Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মর্গের পথে দেহ নিয়ে ‘গায়েব’ গাড়ি মেডিক্যালে মৃতের পরিজনদের সঙ্গে হাতাহাতি

মর্গের পথে দেহ নিয়ে ‘গায়েব’ গাড়ি মেডিক্যালে মৃতের পরিজনদের সঙ্গে হাতাহাতি
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রায়গঞ্জ: মহিলার মৃতদেহ মর্গে নিয়ে যাওয়ার পথে ‘গায়েব’ হয়ে গেল গাড়ি। প্রায় দু’ঘন্টা পর দেহ নিয়ে গাড়ির চালক মর্গে ফিরতেই চালক ও তাঁর সহযোগীর উপর চড়াও হলেন মৃতের পরিবারের লোক। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে। 
Advertisement
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, ইটাহারের হাসুয়া এলাকার বাসিন্দা মৌসুমী সরকারের (৩২) অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। শনিবার সকালে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছিল। মৃতদেহ নিতে মর্গের গাড়ি পৌঁছয় সকাল ১০ টা নাগাদ। সেখান থেকে গাড়ি মৃতদেহ নিয়ে ইটাহার থানায় যায়। সেখানে কাগজপত্র তৈরির পর দেহ নিয়ে রায়গঞ্জ মেডিক্যালের উদ্দেশ্যে রওনা হয় গাড়িটি। মৃতদেহের সঙ্গে একজন প্রতিবেশীকেও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু গাড়ির চালক তাঁকে রায়গঞ্জের জামবাড়ি এলাকায় নামিয়ে মৃতদেহ নিয়ে অন্য কোথাও চলে যান বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় হইচই শুরু হয়ে যায়। মর্গের সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের পরিবারের লোকজন। মৃতদেহের অঙ্গ পাচার এবং গয়না চুরির পাশপাশি অন্যান্য আশঙ্কার কথা জানান তাঁরা। 
মৃতের স্বামী মিঠুন সরকার বলেন, স্ত্রী মানসিক সমস্যায় ভুগছিল। এরমধ্যে মৃতদেহ নিয়ে মর্গের গাড়ির চালক অন্য কোথাও চলে যায়। আমরা পুলিসের হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি।
মর্গের গাড়ি চালকের সহযোগী মিঠুন হাজরার কথায়, ইটাহার থেকে দেহ নিয়ে আসছিলাম। কিন্তু হঠাৎ ফোন আসে করণদিঘি এলাকায় একটি মৃতদেহ রাস্তার ধারে পড়ে রয়েছে। আমাকে গাড়ির মালিক বলেন সেই দেহটি নিয়ে আসতে। কিন্তু দু’টি দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়িতে জায়গা ছিল না। তাই  মৃত মহিলার আত্মীয়কে মাঝরাস্তায় নামিয়ে দিয়েছিলাম। দু’টি দেহ নিয়ে মর্গে যেতেই আমাদের মারধর করা হয়। 
এই ঘটনার পর রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে যান মৃতের পরিবারের লোকরা। সহকারী সুপার শৌনক কুমার ঘোষ বলেন, পরিবারের লোক মৌখিক অভিযোগ করেছেন। মেডিক্যাল চত্বরে হাতাহাতি হয়েছে। লিখিত অভিযোগ করলে খতিয়ে দেখা যাবে।
অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃতদেহ মর্গে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পুলিসের।  তাই পুলিসের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগও উঠছে। যদিও রায়গঞ্জ পুলিস জেলার এসপি সানা আক্তার বলেন, মৃতদেহের পিছনে বাইকে ছিল পুলিস। মর্গের চালক ভুল করে অন্য জায়গায় একটি মৃতদেহ আনতে গিয়েছিলেন। এবার মৃতদেহ নিয়ে সোজা মর্গে আসার নির্দেশ দেওয়া হবে।
মৃতদেহ অক্ষত রয়েছে কি না পুলিস ও ফরেন্সিক চিকিৎসদের উপস্থিতিতে পরিবারের লোকদের দেখানো হয়। শেষপর্যন্ত তাঁরা সন্তুষ্ট হন।
সম্পর্কিত সংবাদ