নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বনগাঁ: ভোটার তালিকায় বাংলাদেশিদের নাম ঘিরে শোরগোল বনগাঁ ও দেগঙ্গায়। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বাস করছেন বলেও অভিযোগ।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বনগাঁ: ভোটার তালিকায় বাংলাদেশিদের নাম ঘিরে শোরগোল বনগাঁ ও দেগঙ্গায়। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বাস করছেন বলেও অভিযোগ।
২০২৩-২০২৪ সালের ভোটার তালিকায় মায়ের বয়স ২৬ বছর। মেয়ের বয়স ২০, ছেলে ১৮। সেই পরিবারের কর্তা বাংলাদেশি। শ্বশুরকে বাবা সাজিয়ে তিনি নাম তুলেছিলেন ভোটার তালিকায়। ঘটনাটি বনগাঁর। কারচুপি ঘিরে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।
বনগাঁ ব্লকের গোপালনগর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের নতুনগ্রামের একটি পরিবারের কর্তা জাহিদ খান (৪৫)। তাঁর স্ত্রী ময়না খাঁ (২৬)। মেয়ে মিতা খাঁ (২০) এবং ছেলে সিরাজ খাঁ (১৮)। বিজেপির দাবি, এরা সকলেই ভুয়ো ভোটার। আদতে বাংলাদেশি নাগরিক। চোরাপথে এদেশে এসে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছে। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বিজেপি কাউন্সিলার দেবদাস মণ্ডল প্রশ্ন তোলেন, মায়ের বয়স ২৬ হলে তাঁর দুই সন্তানের বয়স ২০ ও ১৮ হয় কি করে? বিষয়টি প্রশাসনকে জানাব।
ময়না খাঁ বলেন, ‘আমি এদেশের বাসিন্দা। ছেলে ও মেয়ের নাম সঠিকভাবে ভোটার তালিকায় উঠেছে। বয়স কীভাবে ভুল হল, জানি না।’ তবে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, ‘আমার স্বামী বাংলাদেশি। বিয়ের পর স্বামী আমার বাবাকে নিজের বাবা সাজিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছে। বাবা মারা গিয়েছেন অনেকদিন আগে।’ বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘আমরা বাড়ি বাড়ি ভূতুড়ে ভোটার খুঁজছি। বিজেপি যদি এরকম ভোটারের হদিশ পায় নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করুক। শুধু শুধু খবরের শিরোনামে আসার জন্য তৃণমূলকে দোষারোপ করে লাভ হবে না।’
এদিকে পৃথক ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে দেগঙ্গায়। প্রায় ৩০ বছর আগে ওপার বাংলা থেকে ভারতে এসেছিলেন এক মহিলা। বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। সেই বাড়ির মালকিনকে মা সাজিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলেন। শুধু তাই নয়, কিছুদিন পর ছেলের নামও তুলেছেন তালিকায়।
দেগঙ্গা ১ পঞ্চায়েতের ১১৯ বুথের ভোটার তালিকায় শেফালি মণ্ডলের মায়ের নাম ঊষারানি মণ্ডল। শেফালি আদতে বাংলাদেশি। তিনি এদেশে এসে দেগঙ্গার বেলিয়াঘাটা এলাকার বাসিন্দা ঊষারানি মণ্ডলের বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন। পরবর্তীতে তিনি তাঁর ছেলেকেও নিয়ে এসে এদেশের ভোটার তালিকায় নাম তোলেন। যদিও প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন শেফালি। বলেন, তিনি ভারতীয়। কিন্তু তখন শেফালির কীর্তি ফাঁস করে দেন প্রয়াত ঊষারানি মণ্ডলের ছেলে নির্মল মণ্ডল। তিনি বলেন, আমরা দুই বোন ও এক ভাই। শেফালির সঙ্গে আমাদের কোনও সম্বন্ধ নেই। আমাদের বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন উনি। আর আমার মাকে, মা বলতেন। তারপর মায়ের নাম নিয়ে ভোটার হন।
পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে শেফালি স্বীকার করেন যে তিনি বাংলাদেশি। বলেন, বাংলাদেশ থেকে আসার পর এখানকার কয়েকজনের সহযোগিতায় এদেশের ভোটার হয়েছি।