মা আসছেন বছর ঘুরে
  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পুজো মানে প্রাণের টান

Advertisement

পুজো মানেই প্রাণের টান, প্রাণের সাড়া। প্রাণেরই আয়োজন। ঋতুর পালাবদল। নীল আকাশে পেঁজা মেঘের ভেলা, শুভ্র কাশফুলের দোলা এবং শিউলির সুমিষ্ট গন্ধ মেখে মৃদু-মন্দ-স্নিগ্ধ হাওয়ার খেলায় আপ্লুত হওয়া। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের কী ঐকান্তিক একাত্মতা! আমরা সকলে সমানভাবে আনন্দে মেতে শুভ সংস্কার স্থাপন করি। এমন শান্তিপ্রিয় সংস্কৃতির জনজোয়ারে দেখি মানবতার জাগরণ, নতুন আশার সঞ্চার, হৃদয়ের ছোঁয়া, মিলনমেলা। যেন আত্মিক মেলবন্ধন। মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বাজনা আর নানাবিধ অনুষ্ঠানের আমেজে উদাত্ত ছন্দে বাঁধভাঙা উল্লাস বন্ধন মুক্তির। অন্ধকার দূরীকরণের আলোকসজ্জা। আনন্দধারায় আত্মীয়ের আনাগোনায় সমাজ-পরিবার হয়ে ওঠে আনন্দ আশ্রম। পড়া, পরীক্ষার টেনশন ঝেড়ে ফেলে নতুন পোশাক পরে আমরা ঘুরি নিশ্চিন্ত মনে। মা-বাবার সঙ্গে প্রতিমা দর্শন করি, ঝলমলে প্যান্ডেলের সৌন্দর্য দেখি, উপভোগ করি পছন্দের খাবার খাওয়ার অনাবিল আনন্দ। শান্তিতে বাঁচতে বাঁচতে সুখের মুহূর্ত কাটাতে কাটাতে আমরা ভুলে যাই জীবনের শেষ দিন। বিজয়া দশমী তাই বিষাদময়। তবুও পুজো আমাদের বাঁচার প্রেরণা জোগায়। বলে, ‘জীবন তুমি কত সুন্দর, কত মধুর!’
—রাজদীপ সাঁই, 
একাদশ শ্রেণি

মা আসছেন প্রকৃতিতে স্নেহের পরশ

 শিউলির স্নিগ্ধ সুবাস, কাশফুলের দোলা আর নীল আকাশের মায়াবী হাসি জানান দেয় পুজো এসেছে। শরতের সোনালি প্রহরে বাংলার আকাশ বাতাস মেতে ওঠে উৎসবের উচ্ছ্বাসে। ঢাকের বাদ্যি, ধূপের গন্ধ আর আলোর রোশনাইয়ে চারপাশ হয়ে ওঠে স্বপ্নপুরী। নতুন পোশাকে সেজে ছোটো-বড়ো সকলেই ছুটে চলে মণ্ডপ থেকে মণ্ডপে। অঞ্জলির পবিত্রতা, প্রসাদের মিষ্টতা এবং আপনজনের সান্নিধ্য পুজোর আনন্দকে করে তোলে অপার। এই কয়েকটি দিন যেন ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। পুজো শুধু দেবীর আরাধনা নয়— এটি মিলনের মহোৎসব, প্রীতির উৎসব, বাঙালির হৃদয়ের উৎসব। বিসর্জনের বিষণ্ণ সুরে তাই আনন্দের মাঝে জেগে থাকে আগামী বছরের প্রতীক্ষা।
—শান্তনু দাস, 
সপ্তম শ্রেণি
পুজোর বাহার

ভাবছি। স্রোতে ভাসছে মানুষ। সময় স্রোত। সময় সমুদ্রে কারও নৌকার পাল ছিঁড়েছে, কারও হাল ভেঙেছে, কেউ হালে পানি পেয়েছে, কেউ কেউ তরতরিয়ে ছুটছে। ‘পুজো’ এসেছে, কিন্তু ‘পূজা’ কই? ভক্তি না এলে কি পুজো প্রাণ পায়? আবার গান হৃদয় হরণ করে। পুজোর গান হোক না মানব মনের। সম্প্রীতি-সৌহার্দ্যের। সম্মিলিত হোক ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সংস্কার। দেবীর কৃপায় ঘুচে যাক সমস্ত দ্বেষ, লালসা, স্বার্থের সংঘাত। মানুষের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। মানুষই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীবন। তাই মনুষ্যত্ব না বাঁচলে এই সভ্যতা বাঁচবে না। তাই পুজোর দিনগুলিতে মা দুর্গার কাছে আমার একটাই প্রার্থনা সকলকে শুভ বুদ্ধি দাও, অধর্মকে পরাজিত করে যেন ধর্ম জয়ী হয়।
 —রিনিতা দাস,
একাদশ শ্রেণি

এসেছে শরৎ...

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। সারা বছরের  অপেক্ষার পর শরৎকালে এই আবেগ, অনুভূতি এবং ভালোবাসার আগমনির সুর বেজে ওঠে। শরতের নীল আকাশে মেঘের ভেলা, মাঠে মাঠে কাশফুলের দোলা আর ভোরের শিউলির গন্ধ জানান দেয়— মা আসছেন। মহালয়ার চণ্ডীপাঠে ঘুম ভাঙে আনন্দে। ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খের ধ্বনি, নতুন জামার গন্ধ, প্যান্ডেলে ঠাকুর দেখা, বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরা— এই আনন্দের তুলনা হয় না। ষষ্ঠীর বোধন থেকে শুরু করে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে সেজে ওঠেন মা দুর্গা দুর্গতিনাশিনী। অষ্টমীর অঞ্জলি আর সন্ধি পূজা মনে আনে ভক্তি। বিজয়ার দিন সিঁদুর খেলা, মিষ্টি ও মনে একরাশ উদাসীনতা নিয়ে মাকে বিদায় জানাতে হয়। আবার একটা বছরের প্রতীক্ষা, আর মনের মাঝে একটাই প্রার্থনা— ‘আসছে বছর আবার হবে।’
—সেমন্তী বন্দ্যোপাধ্যায়, একাদশ শ্রেণি

সম্প্রীতির পুজো

 পুজো আসে ক্যালেন্ডারের পাতায় নয়, মানুষের অপেক্ষায়। শারদ সৌরভে ভেসে আসে পুজো। আর হৃদয়ের গহনে জেগে ওঠে অমলিন প্রীতি— মানুষের প্রতি, মাটির প্রতি, মায়ের প্রতি। শিউলির স্নিগ্ধতা, কাশফুলের দোল, উৎসবের আবেশ, আলোর মায়াজাল, আনন্দময় সন্ধ্যা, ঢাকের মাদকতা যেন ‘আগমনি’ লিখে দেয়। তারপর শহর বদলে যায় আলোয়। শুধু রাস্তা নয়, মানুষের মনও জ্বলে ওঠে। পুজোর আনন্দ নতুন পোশাকে নয়, পুরানো সম্পর্ক নতুন হয়ে ওঠায়। আলোয় আমরা শুধু প্রতিমা দেখি না, দেখি মিলনের এক আশ্চর্য পৃথিবী। যেখানে অপরিচিতও আপন হয়ে ওঠে। অঞ্জলির মুহূর্তে অসংখ্য হাত একসঙ্গে উঠলে বোঝা যায়,  পরিচয় একটাই— ‘মানুষ’। আর দশমী? প্রতিমা বিসর্জনের সঙ্গে যেন আনন্দটুকু নদীতে ভেসে যায়। তবুও কানে বাজে সেই চিরন্তন আশ্বাস,  ‘আবার এসো মা’। বিদায়ের মধ্যেও ফিরে আসার আনন্দ খুঁজে নেওয়া!
—প্রীতি দাস, একাদশ শ্রেণি

শরতে এ কোন সাধ?

শিশির ভেজা ভোর। শিউলি কুড়াতে আসে গ্রামেরই কোনো বালিকা। সে নৈবেদ্য সাজাবে, খোঁপায় গুজবে কত শত ফুল। সে চাইবে শিউলির সুবাসে মুগ্ধ হতে। প্রকৃতির বহুরূপতায় মানব মনও পরিবর্তিত হয়। শরতে মন একটু জিরিয়ে নিতে চায়। শরৎ মানেই সিংহবাহিনীর আবাহন। দেবী দুর্গা মানে একদিকে অপশক্তির বিনাশ, অন্যদিকে চেতনার শক্তির আবাহন। আগমনি শরৎ নির্মলতার প্রতীক। আনুকূল্যের দ্যোতনা। শরৎ তো  সৌন্দর্যের শুভ্রতা। পুজো আসে বারে বারে, প্রতি ঘরে ঘরে। মনে পড়ে শুধু প্রিয়জন হারানোর ব্যথা। তবুও আনন্দে মেতে উঠতে হয়। কারণ শরৎকালের দুর্গা পুজো শুধু পুজো নয়, সবাইকে কাছে পাওয়ার উৎসব। সকলের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আকুতি।
—নৈর্ঋতা দত্ত, একাদশ শ্রেণি

প্রধান শিক্ষকের কলমে

ভাতাড় মাধব পাবলিক হাই স্কুল, পূর্ব বর্ধমান

 পূর্ব বর্ধমান জেলার পুরানো স্কুলগুলির মধ্যে অন্যতম ভাতাড় মাধব পাবলিক হাই স্কুল। সকলেই জানেন যে, ১৯২১ সালে বা তার কিছু আগে এই স্কুলের প্রতিষ্ঠা। কিন্তু এই অঞ্চলের বিদ্যালয় স্থাপনের ইতিহাস ঘাঁটলে এই সময়কাল অর্ধশতাব্দীরও বেশি পিছিয়ে যাবে। গবেষক যোগজীবন গোস্বামীর দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, ১৮৫৬ সালের ৪ জুন এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। ১৮৫৫ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর দক্ষিণবঙ্গের বিদ্যালয় পরিদর্শক নিযুক্ত হন। তিনিই বর্ধমান জেলার পাঁচটি মিডল ইংলিশ ও মিডল ভার্নাকুলার স্কুলের মধ্যে ভাতাড় মিডল ইংলিশ স্কুলকে অনুমোদন দেন। শুরুতে ১০৭ জন পড়ুয়া ছিল। কিন্তু ১৮৫৭-’৫৮ শিক্ষাবর্ষে ছাত্রসংখ্যা কমে হয় ২০। আবার ১৮৫৮-’৫৯ সালে সেই সংখ্যা হয় ৬৭।
এরপর ১৯২১ সালে এলাকার সম্পন্ন ব্যক্তি মাধবচন্দ্র তা স্থায়ী বিদ্যালয় ভবন তৈরির জন্য জমি দান করেন। মাটির ঘর তৈরি হয়। আর বিদ্যালয়ের নাম রাখা হয় মাধব মিডল ইংলিশ স্কুল। সেই বছরই বর্ধমান জেলা বোর্ডের অনুমোদন পায় স্কুলটি। ১৯৪০ সালে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকাকালীন বাংলা মাধ্যমের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পায় এবং স্কুলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়— ‘ভাতাড় মাধব পাবলিক হাই স্কুল’।
বর্তমানে ছাত্রছাত্রী সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৭৮০। উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান, বাণিজ্য, কলা ও বৃত্তিমূলক বিভাগ রয়েছে। গ্রামীণ বিদ্যালয় হিসেবে পাঠন-পাঠনের দিক দিয়ে এই স্কুল যথেষ্ট সম্মান অর্জন করেছে। এখানকার বহু প্রাক্তনী দেশে-বিদেশে সাফল্য অর্জন করেছেন।
—শচীদানন্দ হাঁসদা, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক
সংকলক: শম্পা সরকার