Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাফিয়াদের দাপট অব্যাহত, সাতটি বৈধ খাদান চালু সত্ত্বেও দেদারে বালি পাচার

মাফিয়াদের দাপট অব্যাহত, সাতটি বৈধ খাদান চালু সত্ত্বেও দেদারে বালি পাচার
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: বালি মাফিয়াদের দাপট অব্যাহত! শিলিগুড়ি মহকুমায় একাধিক খাদান চালু হলেও বেপরোয়াভাবে বালি পাচার চলছে। অভিযোগ, বৈধ খাদানের আড়ালেই চলছে অবৈধ কারবার। রাতভর ডাম্পারে বালি পাচার হচ্ছে। এনিয়ে বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তাঁরা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, বালি পাচার রুখতে তাঁরা সতর্ক রয়েছেন।
Advertisement
দীর্ঘদিন মহকুমায় বৈধ বালি খাদান ছিল না। কয়েক মাসের মধ্যে মহকুমার চারটি ব্লকে সাতটি বালি খাদানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও অবৈধ খনন বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে মাটিগাড়া ব্লকের শিসাবাড়ি ও তারাবাড়িতে বালাসন নদী থেকে দেদার লুট হচ্ছে বালি। গ্রামবাসীদের একাংশ বলেন, সারাদিন যেমন-তেমনভাবে চললেও রাত হলে শুরু হয় বালি পাচার। নদীর ঘাট থেকে একের পর এক বালিবোঝাই ডাম্পার গ্রামের রাস্তা দিয়ে ছোটে। তাঁদের অভিযোগ, এ ব্যাপারে প্রশাসনের ভ্রুক্ষেপই নেই। এজন্যই গ্রামে বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।
সংশ্লিষ্ট দু’টি গ্রাম আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে। তৃণমূল যুব কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি বাপি রায় বলেন, নিয়ম অনুসারে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নদীর ঘাট চালু থাকার কথা। অর্থাৎ, নির্ধারিত ওই সময়ের মধ্যে ঘাট থেকে বালি বোঝাই লরি, ডাম্পার চলবে। কিন্তু, সন্ধ্যার পর ঘাট থেকে বালি বোঝাই ডাম্পার চলার নিয়ম নেই। তা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট দু’টি গ্রামে রাতভর বালি বোঝাই ডাম্পার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে বৈধ খাদানের আড়ালেই চলছে অবৈধ কর্মকাণ্ড। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ডাম্পারে অতিরিক্ত বালি বোঝাই করা হচ্ছে। এতে যেমন সরকারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তেমনই সরকারের ভাবমূর্তিও নষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর, পুলিস ও ব্লক প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান যুথিকা রায়খাসনবিশ অবশ্য বলেন, গ্রামবাসীদের কাছ থেকে এধরনের কোনও অভিযোগ এখনও পাইনি। তা পেলে ব্লক প্রশাসনকে বিস্তারিতভাবে জানাব। শিলিগুড়ি মহকুমা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক টিনা ডুকপা বলেন, মাটিগাড়ার ওই দু’টি এলাকা থেকে বালি পাচারের কোনও অভিযোগ পাইনি। এ ব্যাপারে খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাটিগাড়ার পাশাপাশি নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়ায় নদী থেকে বালি ও পাথর পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, অধিকাংশ নদীতে এখন জল নেই বললেই চলে। এই অবস্থায় নদীর চরে নামানো হচ্ছে ডাম্পার ও ট্রাক্টর। অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে নদীর চর খনন করে বালি ও পাথর তুলে পাচার হচ্ছে। খড়িবাড়ির ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক প্রতিমা সুব্বা অবশ্য বলেন, বালি ও পাথর পাচারের বিরুদ্ধে সতর্ক রয়েছি। ব্লক দু’টি বৈধ ঘাট রয়েছে। নিয়মিত সেগুলিতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ