সংবাদদাতা, লালবাগ: ঈদের আগে মোতিঝিল পার্ককে(প্রকৃতি তীর্থ) আলোয় মুড়ে ফেলা হচ্ছে। প্রবেশ গেট থেকে পার্কজুড়ে বাতিস্তম্ভ বসানোর কাজ জোরকদমে চলছে। সোলার ও বৈদ্যুতিক মিলিয়ে তিন শতাধিক বাতিস্তম্ভ বসানো হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে ঈদের আগে পর্যটকরা আলোয় ঝলমলে পার্ক উপহার পেতে চলেছেন বলে দাবি পার্ক কর্তৃপক্ষের। তবে পর্যাপ্ত আলোর দাবি মিটলেও পার্কের মূল আকর্ষণ লাইট অ্যান্ড সাউন্ড গত কয়েক বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। জেলা পর্যটন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, মাস দেড়েক আগে পার্কে নতুন বাতিস্তম্ভ বসানোর কাজ শুরু হয়। শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। ঈদের উপহার হিসেবে পর্যটকরা সবুজ প্রকৃতির কোলে আলোয় ঝলমলে মোতিঝিল উপহার পাবেন। লাইট অ্যান্ড সাউন্ড চালুর প্রক্রিয়া চলছে। আশা করি খুব শীঘ্রই চালু হবে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প মোতিঝিল পার্ক বা প্রকৃতি তীর্থ। ৩৫০ বিঘা এলাকা নিয়ে ২০১৩ সালে ফ্যামিলি পার্ক হিসেবে পথচলা শুরু হয় মোতিঝিলের। শুধু পর্যটন মরশুম নয়, পর্যটকরা সারা বছর এই পার্কে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন। সাবেক নবাবি মুলুকের দর্শনীয় স্থানটি সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। কাজেই পর্যটকরা দিনভর হাজারদুয়ারি সহ অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলি দেখে বিকেলে এখানে আসেন। কিন্তু, পার্কের বেশিরভাগ লাইট অকেজো হয়ে পড়ে থাকার কারণে সন্ধ্যা নামতেই বেশিরভাগ এলাকা অন্ধকারে ডুবে যেত। কাজেই পর্যটকদের একাংশ মোতিঝিল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। আবার এলেও সন্ধ্যার আগেই ফিরে যেত।
স্থানীয় এক ফাস্টফুড ব্যবসায়ী বলেন, পার্কে পর্যাপ্ত আলো না থাকার কারণে পর্যটকের সংখ্যা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। ফলে রুজিরোজগারে টান পড়েছিল। পার্কে আলো বসছে। ফলে ঈদে প্রচুর পর্যটক সমাগম হবে বলে আশা করছি। লালবাগের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক সমরেশ পাল বলেন, মোতিঝিল জেলাবাসীর গর্ব। সন্ধ্যায় পার্কজুড়ে আলো জ্বলে উঠতেই এক অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটে উঠত। সেই সৌন্দর্যের টানে শুধু পর্যটকরাই নয়, সবুজের পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে স্থানীয়রাও মাঝে মধ্যে পরিবার নিয়ে পার্কে ছুটে আসতেন। বেশিরভাগ বাতি অকেজো হয়ে পড়ায় পর্যটকদের কাছে মোতিঝিলের আকর্ষণ হারাতে বসেছিল।
মোতিঝিলের কর্মী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে দিন কয়েক পার্কে মানুষের ঢল নামে। ঈদ ও পরের দিন সংখ্যাটা প্রায় ৫০ হাজারে পৌঁছে যেত। বেশিরভাগ লাইট খারাপ হয়ে পড়ে থাকায় গত বছর পর্যটক সংখ্যা অনেকটাই কম ছিল। ঈদের আগে পার্ককে আলোয় মুড়ে দেওয়ায় কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।
মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ অ্যান্ড কালচারাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, মুর্শিদাবাদে পর্যটক মূলত হাজারদুয়ারি ও মোতিঝিল কেন্দ্রিক। মোতিঝিল আবার সেজে উঠলে পর্যটকদের ঢল নামবে। সেই সঙ্গে জেলার পর্যটন চাঙ্গা হবে।