কাগজের ঢাক
‘আশ্বিনের মাঝামাঝি উঠিল বাজনা বাজি, / পূজার সময় এল কাছে।’ লিখেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আর পুজোর বাজনা বলতেই মনে পড়ে ঢাকের কথা।
ঢাকের বাদ্যি শুনলেই মনে হয় পুজো দোরগোড়ায়। হাতেগোনা আর কয়েকদিন পরই বাঙালির তেরো পার্বণের শ্রেষ্ঠ পার্বণ— দুর্গাপুজো। মণ্ডপে মণ্ডপে শুনতে পাবে ঢাকের বোল।
তার আগে তোমরা নিজেরা বাড়িতেই কাগজ দিয়ে তৈরি করে নিতে পার ঢাক। না, সেই ঢাক অবশ্য বাজবে না।
তবে তা সাজিয়ে রাখতে পার তোমাদের পড়ার টেবিলে। কীভাবে তৈরি করতে হয় ঢাক?
চল, আজ সেটাই শিখে নিই—
কী কী লাগবে?
মোটা রঙিন কাগজ বা চার্ট পেপার
সাদা কাগজ
পেনসিল
স্কেল
কম্পাস
কাঁচি
আঠা
রঙিন সুতো বা উল
দু’টি সরু কাঠি (না পেলেও অসুবিধা নেই)
কীভাবে বানাবে?
প্রথম ধাপ: প্রথমে একটি মোটা রঙিন কাগজ নাও। সেটির উপর স্কেল দিয়ে ২০ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ১০ সেন্টিমিটার চওড়া একটি আয়তক্ষেত্র এঁকে নেবে। এবার দাগ বরাবর কাগজটি কেটে নাও। কাটা কাগজটির দুই প্রান্ত কাছে এনে গোল করে নিতে হবে। একটি প্রান্ত অন্য প্রান্তের উপর সামান্য চাপিয়ে দিয়ে আঠা লাগিয়ে জুড়ে দাও। কয়েক সেকেন্ড ভালো করে চেপে রাখলে কাগজটি একটি গোল নলের মতো হয়ে যাবে। এটিই হবে ঢাকের মূল অংশ।
দ্বিতীয় ধাপ: এবার ঢাকের দুই মুখের জন্য দু’টি গোল কাগজ কাটতে হবে। এজন্য একটি ছোটো গোল পাত্র কাগজের উপর রেখে তার চারপাশে পেনসিল দিয়ে বৃত্ত এঁকে নাও। কম্পাস থাকলে সেটিও ব্যবহার করতে পার। একই মাপের দু’টি বৃত্ত এঁকে কাঁচি দিয়ে কেটে নাও। গোল কাগজ দু’টি যেন ঢাকের দুই মুখের চেয়ে সামান্য বড়ো হয়।
তৃতীয় ধাপ: এবার তৈরি করা গোল কাগজ দু’টিকে ঢাকের দুই দিকে আঠা দিয়ে লাগিয়ে নাও। কাগজ দু’টি যেন চারপাশ থেকে ভালোভাবে আটকে থাকে, সেদিকে খেয়াল রেখ।
চতুর্থ ধাপ: এবার ঢাকটিকে আরও সুন্দর করে সাজাতে হবে। অন্য রঙের কাগজ থেকে সরু সরু ফালি কেটে ঢাকের দুই প্রান্তের চারপাশে লাগিয়ে নাও। মাঝখানেও রঙিন কাগজের ফালি লাগাতে পার। চাইলে কাগজের ছোটো ছোটো ফুল, তারা, গোল নকশা ঢাকের গায়ে লাগানো যায়। লাল, হলুদ, সাদা, সবুজ বা নীল... পছন্দ মতো রং দিয়ে ঢাকটিকে সাজিয়ে নাও।
পঞ্চম ধাপ: আসল ঢাকের গায়ে দড়ি থাকে। তোমাদের তৈরি করা ঢাকে সেটা না থাকলে চলে! দড়ি তৈরির জন্য রঙিন সুতো বা উল নিতে হবে। ঢাকের এক প্রান্ত থেকে অপরপ্রান্ত পর্যন্ত কয়েকটি সুতো টানটান করে লাগিয়ে দাও। আবার ঢাকের চারপাশে আড়াআড়িভাবে কয়েকটি সুতো লাগিয়ে নাও। অল্প আঠা দিয়ে সুতোগুলিকে আটকে নিতে ভুলো না।
ষষ্ঠ ধাপ: সবশেষে দু’টি সরু কাঠিকে ঢাক বাজানোর কাঠি হিসাবে ব্যবহার করতে পার। কাঠি না থাকলে মোটা কাগজ শক্ত করে পাকিয়ে কাঠি বানিয়েও নিতে পার। কীভাবে বানাবে? দু’টি কাগজের ফালি শক্ত করে পাকিয়ে তার প্রান্তে অল্প আঠা লাগিয়ে নাও। আঠা শুকিয়ে গেলে সেগুলি কাঠির মতো শক্ত হবে। ব্যস, তাহলে তোমার সুন্দর কাগজের ঢাক সম্পূর্ণ তৈরি।



