Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুরগির খাবারের মূল্য দ্বিগুণ, ডিম অগ্নিমূল্য

মুরগির খাবারের মূল্য দ্বিগুণ, ডিম অগ্নিমূল্য
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দেশে ভুট্টা চাষের এলাকা তেমন বাড়েনি। তবে, বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছে ইথানল কারখানা। তারজন্য প্রয়োজন হচ্ছে ভুট্টা। ফলে মুরগির খাবারের দাম দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। সেই কারণে রাজ্যে ডিমের উৎপাদন বাড়লেও দাম ঊর্ধ্বমুখী। খোলাবাজারে তা সাতটাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। ফার্ম মালিকদের দাবি, খাবারের দাম না কমলে আগামী দিনে দাম আরও বাড়তে পারে। ইথানল কারখানার জন্য ব্যাপক পরিমাণ ভুট্টা দরকার হচ্ছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় ১০০-র বেশি ইথানল কারখানা গড়ে উঠেছে। ভুট্টা চাষের এলাকা বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষকদের উৎসাহ দিয়ে চাষের এলাকা বাড়াতে হবে।
Advertisement
প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে দৈনিক ৪ কোটি ৩৫ লক্ষ ডিমের প্রয়োজন হয়। অধিকাংশ ডিম রাজ্যে উৎপাদন হচ্ছে। ভিনরাজ্যের উপর নির্ভরতা কমছে। কিন্তু খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই ফার্ম মালিকরা সমস্যায় পড়েছেন। রাজ্য পোলট্রি ফেডারেশনের তরফে মদনমোহন মাইতি বলেন, ডিমের দাম সাত টাকা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। ফার্মের মুরগির প্রধান খাদ্য ভুট্টার দানা। সেটার দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। খরচ সামাল দেওয়ার জন্য দাম বাড়াতেই হচ্ছে। 
বাজারে ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা সমস্যায় পড়েছেন। বর্ধমানের বাসিন্দা শোভন ঘোষ বলেন, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে প্রোটিনের অন্যতম উৎস ছিল ডিম। দাম বেড়ে যাওয়ায় সেটা কিনতেও বেগ পেতে হচ্ছে। এখন সাত টাকার নীচে ডিম পাওয়া যাচ্ছে না। শীতকালে ডিমের চাহিদা বেড়ে যায়। আগামী দিনে দাম আরও বেড়ে গেলে অনেকেই নিয়মিত তা পাতে তুলতে পারবেন না। একটি বহুজাতিক সংস্থার আধিকারিক দেবাশিস দাস বলেন, দেশে ইথানল কারখানার প্রয়োজন রয়েছে। চাল ও ভুট্টা থেকে তা তৈরি হয়। কিছু কিছু জায়গায় আখ থেকেও তা তৈরি হয়। তবে ভুট্টার চাহিদা সব থেকে বেশি। বহু জমিতে একবার চাষ হয়। সেই জমিগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকারের ভুট্টা চষের উৎসাহ দেওয়া উচিত ছিল। ভুট্টা চাষের এলাকা বাড়লে এই সমস্যা তৈরি হতো না। প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে কয়েক বছরে ডিম এবং মাংস উৎপাদন আগের থেকে অনেক বেড়ে গিয়েছে। বাঁকুড়া, দুই মেদিনীপুর, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমানে ফার্মের সংখ্যা অনেক বেড়ে গিয়েছে। রাজ্য সরকার ফার্ম তৈরির জন্য উৎসাহ দিচ্ছে। বহু যুবক ফার্ম তৈরি করেই স্বনির্ভরশীল হয়ে উঠেছেন। কিন্তু মুরগির খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় ফার্ম মালিক এবং আমজনতা বিপাকে পড়ে গিয়েছে। শীতের শুরু থেকেই বেশি দাম দিয়ে ডিম কিনতে হচ্ছে। আপতত দাম কমার সম্ভবনা না থাকায় ফার্ম মালিকদেরও চিন্তা বেড়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ