুখতে ও হাতির সুরক্ষায় এই প্রকল্পের কাজ তাড়াতাড়ি শুরু করা দরকার। 
সম্পর্কিত সংবাদ