সংবাদদাতা, কাঁথি: কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের মর্গ আধুনিকীকরণের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। মর্গ কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত করা হচ্ছে। মর্গে পুরনো এসি’র পরিকাঠামো মাঝেমধ্যেই খারাপ হয়ে যায়। সেই পরিকাঠামো সরিয়ে আধুনিক সুবিধাযুক্ত বড়সড় এসি বসানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সেই কুলিং সিস্টেম এসেও গিয়েছে। এসি সহ আনুষঙ্গিক পরিকাঠামো তৈরি করার জন্য ২৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থা (ডিএসডিএ)। বর্তমানে মর্গের মধ্যে এসি পরিকাঠামো বসানোর জন্য নতুন প্যানেল তৈরির কাজ চলছে। পূর্ত ও বিদ্যুৎ দপ্তর সেই কাজ করছে। নতুন বছরের গোড়ায় নবরূপে সেজে ওঠা মর্গ চালু হয়ে যাবে বলে আশা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই পরিকাঠামো তৈরি হয়ে গেলে সেখানে আরও বেশি দেহ সংরক্ষিত করা যাবে।
Advertisement
উল্লেখ্য, বছরে এক হাজারেরও বেশি অস্বাভাবিক মৃত্যু হওয়া নারী-পুরুষের দেহের ময়নাতদন্ত কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের মর্গে হয়। এটা সারা রাজ্যের মধ্যে রেকর্ড বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। কাঁথি ও এগরা মহকুমার সবক’টি থানা এলাকায় যত অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়, সব দেহের এখানেই ময়নাতদন্ত করা হয়। অনেক সময় তমলুক মহকুমার নন্দীগ্রাম কিংবা চণ্ডীপুর থানা এলাকা থেকে আসা দেহেরও এই মর্গে ময়নাতদন্ত হয়। প্রতিদিন গড়ে তিন-চারটি দেহের ময়নাতদন্ত হয়। কোনও কোনও দিন আবার সংখ্যাটা বেশিও হয়ে যায়। বর্তমানে ছোট্ট ঘরে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পরিকাঠামোয় ড্রয়ারে একসঙ্গে ছ’টি দেহ সংরক্ষিত করে রাখার পরিকাঠামো রয়েছে। তার বেশি হলে তৈরি হয় সমস্যা। তখন বরফের ব্যবস্থা করে পলিথিনে মুড়ে মৃতদেহ সংরক্ষিত করে রাখতে হয়। তাছাড়া বর্তমানে যেখানে দেহ সংরক্ষিত করে রাখা হয়, সেখানে মান্ধাতার আমলের এসি রয়েছে। তা মাঝেমধ্যেই খারাপ হয়ে যায়। আবার সারানো হয়। কিন্তু যখন এসি চলে না, তখন মর্গে মৃতদেহ থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে টেকা দায় হয়ে পড়ে। এনিয়ে প্রায়শই অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা লোকজন। এর আগেও একবার টানা ১৫ দিন এসি বিকল অবস্থায় ছিল। সারানোর পর তা চালু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে যে ঘরে ময়নাতদন্ত হয়, তার পাশে একটি ঘর রয়েছে। সেই ঘরটিকে সংস্কার করে সেটি কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত করার কাজ চলছে। সেখানে একসঙ্গে ছ’টি কিংবা ১২টিও দেহ রাখা সম্ভব হবে। গাদাগাদি করে রাখতে হবে না। এই পরিকাঠামো তৈরি হয়ে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যেমন সুবিধা হবে, তেমনি ময়নাতদন্তের পর দেহ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়ির লোকজনকেও অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে না।এপ্রসঙ্গে হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার মইদুল ইসলাম বলেন, মর্গটিকে ঢেলে সাজা হচ্ছে। পুরনো এসিটি মান্ধাতা আমলের। শীতকালে তেমন সমস্যা না হলেও মাঝেমধ্যেই সমস্যা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ডিএসডিএ’র তরফে ২৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সেই টাকায় আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিকাঠামো তৈরির কাজ চলছে।



