সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মল্লারপুর ১ ব্লকের কানাচি গ্রামের বাসিন্দাদের বড় একটা অংশ সকাল থেকে পুলিস অফিসার জুলফিকার আলি ও হাফিজুল হকের বাড়ির সাবমার্সিবল পাম্পের দিকে চেয়ে থাকেন। কখন তিনি পাম্প চালাবেন এবং মানুষজন পানীয় জল সংগ্রহ করবেন। এলাকার অধিকাংশ হস্তচালিত নলকূপ থেকে জল ওঠে না। তাই গরমের এই সময় পানীয় জল নিয়ে তীব্র সঙ্কটে পড়েছেন বাসিন্দারা। অথচ বছর দুয়েক আগে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে পিএইচই-র পক্ষ থেকে প্রকল্প গড়ে তুলে গ্রাম জুড়ে পাইপ লাইন বসিয়ে বাড়ি বাড়ি কানেকশন দেওয়া হলেও আজও জল মিলছে না বলে অভিযোগ। গ্রামের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য থেকে বাসিন্দারা সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসন থেকে বিধায়কের কাছে বারবার দরবার করলেও গা নেই কারও। বাধ্য হয়ে জলকষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের।
প্রাচীন গ্রাম কানাচি। পোস্ট অফিস পাড়া, বাউড়ি পাড়া, হাইস্কুল পাড়া, দক্ষিণপাড়া, মুসলিম পাড়া, ক্যানেল পাড়া ও আদিবাসী পাড়া মিলিয়ে ৭০০ পরিবারের বাস। গ্রামজুড়ে ৪০টি টিউবওয়েল। কিন্তু জলস্তর নেমে যাওয়ায় অধিকাংশই বিকল হয়ে পড়েছে। কোনও কলে সকালে অনেকক্ষণ ধরে টেপার পর সামান্য জল ওঠে। এরপর সারাদিন আর জল ওঠে না। জলস্তর নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ বাড়ির পাম্প অকেজো হয়ে পড়েছে। সব থেকে সমস্যায় পড়েছেন পোস্ট অফিস পাড়ার বাসিন্দারা। তাঁরা পানীয় জলের জন্য চেয়ে থাকেন পুলিস অফিসার জুলফিকার আলি ও পেশায় শিক্ষক হাফিজুল হকের বাড়ির দিকে। প্রত্যেকদিন তাঁরা সকালে এক-দেড় ঘণ্টা ধরে সাবমার্সিবল পাম্প চালিয়ে রাখেন। বাসিন্দারা কলসি, বালতি নিয়ে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে সেই বাড়ি থেকে পানীয় জল সংগ্রহ করেন।
হাফিজুল হক, সামসুজ্জোহা, সায়েম শেখরা বলেন, জলস্তর ক্রমশ কমে যাচ্ছে। যে টিউবওয়েলগুলি রয়েছে সেগুলিতে মার্চের শুরু থেকেই জল ওঠে না। পিএইচইর পক্ষ থেকে গ্রামের জল সমস্যা মেটাতে ২০২৩ সালে আদিবাসী পাড়ায় প্রকল্প গড়ে তোলা হয়। গ্রামজুড়ে পাইপ লাইন বসিয়ে বাড়ি বাড়ি কানেকশন দেওয়া হয়। কিন্তু দু’বছর পেরিয়ে গেলেও জল পড়ে না। ‘দিদিকে বলো’ থেকে স্থানীয় প্রশাসন, বিধায়ককে জানানো হলেও সুরাহা হয়নি। ওই প্রকল্প এলাকার কিছু পরিবার শুধুমাত্র জল পায়। বাকি পাইপ লাইনে জলই আসে না।
গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূলের জিয়াউর রহমান বলেন, পিএইচই প্রকল্প গড়লেও পাইপ লাইনে সর্বত্র জল পৌঁছেছে কি না, তা টেস্টিং না করেই ঠিকাদার এলাকা ছাড়ে। ফলে সরকারের কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পের কোনও সুবিধা পাচ্ছি না। তীব্র পানীয় জলের সঙ্কটে রয়েছি।
প্রবল জল সঙ্কটে পড়েছে কানাচি হাইস্কুল ও হস্টেলের আবাসিকরা। প্রধান শিক্ষক কুণাল সিং বলেন, নশোর কাছাকাছি ছাত্রছাত্রী। স্কুল ও হস্টেল মিলিয়ে তিনটি পাম্প রয়েছে। তার মধ্যে একটি কাজ করে না। কিন্তু প্রকল্প থাকলেও কেন বাড়ি বাড়ি জল মিলছে না? উত্তরে রামপুরহাট মহকুমার পিএইচই-র অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সরোজ চৌধুরী বলেন, প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি। আরও বোরিং হবে, পাম্প বসবে। বড় প্রকল্প। কাজ শেষ হলেই সমস্যা মিটে যাবে। কিন্তু দু’বছর ধরে তো পিএইচই-র কোনও কাজই হচ্ছে না গ্রামে? উত্তরে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখে নিচ্ছি।