Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গুড়াপের বারুলে গোরেনের মা: চারবার চুরি যায় কালীমূর্তি, অলৌকিকভাবে উদ্ধার

গুড়াপের বারুল গ্রামে চারবার চুরি গিয়েছিল কালীমূর্তি। চারবারই আশপাশের কোনও দিঘি বা পুকুর থেকে উদ্ধার হয়। প্রায় ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পুজো হচ্ছে।

গুড়াপের বারুলে গোরেনের মা: চারবার চুরি যায় কালীমূর্তি, অলৌকিকভাবে উদ্ধার
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: গুড়াপের বারুল গ্রামে চারবার চুরি গিয়েছিল কালীমূর্তি। চারবারই আশপাশের কোনও দিঘি বা পুকুর থেকে উদ্ধার হয়। প্রায় ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পুজো হচ্ছে। মন্দিরের পাশে রয়েছে গোরেন নামে একটি পুকুর। একবার সেখান থেকে ১২ ইঞ্চির ধাতব মূর্তিটি পাওয়া গিয়েছিল। তখন থেকে কালীর নাম হয় গোরেনের মা। এছাড়াও প্রতিষ্ঠিত দেবী মা ভবতারিণী।

Advertisement

মন্দির কমিটির সদস্য হিমাংশু চক্রবর্তী জানান, দেবী ভবতারিণী ও গোরেন পুকুর থেকে পাওয়া দেবী একই সঙ্গে পুজো হয়। চারবার এই মূর্তি চুরি গিয়েছিল। আশপাশের পুকুর থেকে বারবার দেবীকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। জাগ্রত দেবীর অলৌকিক ঘটনা সকলে দর্শন করেছেন। আমিও নিজে চোখে দেখেছি শিশুরূপে অপূর্ব জ্যোতি ও অলংকারে মোরা দেবী ঘুরে বেড়াচ্ছেন মন্দিরে। শয়ন আরতির পরে কোনওদিন আলো জ্বালিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি মন্দিরের ভিতর। আলো জ্বালানো থাকলে অলৌকিকভাবে কখনো ভেঙে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। কখনও নষ্ট হয়ে গিয়েছে আলো। নিশুতি রাতে আজও শোনা যায় নূপুরের আওয়াজ। ১২ ইঞ্চির ধাতুর ছোট মূর্তি। তার সঙ্গে মন্দির পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর পুজো হয় কষ্টিপাথরে তৈরি ভবতারিণীর। জাগ্রত ঠাকুরের আশীর্বাদে বিবাহের ১৮ বছর পরও সন্তান লাভ করেছেন এমন ঘটনাও ঘটেছে। ‌ দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি পেয়েছে বহু মানুষ। 
মন্দিরের পাশে গোরেন পুকুর থেকে কোনও এক ব্রাহ্মণ দেবীকে কুড়িয়ে পান। পুকুরের পাশে ছোট কুঁড়েঘরে প্রতিষ্ঠা করেন। গ্রামের লোকজনই বংশ পরম্পরায় পুজো করছেন। ১৯৪৪ সালে দেবীর স্বপ্নাদেশে সোনাগাছির পতিতাপল্লি থেকে ছুটে এসেছিলেন ঊষা রানি নামে এক মহিলা‌। জীবনের সমস্ত সঞ্চয় একটি টিনের বাক্সে ভরে মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য দিয়ে গিয়েছিলেন। সে সময় মন্দির সেভাবে তৈরি হয়নি। চতুর্থবার মূর্তি চুরি যাওয়ার পর মন্দিরের পার্শ্ববর্তী অন্য একটি পুকুরের ঈশান কোণ থেকে মূর্তিকে খুঁজে পান শিবশংকর চক্রবর্তী। পরবর্তীকালে তাঁর ছেলে মতিলাল নতুন মন্দির নির্মাণ করেন। নতুন মন্দির প্রতিষ্ঠা হয় ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। এ মন্দির দেখতে দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের মতো। মন্দিরের মধ্যে রয়েছে রাধাগোবিন্দ, গ্রহরাজ ও শিব ও হনুমান মন্দির। মন্দির তৈরি করতে কোনও ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ হয়নি। দেবীর আশীর্বাদে ও দক্ষিণেশ্বর মন্দির কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় মন্দির তৈরি হয়েছিল। গুড়াপ ও বৈঁচি স্টেশন থেকে মন্দিরে আসা যায়। খোলা থাকে সকাল ন’টা থেকে দুপুর একটা ও বিকেল চারটে থেকে রাত আটটা পর্যন্ত। প্রতিবছর কালীপুজোয় কয়েক হাজার ভক্ত সমাগম হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ