Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

২০১২ সালে স্বামীকে খুনের মামলা: নাবালক ছেলের সাক্ষ্যেই আদালতে দোষী সাব্যস্ত মা

নাবালক ছেলের সাক্ষ্যদানেই দোষী সাব্যস্ত হলেন মা। ২০১২ সালে ডাকাতির আড়ালে স্বামীকে খুন করার এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের মামলায় মঙ্গলবার মৃতের স্ত্রী রিনা মালকে দোষী সাব্যস্ত করল চুঁচুড়া আদালত।

২০১২ সালে স্বামীকে খুনের মামলা: নাবালক ছেলের সাক্ষ্যেই আদালতে দোষী সাব্যস্ত মা
  • ২৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: নাবালক ছেলের সাক্ষ্যদানেই দোষী সাব্যস্ত হলেন মা। ২০১২ সালে ডাকাতির আড়ালে স্বামীকে খুন করার এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের মামলায় মঙ্গলবার মৃতের স্ত্রী রিনা মালকে দোষী সাব্যস্ত করল চুঁচুড়া আদালত। ওই মামলায় রিনার প্রেমিক সহ আরও পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন জেলা ও দায়রা বিচারক (তৃতীয় আদালত) কৌস্তভ মুখোপাধ্যায়।

Advertisement

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১২ সালের মার্চ মাসে পোলবার কৃষ্ণচন্দ্র মালের বাড়িতে ডাকাত পড়েছে বলে প্রচার হয়েছিল। ডাকাতদের হাতেই তিনি খুন হন বলে তাঁর স্ত্রী রিনা মাল অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয় রিনার নাবালক পুত্রসন্তান। তার কাছ থেকেই পুলিস তথ্য পায় যে, রিনার সঙ্গে এলাকারই বাসিন্দা জিকো পালের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। সেই ঘটনার সূত্র ধরে তদন্ত করতে গিয়েই পুলিস জানতে পারে যে, ঘটনার দিন কোনও ডাকাতিই হয়নি। পুরো বিষয়টিই জিকো ও রিনা মিলে সাজিয়েছিলেন। ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই মামলা চলার পরে মঙ্গলবার বিচারক রিনাকে মূল দোষী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
ওই মামলার বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিদ্যুৎ রায়চৌধুরী বলেন, একটি ভয়াবহ ষড়যন্ত্র হয়েছিল। ডাকাতির আড়ালে স্বামীকে খুন করে প্রেমিকের সঙ্গে থাকার পরিকল্পনা করেছিলেন অভিযুক্ত রিনা। পুলিসের নির্ভরযোগ্য তদন্তে সেই ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যায়। আর সেই কাজে মুখ্য সাক্ষ্য হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে রিনার নাবালক ছেলে। তার কাছ থেকেই তার মায়ের অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে সূত্র মেলে। তাতেই মামলার মোড় ঘুরে যায়। রিনা ও তাঁর নাবালক ছেলে দু’জনেই পরবর্তীতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছে। রিনা তার দোষ স্বীকারও করেছিলেন। বিদ্যুৎবাবু আরও জানিয়েছেন, ওই মামলায় রিনা ও জিকো ছাড়াও বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, লক্ষ্মীকান্ত চক্রবর্তী, অভিজিৎ চক্রবর্তী, রাজ দাস ও দীপঙ্কর কর্মকারকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তারা ডাকাত সেজে কৃষ্ণচন্দ্রের খুনে সাহায্য করেছিলেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ