নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের বা কোনও আত্মীয়ের নাম না থাকা (নো ম্যাপ) ভোটারদের পর এবার সন্দেহজনক ভোটারদের শুনানি শুরু করেছে কমিশন। সূত্রের খবর, অন্যান্য জেলার তুলনায় রাজ্যের সীমান্তবর্তী তিন জেলা উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদে বিপুল সংখ্যক শুনানির নোটিস ইস্যু হতে চলেছে। জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনায় সর্বোচ্চ ১৭ লক্ষ ৯৮ হাজার ৮৫৩টি নোটিস ইস্যু হচ্ছে। এরপরই রয়েছে পাশের জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা। এখানে ১৭ লক্ষ ৩ হাজার ৮৬৮টি নোটিস ইস্যু করা হবে বলে খবর। আরেক সীমান্তবর্তী জেলা মুর্শিদাবাদে ইস্যু হবে অন্তত ১৬ লক্ষ ৫৬ হাজার ৩৪৭টি নোটিস। এছাড়াও মালদহ ও নদীয়া মিলিয়ে ১৬ লক্ষ শুনানির নোটিস ইস্যু হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত যত ভোটারের শুনানি হয়েছে, তার মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন ১১,৪৭২ জন ভোটার। এখনও পর্যন্ত ৯ লক্ষ ৩০ হাজার ৯৯৩ জন ভোটারের শুনানি সম্পন্ন হওয়ার পর তথ্য আপলোড করা হয়েছে। তার মধ্যে শুনানিতে জমা দেওয়া ১১ হাজার ৪৭২ জন ভোটারের নথি গ্রহণযোগ্য হয়নি। ফলে এসব ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে ।
এর আগে খসড়া তালিকা প্রকাশের সময়েই ৫৮ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। কমিশন জানিয়েছিল, ‘নো ম্যাপিং’ তালিকায় থাকা প্রায় ৩২ লক্ষ ভোটারকে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হবে। এছাড়াও লক্ষাধিক ভোটারকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাঁদেরও শুনানিতে হাজির হতে হবে বলে জানায় কমিশন। এখনও পর্যন্ত যা হিসাব, তাতে নদীয়ায় সবচেয়ে বেশি ৯,২২৮ ভোটারের জমা দেওয়া নথি গ্রহণযোগ্য নয় বলে চিহ্নিত করেছে কমিশন। নদীয়ায় ৪ লক্ষ ৯৪ হাজার ৫৩২ জনকে পাঠানোর জন্য নোটিস প্রকাশ করা হয়। তা হাতে পেয়েছিলেন ২ লক্ষ ৯০ হাজার ৯২৩ জন। শুনানি হয়েছিল ১ লক্ষ ২৭ হাজার ১২৭ জনের। দক্ষিণ কলকাতা এবং বাঁকুড়ায় সমস্ত ভোটারের নথিই গ্রহণযোগ্য বলে এখনও পর্যন্ত চিহ্নিত করেছে কমিশন।
৩ মার্চ মায়াপুরের ইসকনে ক্যাম্প করতে চলেছে কমিশন। ইসকনে যেসব বিদেশি ভক্ত ইতিমধ্যে ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাঁদের ভোটাধিকার দেওয়ার জন্য কমিশন এই ক্যাম্প করতে চলেছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল স্বয়ং উপস্থিত থাকবেন সেই ক্যাম্পে। এদিকে, প্রাক্তন সাংসদ তথা ‘মোহনবাগান রত্ন’ টুটু বসুকে এসআইআরের নোটিস পাঠানো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও কমিশন জানিয়েছে, তাঁর ও তাঁর পরিবারের ইনিউমারেশন ফর্মে সমস্যা রয়েছে। টুটুবাবু যেহেতু অসুস্থ, তাই তিনি বাড়িতেই শুনানির আবেদন জানাতে পারেন। এদিকে, নির্বাচনে প্রতিটি বুথে নিরাপত্তার দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল বিজেপি। এনিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।