Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডোমকলে বেশিরভাগ পঞ্চায়েতেরই গা ছাড়া মনোভাব, হয়নি গ্রাম সংসদ সভা

ডোমকলে বেশিরভাগ পঞ্চায়েতেরই গা ছাড়া মনোভাব, হয়নি গ্রাম সংসদ সভা
  • ৪ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: কোনওটিতে এখনও শুরুই হয়নি, কোনওটিতে আবার হাতে গোনা কয়েকটি সংসদে হয়েছে গ্রাম সংসদ সভা। মে মাস পেরিয়ে গেলেও ডোমকল মহকুমার হাতে গোনা কয়েকটি পঞ্চায়েত ছাড়া বেশিরভাগ পঞ্চায়েতের সংসদ এলাকাগুলিতে গ্রাম সংসদ সভা হয়নি। উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা থেকে জনগণের কাছে জবাবদিহিতে পঞ্চায়েতগুলির গা ছাড়া মনোভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে একাধিক।

Advertisement

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন ১৯৭৩ অনুসারে বছরে দু’বার গ্রাম সংসদ এলাকাগুলিতে পঞ্চায়েত থেকে গ্রাম সভা হওয়ার কথা। সাধারণত মে ও নভেম্বর মাসে পঞ্চায়েত এলাকার সংসদগুলিতে ওই সভা হওয়ার কথা। প্রতি বছর কমপক্ষে দু’বার—এর মধ্যে একটি সভা সাধারণত মে মাসের মধ্যেই হওয়ার কথা। প্রতিটি সংসদেই ওই সভা আয়োজন করার কথা পঞ্চায়েতের। পঞ্চায়েতের কর্তারা ওই সংসদের জনগণের সামনে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন। সাধারণত সভা থেকে সাধারণ মানুষের কাছে পঞ্চায়েতের কাজকর্ম ও প্রকল্পের হিসেব দেওয়া, নতুন পরিকল্পনা ও প্রকল্পের প্রস্তাব নেওয়া, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি করার কথা পঞ্চায়েতগুলির।
কিন্তু মহকুমার বিভিন্ন পঞ্চায়েত সূত্রের খবর, এখনও একাধিক পঞ্চায়েতে শুরুই হয়নি গ্রামসভা। যেমন রানিনগরের মালিবাড়ি ১ গ্রাম পঞ্চায়েত। ওই পঞ্চায়েতে এখনও শুরুই হয়নি গ্রামসভা। একই অবস্থা জলঙ্গি ব্লকের ৩টি পঞ্চায়েতেও। জলঙ্গির খয়রামারি, সাগরপাড়া, সাহেবনগর পঞ্চায়েতে এখনও শুরু হয়নি গ্রামসভার কাজ। দেবীপুর পঞ্চায়েতের ২২টি সংসদের মধ্যে মাত্র ৬টি সংসদ এলাকায় হয়েছে গ্রামসভা। কালিনগর ২ পঞ্চায়েতে মাত্র ৫টি আসনে হয়েছে সভা। কিন্তু কেন এত গড়িমসি? কেন মে মাস পেরিয়ে গেলেও গ্রাম সংসদ সভা করেনি একাধিক পঞ্চয়েত? প্রশ্নের উত্তরে একেকটি পঞ্চায়েত প্রধানের যুক্তি এক এক রকম।
যেমন খয়রামারি পঞ্চায়েত প্রধান মিঠুন বিশ্বাস বলেন, আমি অসুস্থ, তাই সময়ে হয়ে ওঠেনি। জুন মাসেই সম্পূর্ণ করে দেব সভা।দেবীপুর পঞ্চায়েত প্রধান আরফিনা বিবি বলেন, আসলে এই শেষ সপ্তাহে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য আর অন্যান্য সংসদে গ্রামসভা করা যায়নি। তবে খুব দ্রুত আমরা ওই সংসদগুলিতেও গ্রামসভার কাজ সম্পূর্ণ করব। একই সুর মালিবাড়ি ১ পঞ্চায়েত প্রধান জাহাঙ্গীর আলম ও কালীনগর ২ পঞ্চায়েত প্রধান মান্নাফ হোসেন। তাঁদেরও দাবি, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্যই এই সমস্যা হয়েছে। এদিকে কিছু কিছু পঞ্চায়েতে গ্রাম সংসদ সভা হয়ে গেলেও এলাকার কেউ কেউ সভার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সারাংপুর পঞ্চায়েতের সাহাবাজপুর সংসদের অসীম আখতারের দাবি, তাঁদের এলাকায় কবে গ্রামসভা হয়েছে , তা তিনি  জানেনই না। এমনকী গ্রামসভা হতেও নাকি তিনি দেখেননি। যদিও ওই পঞ্চায়েতের প্রধান সাইদুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেক সংসদে গ্রামসভা হয়েছে। ওই সংসদে একটি স্কুলে সভা হয়েছে। আমাদের কাছে ছবিও রয়েছে। উনি চাইলে এসে দেখতে পারেন।
বিভিন্ন এলাকায় পঞ্চায়েতগুলিতে গ্রাম সংসদ সভা না হওয়ায় উঠছে একাধিক প্রশ্ন। কেন জনগণের সামনে তাদের আয়ব্যয়ের হিসেব রাখছে না পঞ্চায়েতগুলি? প্রশাসনিক কর্তাদের অবশ্য দাবি, ইতিমধ্যেই সভার কাজ শুরু হয়েছে। অনেক জায়গায় শেষও হয়ে গিয়েছে।
ডোমকলের এসডিও শুভঙ্কর বালা বলেন, নিয়ম অনুযায়ীই সবকিছু চলছে। কিছু পঞ্চায়েতে গ্রামসভার কাজ সম্পূর্ণও হয়েছে। কিছু পঞ্চায়েতে সভা শুরুও হয়েছে। তারপরেও কোনও অভিযোগ এলে সেগুলি খতিয়ে দেখা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ