সংবাদদাতা, আরামবাগ: আমার ছেলেটাকে কেউ দেখেছেন। দেখুন এই ওর ছবি...। প্রায় আলুথালু বেশে এক মহিলা সজল চোখে নিজের সন্তানের ছবি হাতে নিয়ে পথচলতি মানুষকে একথা জিজ্ঞাসা করছেন। শনিবার আরামবাগ শহরের রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, কালীপুরে দিনভর এমনই দৃশ্যের সাক্ষী রইল আরামবাগ শহরবাসী। পথচারীদের ছেলের ছবি দেখিয়ে তাঁকে চিহ্নিত করার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন খানাকুল থানা এলাকার ঘোড়াদহ গ্রামের অর্চনা পোড়ে। এদিন খানাকুল থানার এক আধিকারিক বলেন, ওই যুবক নিখোঁজের ডায়েরি হয়েছে। খোঁজ চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অর্চনাদেবীর স্বামী অজয় পোড়ে পেশায় কৃষক। অর্চনাদেবীর এক ছেলে ও দুই মেয়ে। দুই মেয়ের আগেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলে অমিত পোড়ে অবিবাহিত। বছর ছয় আগে অমিত মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আরামবাগে মানসিক চিকিৎসা চলছিল অমিতের। এই কৃষক পরিবারটির আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো না হওয়ায় মাঝেমধ্যে ওষুধ বন্ধ হয়ে গেলে অমিত আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়তেন। গত ১০ আগস্ট অমিত বাড়ি থেকে বিড়ি কিনতে যাচ্ছি বলে বেরিয়ে যান। তাঁর পরনে ছিল লুঙ্গি ও ঘিয়া রঙের গেঞ্জি। গলায় ছিল গামছা। ওই যুবকের ডান হাতে অমিত নাম লেখা রয়েছে। অর্চনাদেবী ছেলে ফিরে আসবে ভেবে ঘরেই ছিলেন। কিন্তু ওইদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত অমিত না আসায় অর্চনাদেবী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ছেলের খোঁজ শুরু করেন। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অমিত বাড়ি ফিরে না আসায় অর্চনাদেবী খানাকুল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। কিন্তু তাতেও ছেলেকে খুঁজে পাননি। তাই মা হয়ে সন্তানকে না দেখে ঘরে বসে থাকতে পারেননি অর্চনাদেবী। হাতে ছেলের ছবি নিয়ে নিজেই খানাকুলের রাস্তায়, রাস্তায় খোঁজ শুরু করেন। অর্চনাদেবী বলেন, মেয়েদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। অমিত ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই। কিছু বিপদ হয়ে গেল না কি, সেই ভয়ে কাঁটা হয়ে রয়েছি।



