Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

সন্তানকে জড়িয়ে ধরে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু মায়ের

ভয়ানক বিপদ আঁচ করেই সন্তানকে জড়িয়ে ধরে বাঁচানোর একটা শেষ চেষ্টা করেছিলেন মা। পারেননি। উদ্ধারকারীরা যখন পৌঁছন, তখন তাঁদের দগ্ধ শরীর প্রাণহীন।

সন্তানকে জড়িয়ে ধরে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু মায়ের
  • ১৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

হায়দরাবাদ: ভয়ানক বিপদ আঁচ করেই সন্তানকে জড়িয়ে ধরে বাঁচানোর একটা শেষ চেষ্টা করেছিলেন মা। পারেননি। উদ্ধারকারীরা যখন পৌঁছন, তখন তাঁদের দগ্ধ শরীর প্রাণহীন। নিস্পন্দ। সন্তানকে জড়িয়ে রয়েছেন মা। রবিবার ভোরে হায়দরাবাদের চারমিনারের কাছে বহুতলের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর এই মর্মান্তিক দৃশ্যই স্তব্ধ করেছে গোটা এলাকাকে। দেশকে। 

Advertisement

আগুনের সর্বগ্রাসী শিখা তখন ছড়িয়ে পড়ছে শ্রীকৃষ্ণ পার্ল হাউজের চারিদিকে। হায়দরাবাদের চারমিনারের কাছে গুলজার হাউজ। সেখানেই এক বহুতল এই শ্রীকৃষ্ণ পার্ল হাউজ। আগুনের মধ্যে খরকুটোর মতো শেষ সম্বল আঁকড়ে ধরতে চাইছিলেন ওই মহিলা। ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছিল গোটা ঘর। খুলতে চাইছিলেন বন্ধ জানালা। এদিক ওদিক খোঁজেন দরজাটা। যদি কোনওভাবে বেরিয়ে পড়া যায়। পারেননি। তাই ঘুমন্ত সন্তানকে কাছে টেনে নেন। বুকে আঁকড়ে ধরেন। যদি উত্তাপ থেকে বাঁচানো যায়। পারা সম্ভব ছিল না, পারেনওনি। সেই অবস্থাতেই লেলিহান বহ্নিশিখা পুড়িয়ে দেয় সন্তান সহ মাকে। আরও ১৫ জনকে।  
হায়দরাবাদের চারমিনারের কাছে ব্যস্ত বাজারের মধ্যে সারি বেঁধে অনেকগুলি দোকান। মূলত মুক্তোর। তার মধ্যেই শ্রীকৃষ্ণ পার্ল হাউজ নামক একটি দোকানে রবিবার ভোরে আগুন লাগে ভোরে। তার উপরে থাকত ওই পরিবার। ঘিঞ্জি এলাকায় বাড়ি বলে আগুন ছড়িয়ে পড়তে সময় নেয়নি। তবে তখনও ঘুম ভাঙেনি অনেকের। আশেপাশের বাড়ির কয়েকজন দেখতে পান কালো ধোঁয়া। শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি। সকাল ছ’টা বেজে ১৬ মিনিটে খবর পৌঁছয় দমকলের কাছে। তার আগে আগুনের হাত থেকে বিপন্নদের উদ্ধার করতে নামেন স্থানীয়রা। গয়না ব্যবসায়ী জাহির বলেন, ‘আমরা কোনওক্রমে ভিতরে ঢুকতে পেরেছিলাম। ঘরের ভিতরে এক মহিলা তার সন্তানকে বুকে জড়িয়ে পড়েছিলেন। দগ্ধ হয়ে ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে তাঁদের।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ