সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: ‘জমির দালাল হইতে সাবধান। প্রতারকের পাল্লায় পড়বেন না। জমি কিনে ঠকবেন না।’—এমন হোর্ডিংয়ে ছেয়ে গিয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র মায়াপুরের সর্বত্রই। কিন্তু, কেন এই সতর্কবার্তা? ইসকন সূত্রে জানা গিয়েছে, আমেরিকার আটলান্টায় থাকেন নিতাই দাস। তিনি ইসকন থেকেই দীক্ষাগ্রহণ করেছন। পরে তিনি আমেরিকার নাগরিকত্ব নেন। গাড়ি চালিয়ে কিছু টাকা সঞ্চয় করেছিলেন। ইচ্ছা ছিল, শেষ বয়সে মায়াপুরে থাকবেন। ২০২২ সালে মায়াপুর মোল্লাপাড়ায় দালাল মারফত ৪ লক্ষ টাকা কাঠা দরে ৫ কাঠা জমি কেনেন। কিছুদিন পর নিতাইবাবু জানতে পারেন, তাঁর কেনা জমিটি আগেও একবার স্থানীয় একজনের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র ছিল জাল। জমি রেজিস্ট্রি এবং বাড়ি তৈরির ইমারতি দ্রব্যের জন্য আরও দু’লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল দালালরা। গোটা বিষয়টি তিনি ইসকনের ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টকে জানান।
Advertisement
একইভাবে প্রতারণার জালে জড়িয়েছিলেন আর এক গুজরাতি ভক্ত। তাঁর নাম বৈষ্ণব প্যাটেল। চার বছর আগে রাজাপুরে এক বিঘা জমি কিনেছিলেন। পরে দেখা যায় ওই জমির দলিল থেকে শুরু করে সমস্ত কাগজই জাল। প্রতারিত হয়েছেন শ্রীধাম ওরফে হরি দাস নামে এক তামিল ভক্ত। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। তিনিও রাজাপুরে দালাল মারফত জমি কিনে ডাহা ঠকেছেন।
মায়াপুর যাওয়ার প্রবেশ পথে হুলোর ঘাট থেকে মায়াপুরের প্রধান রাস্তা পেরিয়ে কিছু দূর অন্তর সচেতনতামূলক হোর্ডিংগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মায়াপুর–বামুনপুকুর ১ ও ২ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকাজুড়েও রয়েছে এই হোর্ডিং। বেশ কিছু জায়গায় বাংলা লেখার পাশাপাশি ইংরেজিতেও লেখা রয়েছে সাবধানবাণী। মায়াপুর ইসকন মন্দিরের কো-ডিরেক্টর অক্ষয় রামচন্দ্র দাস বলেন, ‘অনেকেই শেষ বয়সে সঞ্চিত অর্থ দিয়ে চৈতন্য মহাপ্রভুর স্মৃতি বিজড়িত স্থান মায়াপুরে থাকতে চান। কিন্তু এই সব ভক্তরা একশ্রেণির দালাল চক্রের পাল্লায় পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন। সেই সব দালালরা জাল দলিল দিয়ে জমি বিক্রি করছেন। পরবর্তীতে সেই ভক্তরা বাড়ি করতে গিয়ে দেখতে পাচ্ছেন, তাদের সেই জমির সমস্ত কিছুই জাল। মায়াপুর-বামুনপুকুর এক এবং দু’নম্বর পঞ্চায়েত এলাকাজুড়ে চলছে জমি প্রতারণার রমারমা কারবার। ভক্তদের সচেতন করতে মায়াপুরজুড়ে প্রায় ২০০টি হোর্ডিং লাগানো হয়েছে।’
সিপিএমের নবদ্বীপ পূর্ব এরিয়া কমিটির সম্পাদক তথা নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা আয়েব নবি শেখ বলেন, ‘যাঁর জমি সরাসরি তাঁর সঙ্গে কথা বলাই ভালো। মালিকের সঙ্গে কথা বলেই এগ্রিমেন্ট করা উচিত।’ মায়াপুর-বামুনপুকুর–১ নম্বর পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা তৃণমূলের আব্দুল মুন্নাফ আলি বলেন, ‘খুবই নিন্দনীয় কাজ। মায়াপুরের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। জমি জালিয়াতির কাজে জড়িতরা যে রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন কঠোর শাস্তি হোক।’
নবদ্বীপ ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক নবীনকুমার গৌতম বলেন, ‘মায়াপুরে যাঁরা বাইরের লোক আসছেন, তাঁরা অনেকক্ষেত্রে এখানকার ভাষা বুঝতে পারছেন না। তাতেই বিপত্তি দেখা দিচ্ছে। আমরা জনসহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে সচেতনতা করছি। প্রতারণার অভিযোগ পেলে পুলিসে মামলা হচ্ছে। আমাদের তরফে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে।’
মায়াপুর যাওয়ার প্রবেশ পথে হুলোর ঘাট থেকে মায়াপুরের প্রধান রাস্তা পেরিয়ে কিছু দূর অন্তর সচেতনতামূলক হোর্ডিংগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মায়াপুর–বামুনপুকুর ১ ও ২ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকাজুড়েও রয়েছে এই হোর্ডিং। বেশ কিছু জায়গায় বাংলা লেখার পাশাপাশি ইংরেজিতেও লেখা রয়েছে সাবধানবাণী। মায়াপুর ইসকন মন্দিরের কো-ডিরেক্টর অক্ষয় রামচন্দ্র দাস বলেন, ‘অনেকেই শেষ বয়সে সঞ্চিত অর্থ দিয়ে চৈতন্য মহাপ্রভুর স্মৃতি বিজড়িত স্থান মায়াপুরে থাকতে চান। কিন্তু এই সব ভক্তরা একশ্রেণির দালাল চক্রের পাল্লায় পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন। সেই সব দালালরা জাল দলিল দিয়ে জমি বিক্রি করছেন। পরবর্তীতে সেই ভক্তরা বাড়ি করতে গিয়ে দেখতে পাচ্ছেন, তাদের সেই জমির সমস্ত কিছুই জাল। মায়াপুর-বামুনপুকুর এক এবং দু’নম্বর পঞ্চায়েত এলাকাজুড়ে চলছে জমি প্রতারণার রমারমা কারবার। ভক্তদের সচেতন করতে মায়াপুরজুড়ে প্রায় ২০০টি হোর্ডিং লাগানো হয়েছে।’
সিপিএমের নবদ্বীপ পূর্ব এরিয়া কমিটির সম্পাদক তথা নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা আয়েব নবি শেখ বলেন, ‘যাঁর জমি সরাসরি তাঁর সঙ্গে কথা বলাই ভালো। মালিকের সঙ্গে কথা বলেই এগ্রিমেন্ট করা উচিত।’ মায়াপুর-বামুনপুকুর–১ নম্বর পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা তৃণমূলের আব্দুল মুন্নাফ আলি বলেন, ‘খুবই নিন্দনীয় কাজ। মায়াপুরের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। জমি জালিয়াতির কাজে জড়িতরা যে রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন কঠোর শাস্তি হোক।’
নবদ্বীপ ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক নবীনকুমার গৌতম বলেন, ‘মায়াপুরে যাঁরা বাইরের লোক আসছেন, তাঁরা অনেকক্ষেত্রে এখানকার ভাষা বুঝতে পারছেন না। তাতেই বিপত্তি দেখা দিচ্ছে। আমরা জনসহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে সচেতনতা করছি। প্রতারণার অভিযোগ পেলে পুলিসে মামলা হচ্ছে। আমাদের তরফে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে।’



