Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মিয়াপুর রেলওভার ব্রিজের রাস্তা বেহাল

মিয়াপুর রেলওভার ব্রিজের রাস্তা বেহাল
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: মাসখানেক আগেই মিয়াপুর রেল ওভারব্রিজের সংস্কার কাজ হয়। তারপর থেকেই বেহাল হয়ে পড়েছে রাস্তা। রাস্তায় ছোট বড় গর্ত হয়েছে। ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে সমস্যায় পড়ছেন পথ চলতি মানুষ থেকে যানবাহন চালকরা। গত কয়েকদিন লাগাতার বৃষ্টিতে রাস্তার গর্তে জল জমে গিয়ে আরও সমস্যার সৃষ্টি করছে। প্রায়শই টোটো, অটো ও অন্যান্য যান উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। ব্রিজের অধিকাংশ আলোও অকেজো হয়ে পড়ায় সন্ধ্যা নামতেই অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। ব্রিজের রাস্তা সংস্কার ও নতুন আলো লাগানোর দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা। 
Advertisement
জঙ্গিপুর পূর্তদপ্তরের সহকারী ইঞ্জিনিয়ার রাজদীপ সাহা বলেন, ব্রিজের রাস্তা সংস্কারের কাজ রেলদপ্তরের এক্তিয়ারে পড়ে। ব্রিজের সংস্কারের কাজ চলাকালীনই রেলদপ্তরকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। জঙ্গিপুর রোড স্টেশনের সুপারিন্টেন্ডেন্ট বিকে ভার্মা বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।
জঙ্গিপুর-লালগোলা রাজ্য সড়ক এবং ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক যাওয়ার সংযোগকারী একমাত্র মাধ্যম জঙ্গিপুরের মিয়াপুর রেল ওভারব্রিজ। এই ব্রিজের উপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। অথচ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ত ব্রিজের রাস্তার বহু জায়গায় গর্ত হয়ে জল জমছে। তাতে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে। বিজের মাঝামাঝি জায়গায় কংক্রিটের ঢালাই উঠে গিয়ে লোহার রড বেরিয়ে পড়েছে। কিছুদিন আগে ব্রিজের একাংশ সংস্কার করা হলেও অল্পদিনের মধ্যেই আবার গর্ত হয়ে গিয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। সাবধানে খানাখন্দ সামলে ব্রিজ পেরতে পাঁচ মিনিটের জায়গায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগছে। কার্যত গোটা ব্রিজ যানজটে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে। যানজটে আটকে পড়ছে অ্যাম্বুলেন্স সহ জরুরি পরিষেবার গাড়িও। উল্লেখ্য, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা থেকে ২০১৪ সালে এই রেল ওভারব্রিজের উদ্বোধন করেন। ফলে জঙ্গিপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়। তবে এই রাস্তা খারাপে দিন দিন দুর্ভোগ বাড়ছে। টোটো চালক সফিউল শেখ বলেন, যাত্রী নিয়ে সাবধানে চালাতে হচ্ছে। একটু এদিক ওদিক হলেই উল্টে যাচ্ছে। ব্রিজ দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না। এই ব্রিজ উদ্বোধনের পর কিছুদিন আলোগুলো জ্বলেছিল। তার পর কয়েকবছর আর আলো জ্বলেনি। সম্প্রতি সোলার লাইট লাগানো হলেও অধিকাংশই খারাপ হয়ে গিয়েছে কিংবা টিমটিম করে জ্বলছে। ব্রিজের দু’পাশে কোনও ফুটব্রিজ নেই। তাই মূল ব্রিজের মধ্যে দিয়েই মানুষজন চলাচল করে। সন্ধ্যা নামলেই সমস্যায় পড়ছেন পথচারীরা।
 এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ সরকার বলেন, এই সেতু পেরিয়েই রোজ কাজে যেতে হয়। সেতুর অবস্থা দিনদিন খারাপ হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কথা ভেবে কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে এটি মেরামত করা দরকার। আর এক যাত্রী বলেন, কিছু করার নেই, সাবধানে পার হই।
সম্পর্কিত সংবাদ