সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: পার্কের চারিদিক ঢেকেছে আগাছায়। শিশুদের মনোরঞ্জনের জন্য বসানো বিভিন্ন পশু পাখির মডেলও ঢাকা পড়েছে জঙ্গলে। পার্কের ভিতরে থাকা বাতিস্তম্ভগুলিও ভাঙাচোরা। এককথায় বাগনান ২ নং ব্লকের আন্টিলা ও বাঁটুল বৈদ্যনাথপুর এবং চন্দ্রভাগ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গড়ে ওঠা মা-মাটি-মানুষ উদ্যানের অবস্থা বেহাল। যদিও বাগনানের বিধায়ক অরুণাভ সেনের আশা, একশো দিনের কাজ শুরু হলেই এই উদ্যান আবার স্বমহিমায় ফিরবে। পর্যটকদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠবে উদ্যান।
বাগনান ২ নং ব্লকের ভিতর দিয়ে যাওয়া মেদিনীপুর ক্যানাল সংস্কারের অভাবে প্রায় বুজে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে খালটি সংস্কারের পাশাপাশি খালের দুইপাড় সৌন্দর্যায়নের উদ্যোগ নেন বাগনানের বিধায়ক অরুণাভ সেন। ২০১৭ সালে খালটি সংস্কারের পাশাপাশি আন্টিলা ব্রিজের দু’পাড়ের ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকা জুড়ে পার্ক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে পার্কটি নির্মাণ করা হয়। নামকরণ করা হয় মা-মাটি-মানুষ শিশু উদ্যান। উদ্যানে শিশুদের মনোরঞ্জনের পাশাপাশি বয়স্কদের জন্য একাধিক ব্যবস্থা করা হয়। শিশুদের জন্য বিভিন্ন খেলার সামগ্রী বসানো ছাড়াও পশু পাখির মডেল বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়। মেদিনীপুর ক্যানালের পাশে রাস্তা নির্মাণ ছাড়াও বসার ব্যবস্থা করা হয়। পর্যটকদের রাত্রিবাসের জন্য কটেজ নির্মাণ ছাড়াও নৌকা বিহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। উদ্বোধনের পর শিশুদের কোলাহলে ভরে উঠেছিল এই উদ্যান। যদিও সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে উদ্যানটি বেহাল হয়ে পড়ে। আর এখন উদ্যানটি জঙ্গলে ঢাকা পড়ে গিয়েছে। অবিলম্বে উদ্যানটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়েছেন বাসিন্দারা। উদ্যানটি বেহাল অবস্থায় থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন বিধায়ক অরুণাভ সেন।
যদিও তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার একশো দিনের কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, গ্রাম পঞ্চায়েতের সেই আর্থিক ক্ষমতা নেই যা দিয়ে এই বিশাল এলাকা জুড়ে থাকা উদ্যান সংস্কার করা যাবে। তবে একশো দিনের কাজ আবার শুরু হলে ভালো হয়। অন্যদিকে, বাগনানের এই মা-মাটি-মানুষ উদ্যানটিকে সার্কিট ট্যুরিজমের আওতায় আনা হবে বলে জানান হাওড়া জেলা পরিষদের বন ভূমি কর্মাধ্যক্ষ মানস বসু।