নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্থায়ী কোনও উপার্জন ছিল না। তাই পারিবারিক সম্পত্তি বিক্রি ও ভাড়ার টাকায় সংসার চালাতেন বেলেঘাটার বৃদ্ধা নন্দিতা বসু। এদিকে, তাঁর ছেলে বেকার হলেও খরচের হাত বেশ লম্বা! তাই সব টাকা নিজের কাছে রাখতেন নন্দিতাদেবী। মাঝেমধ্যে মায়ের কাছে টাকা চাইত ছেলে। টাকা না দিলেই চলত মারধর। শুক্রবার রাতেও অসুস্থ মায়ের কাছে সে ৩ হাজার টাকা চেয়েছিল। টাকা দিতে রাজি হননি বৃদ্ধা। তারপরই নন্দিতাদেবীকে এলোপাথাড়ি চড়-ঘুসি মারতে শুরু করে ছেলে মৈনাক বসু। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে মৃত্যু হয় তাঁর। বেলেঘাটার কবি সুকান্ত সরণির এই ঘটনার তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল পুলিস। রবিবার ধৃত মৈনাককে শিয়ালদহ আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক তাকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
শনিবার সকালে বাড়ির পরিচারিকা এসে নন্দিতাদেবীকে বিছানার উপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছয় বেলেঘাটা থানার পুলিস। আটক করা হয় মৈনাককে। পুলিসের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই মৈনাক স্বীকার করে, শুক্রবার রাতে মাকে সে বেধড়ক মারধর করেছে। কিন্তু কেন মারধর, তা তখনই খোলসা করেনি বছর ৩৫-এর মৈনাক। এন আর এস হাসপাতাল বৃদ্ধাকে মৃত বলে ঘোষণা করলে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করে বেলেঘাটা থানা। কিন্তু অনিচ্ছাকৃত কেন? পুলিসের দাবি, মৈনাক মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। তাঁর চিকিৎসা চলছে। প্রাথমিক জেরায় সে পুলিসকে জানায়, মাকে খুনের উদ্দেশ্য ছিল না তার। নেপথ্যে কোনও বদ মতলব ছিল না বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পারে পুলিস। পরবর্তী সময়ে ধৃতকে জেরায় তদন্ত নয়া মোড় নেয়। শুক্রবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদে পুলিস জানতে পারে, গাড়ি কিনে অ্যাপ ক্যাবে খাটাতে শুরু করেছিল মৈনাক। সেই ব্যবসা ভেস্তে গেলে অ্যাপ নির্ভর সংস্থায় ফুড ডেলিভারির কাজ শুরু করে। কিন্তু বেহিসেবি খরচের বহরে অভাব যাচ্ছিল না। সেই কাজও চলে যায়। তখন পারিবারিক সম্পত্তি ও মায়ের টাকা নিতে শুরু করে মৈনাক। পুলিসের দাবি, রাতে ওই ঘরের মধ্যে মাঝেমধ্যেই গানবাজনা চলত। ঘটনার দিনও রাত সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় ঘণ্টাখানেক খুব জোরে গান শোনা গিয়েছে নন্দিতাদেবীর ঘর থেকে। আর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, মৃত্যুর সময় রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে। তাহলে কি মারধর ও আর্তনাদের শব্দ যাতে বাইরে না যায়, তার জন্য মৈনাক জোরে জোরে গান বাজাচ্ছিল? উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। তবে টাকার জন্যই যে খুন, তা নিয়ে কার্যত নিশ্চিত তাঁরা। তাহলে কি এখন ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫ (অনিচ্ছাকৃত খুন) ধারার বদলে ১০৩ (১) (খুন) ধারায় মামলা রুজু হবে? এ বিষয়ে এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলতে নারাজ লালবাজার। পুলিস জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে।