Bartaman Logo
১১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

হ্রদ কথা

ভারতের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য হ্রদ। তেমনই কিছু বিখ্যাত হ্রদের কথা তুলে ধরলেনকালীপদ চক্রবর্তী

হ্রদ কথা
  • ৩১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভারতের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য হ্রদ। তেমনই কিছু বিখ্যাত হ্রদের কথা তুলে ধরলেন কালীপদ চক্রবর্তী

Advertisement

ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা তো জানো যে হ্রদ কাকে বলে। এই হ্রদগুলো হল কোনওটি প্রাকৃতিক আবার কোনওটি কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট। বিভিন্ন ধরনের হ্রদ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে। কখনও মহাদেশীয় ও মহাসাগরীয় প্লেটের সংঘর্ষের ফলে ভূমিকম্পের জেরে কোনও স্থান নিচু হয়ে জল জমলে হ্রদ সৃষ্টি হতে পারে। আবার ভূপ্রাকৃতিক গঠনের জেরে কোনও নিচু স্থানে হিমবাহ গলা জল জমেও হ্রদ বা লেকের সৃষ্টি হয়। প্রাকৃতিক কারণ ছাড়াও কৃত্রিমভাবেও তৈরি হতে পারে হ্রদ। কখনও কখনও মানুষের প্রয়োজনে বিশাল জলাধার তৈরি করা হয়। সেইসব লেককে কেন্দ্র করে পর্যটকস্থলও গড়ে ওঠে। ভারতের কিছু বিখ্যাত হ্রদের খোঁজখবর নেওয়া যাক।
তোমরা যারা কাশ্মীরে বেড়াতে গেছ, তারা নিশ্চয়ই উলার হ্রদ দেখেছ। কাশ্মীরের বান্দিপোরা জেলায় রয়েছে এই উলার হ্রদ। ঝিলম নদীর জলই এর উত্স। পাহাড় ও চিনার গাছে ঘেরা এই হ্রদ কাশ্মীরের অন্যতম আকর্ষণ শুধু নয়, গুরুত্বপূর্ণ জলপথও বটে। এছাড়াও কাশ্মীরের বিখ্যাত হ্রদ ডাল লেক। যা শ্রীনগরে অবস্থিত।
মণিপুরে আছে লোকটাক হ্রদ। মণিপুরের ময়রাংয়ের কাছে প্রকৃতির অনন্য সৃষ্টি এই লোকটাক  হ্রদ। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল হ্রদের জলে ভাসমান ভূখণ্ড। লোকটাকের উপরের কেইবুল লামজাও ন্যাশনাল পার্ক বিশ্বের একমাত্র ভাসমান জাতীয় উদ্যান। এখানে খেলা করে বেড়ায় বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ। সেখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখিও।
মধ্যপ্রদেশে আছে ভোজতাল লেক। মধ্যপ্রদেশের ভোপালে ভোজতাল হ্রদ ‘আপার লেক’ নামে বেশি পরিচিত। এই হ্রদ শহরবাসীর পানীয় জলের অন্যতম উত্স। ভোজতালের উত্পত্তি নিয়ে একটি পৌরাণিক গল্পও রয়েছে। রাজা ভোজের একবার চর্মরোগ হয়। বড় বড় বৈদ্যরাও যখন রাজার অসুখ সারাতে পারছিলেন না, তখন এক সন্ন্যাসী এসে রাজাকে বলেন একটি জলাশয় খনন করতে। সেই জলে স্নান করলে রাজার রোগমুক্তি হবে। সন্ন্যাসীর কথাতেই নাকি এই জলাশয় খনন শুরু হয়। পরবর্তীতে এর নাম হয় ভোজতাল। ‘তাল’ শব্দের অর্থ হ্রদ। রাজা ভোজের একটি পাথরের মূর্তিও আছে এই হ্রদের মধ্যে।
ভারতের বৃহত্তম নোনা জলের হ্রদের নাম কি তোমরা জানো? সেটি হল সম্ভর সল্ট লেক। জয়পুর থেকে ৯৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে হ্রদটি অবস্থিত। বর্ষাকালে হ্রদে জলের গভীরতা থাকে ১০ ফুটের মতো। আর গরমকালে এক হাঁটুরও কম। মহাভারতেও সম্ভর হ্রদের 
উল্লেখ পাওয়া যায়। হ্রদটি দেখতে অনেকটা বাটির মতো।
গুরুদোংমার হ্রদটি হিমালয়ের কোলে অবস্থিত। উত্তর সিকিমে ১৭ হাজার ৮০০ ফুট উচ্চতায় এক অপূর্ব সুন্দর স্বচ্ছজলের হ্রদ আছে। সেটির নামই গুরুদোংমার। এর পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে চীন সীমান্ত। লাচেন থেকে যেতে হয় গুরুদোংমার। নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত বরফে ঢাকা থাকে ওই অঞ্চল। আর ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে হ্রদের জল জমে বরফ হয়ে যায়।
হিমাচল প্রদেশে রয়েছে চন্দ্রতাল হ্রদ। ১৪ হাজার ১০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত চন্দ্রতাল অদ্ভুত সুন্দর। ট্রেকার্সদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় এই হ্রদ। হিমাচল প্রদেশের লাহুল ও স্পিতি জেলায় রয়েছে পাহাড় ঘেরা হ্রদটি। এটি স্পিতি উপত্যকায় অবস্থিত। কুঞ্জুম পাস থেকে হেঁটে যাওয়া যায় চন্দ্রতাল। অক্টোবর থেকে মে পর্যন্ত বরফে ঢেকে থাকে এই হ্রদটি। এমনকী চন্দ্রতালের রাস্তাও বরফে ঢেকে যায়।
লাদাখে আছে সমোরিরি হ্রদ। লাদাখে ১৪ হাজার ৮৩৬ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত সুবিশাল হ্রদটি সমোরির নামে পরিচিত। বরফ গলা জলেই হ্রদটি পুষ্ট। হ্রদের উত্তর ও দক্ষিণে রয়েছে দু’টি ঝর্ণা। হিমালয়ের বরফ গলে ওই দু’টি ঝর্ণা তৈরি হয়েছে। ওই ঝর্ণা দু’টি সমোরিরি জলের উৎস। অপূর্ব সুন্দর 
এই হ্রদ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ