নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম পৃথক জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশের সাত বছর পরেও জেলা শহরের রাস্তার নামকরণ হয়নি। শহরের বাসিন্দারা ঠিকানা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। জেলার বাইরে থেকে আসা মানুষ বাড়ি খুঁজতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম পৃথক জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশের সাত বছর পরেও জেলা শহরের রাস্তার নামকরণ হয়নি। শহরের বাসিন্দারা ঠিকানা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। জেলার বাইরে থেকে আসা মানুষ বাড়ি খুঁজতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
ঝাড়গ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান কবিতা ঘোষ বলেন, শহরের রাস্তার নামকরণ করা নিয়ে পরিকল্পনা চলছে। কাউন্সিলারদের নিয়ে খুব দ্রুত বৈঠক হবে। ঝাড়গ্রাম শহরে পিচ, ঢালাই, মোরাম ও কাঁচা মিলিয়ে ৩১৮ কিমি রাস্তা রয়েছে। বাম পুরবোর্ডের সময় মাত্র ৭২ কিলোমিটার পিচ রাস্তার নামকরণ হয়েছিল। তৃণমূল ২০১৩ সালে ঝাড়গ্রাম পুরবোর্ড দখল করে। এক দশক পেরিয়ে যাওয়ার পরেও নতুন করে শহরের রাস্তার নামকরণ হয়নি। বাম আমলে শহরের সারদাপীঠ স্কুল মোড় থেকে জামদার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত রাস্তার নামকরণ হয় সাধু রামচাঁদ মুর্মু সরণি। অলচিকি লিপির স্রষ্টা পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মুর নামে রেল স্টেশন থেকে রূপছায়া মোড় ও মধুবন মোড় হয়ে পেপার মিল মোড় পর্যন্ত রাস্তাটির নামকরণ হয়। শহরের বংশী মোড় থেকে ছবি অ্যাপার্টমেন্ট পর্যন্ত রাস্তার নামকরণ করা হয় সিদো-কানহো-বিরসা মুন্ডা সরণি। এ ছাড়াও আরও বেশ কিছু প্রয়াত ব্যক্তির নামে শহরের বিভিন্ন পাকা রাস্তার নামকরণ হয়েছিল। জেলার তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের সামনে একটি মাত্র সরণির নাম দেখা যায়। আর কোথাও দেখা যায় না। পুরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে থাকা পুরাতন ঝাড়গ্রাম, ঘোড়াধরা, রঘুনাথপুর, বায়দা, চণ্ডীপুর, কেশবডিহি, বাছুরডোবা, জামদা নতুনডিহি, বলরামডিহি, নতুনডিহি, শক্তিনগর, গাইঘাটার মতো এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ। এইসব জায়গায় রাস্তার নাম না থাকায় বাসিন্দারা সমস্যায় পড়ছেন। প্রশাসনিক কাজকর্মেরও সমস্যা হচ্ছে। পুরসভার বিভিন্ন কাজের ওয়ার্ক অর্ডারে নির্দিষ্ট করে এলাকার নামও লেখা থাকে না। পুরসভার কর্মীদেরই যা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। জেলা শহরে কর্মসূত্রে বহু মানুষ এখন আসছেন। রাস্তা খুঁজে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছতে গিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছেন। এক জায়গার বদলে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছেন। শহরের নতুনডিহি এলাকার বাসিন্দা বুদ্ধদেব সাউ বলেন, রাস্তার নাম থাকায় চরম সমস্যা পড়তে হচ্ছে। কুরিয়ার কর্মীদের ফোন করে এলাকার একাধিক জায়গার নাম বলতে হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছাচ্ছে না। স্থানীয় কাউন্সিলারকে বিষয়টি বহুবার জানানো হয়েছে। কোনও কাজ হয়নি। শহরের পুরাতন ঝাড়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা কার্তিক সাঁতরা বলেন, জেলা শহর হওয়ার পরেও এখনও রাস্তার নামকরণ করা গেল না। আত্মীয়স্বজন এলে কোন রাস্তা ধরে আসতে হবে বলতে পারি না। শহরের বাসিন্দা হিসেবে এটা আমাদের কাছে খুবই লজ্জার। পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রদীপ সরকার বলেন, সেইসময় শহরের প্রধান প্রধান রাস্তার নামকরণ করা হয়েছিল। সেটা কার্যকর করা যায়নি। তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা এক দশকের বেশি সময় ধরে এই বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেয়নি। শহরের বাসিন্দারা যার জেরে সমস্যায় পড়ছেন।