সংবাদদাতা, কান্দি: রাস্তাঘাট, জল কিংবা আলো নয়। পাড়ায় সমাধানে একরত্তি শিশুর ভবিষ্যতের সমস্যা নিয়ে হাজির প্রৌঢ়া দুঃস্থ দিদিমা। সোমবার কান্দি ব্লকের যশোহরি আনুখা ২ পঞ্চায়েতের চৈতন্যপুরের এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায়। চৈতন্যপুরের পৌনে তিনমাস বয়সি ওই শিশুটির নাম মোস্তফা মহম্মদ। গত ১৮ জুন কান্দি মহকুমা হাসপাতালে তার জন্ম হয়। জন্মের চারদিন পরেই রক্তাল্পতার কারণে তার মা মিলি খাতুনের মৃত্যু হয়। বীরভূমের নানুর থানার পালটি গ্রামের শিশুর বাবা নাসিম শেখও স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে বেপাত্তা। ১৮ বছরের কম বয়সেই মিলি মা হয়ে গিয়েছিল বলে পরিবারের দাবি।
এরপর থেকে শিশুর সমস্ত দায়ভার বর্তায় দিদিমা ফুলকলি বিবির উপর। ফুলকলি বিবি বিধবা। তাঁর দুই মেয়ে। বাড়িতে রোজগেরে কেউ নেই। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। এমন অবস্থায় শিশুর লালনপালন কীভাবে করবেন তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। সোমবার পাড়ায় সমাধান শিবিরে গ্রামের অনেকেই গিয়েছিলেন নানা সমস্যা নিয়ে। কেউ নিকাশির সমস্যা নিয়ে, কেউ রাস্তা পাকা করার দাবি নিয়ে, কেউ গ্রামের স্ট্রিট লাইট দেওয়ার দাবি নিয়ে।
দুপুরের দিকে পাড়ায় সমাধানের ছোট মঞ্চে বাল্যবিবাহ রোধ নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন পঞ্চায়েতের এক কর্মী। সেইসময় মঞ্চের সামনে এসে শিশুর দিদিমা এসে অঝোরে কাঁদতে থাকেন। তাঁকে কাঁদতে দেখে শোরগোল পড়ে যায়। থেমে যায় বক্তব্য। কান্নার কারণ জানতে চাইলে শিশুর দিদিমা বলেন, আপনারা আমাদের পাড়ায় এসেছেন সমাধান করতে। তাহলে আমার নাতির সমাধানও করে যান। এই বয়সে আমি একে নিয়ে কোথায় যাব? নাতির জন্মের চারদিন পর মায়ের মৃত্যুর সঙ্গে বাবাও ছেড়ে পালিয়েছে। এই ঘটনায় পাড়ায় সমাধান কয়েক মিনিটের জন্য নিঃস্তব্ধ হয়ে যায়। উদ্যোক্তারা ওই প্রৌঢ়াকে জানান, এখানে এমন কোনও সরকারি স্কিম নেই যে শিশুর সমাধান করা যাবে। তবে কয়েকদিনের মধ্যে কিছু একটা ব্যবস্থা করা হবে।
যদিও কয়েকদিন লাগেনি। এদিন রাত আটটা নাগাদ ওই প্রৌঢ়ার বাড়িতে পৌঁছন কান্দি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তৃণমূল নেতা পার্থপ্রতিম সরকার, পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ তথা যশোহরি আনুখা ২ পঞ্চায়েতের দলের মেন্টর গৌরব চট্টোপাধ্যায়। সেখানেই সাবালক না হওয়া পর্যন্ত ওই শিশুর যাবতীয় দায়িত্ব নেন গৌরববাবু। শিশুর লালনপালনের জন্য প্রতিমাসের খরচ দিদিমার কাছে পৌঁছে দেবেন বলে আশ্বাস দেন। প্রথম মাসের খরচ এদিনই তুলে দেওয়া হয়। শুধু মুখের কথা নয়, গৌরববাবু একটি লিখিতও দেন ওই শিশুর দিদিমাকে। যাতে বলা হয়েছে, শিশুর খাওয়ার খরচ থেকে, পড়াশোনা, জামাকাপড়, ওষুধপত্র সমস্তের খরচ জোগাবেন তিনি। প্রসঙ্গত, গৌরববাবু এলাকায় প্রভাবশালী বলে চিহ্নিত। তাঁর একটি পেট্রল পাম্প ছাড়াও একাধিক ব্যবসা রয়েছে। গৌরববাবু বলেন, শিশুটিকে নিজের বাড়িতে এনে লালনপালন করা সম্ভব নয়। পাড়ায় সমাধানে এই শিশুটির দায়িত্ব নেন কান্দির তৃণমূল নেতা। -নিজস্ব চিত্র