Bartaman Logo
১৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মায়ের প্রেমিকের হাতে   খুন খড়দহের নাবালক

মায়ের প্রেমিকের হাতে   খুন খড়দহের নাবালক
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: মায়ের অবৈধ প্রণয় দেখে ফেলেছিল ছেলে। মাঝেমধ্যেই বাবাকে সে কথা বলে দেবে বলে মাকে হুমকি দিত সে। দশ বছরের গোলু পাছে গল্পের ছলে ফাঁস করে দেয় সেসব, তাই তাকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেছিল মায়ের প্রেমিক। বুধবার টিটাগড়ের ভাগাড়ে ঝোপঝাড়ের মধ্যে থেকে উদ্ধার হয়েছে ওই নাবালকের নলি কাটা দেহ। পুলিস জানিয়েছে, রহড়ার বাসিন্দা গোলুর আসল নাম অভয়কুমার দাস। খুনের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিস মায়ের প্রেমিক বিনোদ রায়কে গ্রেপ্তার করেছে। মৃতের মাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
Advertisement
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভয়ের বাড়ি রহড়ার পাতুলিয়া নালির মাঠ এলাকায়। সে স্থানীয় কল্যাণনগরে একটি প্রাথমিক স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে সে নিখোঁজ। বাবা ধর্মেন্দ্র দাস পেশায় রিকশ চালক। তিনি আবার বিশেষভাবে সক্ষম। মা পুনম দাস বাড়ি লাগোয়া ইটখোলা মোড়ে ফুচকার দোকান দেন। বাপের বাড়ি বিহারের ছাপরায়। ওখানেই ধৃত বিনোদের শ্বশুরবাড়ি। সেই সূত্রেই পুনমের সঙ্গে তার আলাপ। বছর খানেক আগে বিহার থেকে পাতুলিয়ায় পুনমের বাড়িতে এসে উঠেছিল বিনোদ। এখানে সে মার্বেলের কাজ করে। বাড়িতে থাকার সুবাদে পুনমের সঙ্গে তাঁর পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মায়ের এই অবৈধ সম্পর্ক দেখে ফেলেছিল অভয়। মাঝেমধ্যে সে বাবাকে ওই ঘটনা জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিত। সেকারণে, মাস দুয়েক আগে পাশের আদিবাসী পাড়ায় বিনোদ ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। সেখান থেকেই তার যাতায়াত ছিল পুনমের বাড়িতে। পথের কাঁটা সরাতে বিনোদ নতুন ছক কষে। শনিবার সন্ধ্যায় চাউমিন খাওয়ানোর নাম করে অভয়কে বাড়ির অদূরে গোশালার মাঠে নিয়ে যায়। পুলিস জেরায় জেনেছে, সেখানকার একটি দোকানে সে অভয়কে চাউমিন খেতে বলে নালির মাঠে পুনমের বাড়িতে ফিরে আসে। এরপর অভয়ের বাবার সঙ্গে বসে মদ্যপান করে ফিরে যায় গোশালার মাঠে। তারপর অভয়কে পাশের অন্ধকার নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে মুখে চাপা দিয়ে গলায় ব্লেড চালিয়ে দেয়। নলি কাটার পাশাপাশি গোটা মুখও ক্ষতবিক্ষত করে। ওই রাতেই অভয়ের দেহ বস্তায় ভরে টিটাগড়ের ভাগাড়ে সে ফেলে আসে। বুধবার সকালে স্থানীয়রা ভাগাড় লাগোয়া ঝোপঝাড়ে প্রাতঃকৃত্য করতে গিয়ে নাবালকের অর্ধনগ্ন গলা কাটা দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর পুলিস মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। ধৃত বিনোদ পুলিসকে জেরায় জানিয়েছে, নাবালকের মা পুনম খুনের বিষয়টি জানত। পুলিস পুনমকে জেরা করে বিনোদের কথার সত্যতা যাচাই করছে। স্থানীয় সঞ্জীব দাস বলেন, সবার সামনে বিনোদকে দেওর বলে পরিচয় দিত পুনম।
বারাকপুরের অতিরিক্ত পুলিস কমিশনার (ঘোলা) তনয় চট্টোপাধ্যায় বলেন, মৃত নাবালকের মায়ের বন্ধু বিনোদ রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে খুনের কথা কবুল করেছে। মা পুনমদেবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ