Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দেড় মাসের সন্তানকে কোলে নিয়ে এসআইআরের শুনানির লাইনে মা

এসআইআরের শুনানির লাইনে কখনও দেখা যাচ্ছে নবতিপর বৃদ্ধাকে। কোথাও আবার ভোটাধিকার রক্ষা করতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন অসুস্থ ব্যক্তি

দেড় মাসের সন্তানকে কোলে নিয়ে এসআইআরের শুনানির লাইনে মা
  • ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এসআইআরের শুনানির লাইনে কখনও দেখা যাচ্ছে নবতিপর বৃদ্ধাকে। কোথাও আবার ভোটাধিকার রক্ষা করতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন অসুস্থ ব্যক্তি। সেভাবেই শনিবার শুনানির লাইনে এক মাকে দেকা গেল, যিনি তাঁর ৪৫ দিনের সন্তানকে কোলে নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে লাইন দিতে বাধ্য হয়েছেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় কোনও আত্মীয়র নাম দেখাতে পারেননি তিনি। তাই ডাক পড়েছে শুনানিতে। এদিন বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার অন্তর্গত চম্পাহাটির নীলমণি কর স্কুলে এমনই ছবি ধরা পড়েছে।

Advertisement


ওই গৃহবধূর নাম টিনা মণ্ডল। বাড়ি ভাঙড় ১ নম্বর ব্লকের চন্দনেশ্বরে। বছর দেড়েক আগে তাঁর  বিয়ে হয় বারুইপুর পূর্বের পিয়ালিতে। গত বছর ভোটার তালিকায় নাম ওঠে ২১ বছর বয়সি ওই বধূর। আর পাঁচজনের মতো তিনিও ইনিউমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছিলেন। তিনি জানালেন, ছোটোবেলায় তাঁর বাবা মারা যান। মায়ের নামও ২০০২-এর তালিকায় ছিল না। তিনিও প্রয়াত হয়েছেন। এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের তালিকা অনুযায়ী যাঁদের নাম দেখানো যাবে, তা টিনাদেবী দেখাতে পারেননি। ফলস্বরূপ শুনানিতে ডাক পান। এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্যেই তিনি মা হয়েছেন। শুনানির নোটিশ আসতেই চিন্তায় পড়েছিলেন, কীভাবে সন্তানকে বাড়িতে রেখে যাবেন, তা নিয়ে। কারণ, বাড়িতেও তেমন কেউ নেই দেখভালের জন্য। শেষ পর্যন্ত স্বামীর সঙ্গে সদ্যোজাতকে নিয়ে হিয়ারিংয়ে আসবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। 
অগত্যা এই ঠান্ডার মধ্যে দেড় মাসের শিশুকে চাদরমুড়ি দিয়ে কোলে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। বধূর স্বামী পুষ্পজিত মণ্ডল  বলেন, ‘এটা এমন একটা বিষয়, অবহেলা করা যাবে না। আবার এত ছোটো বাচ্চা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করাও কঠিন। কিন্তু কোনও উপায় নেই, তাই হাজার সমস্যা হলেও লাইনে দাঁড়িয়েছি।’
এই কেন্দ্রেই এক অসুস্থ প্রৌঢ়াকে দেখা গেল, গাড়িতে বসেই কাগজপত্রে সইসাবুদ করছেন। তিনি পূর্ণিমা ঘোষ। স্ট্রোক হওয়ার পর তাঁর ডান দিক অসাড় হয়ে গিয়েছে। চলতে ফিরতে সমস্যা। একসময় পিয়ালির কাছেই থাকতেন তিনি। বছর তিনেক আগে বনগাঁয় চলে গিয়েছেন সপরিবারে। নামের বানানে গরমিল হওয়ায় তাঁকে হিয়ারিংয়ে আসতে হয়েছে। সুদূর বনগাঁ থেকে গাড়ি করে আসতে খরচও হয়েছে ভালোই।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ