


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত টানা বৃষ্টি। এই কয়েক ঘণ্টায় প্রায় ২৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে হাওড়া শহরাঞ্চলে। জল-যন্ত্রণায় এমনিতেই শীর্ষে থাকে হাওড়া! মঙ্গলবার শহরবাসীর ভোগান্তি বাড়ল আরও কয়েক গুন। বেলা বাড়লে মাঝেমধ্যে মেঘের ফাঁকে রোদের দেখা মিললেও সন্ধ্যা পর্যন্ত জমা জল সরেনি শহরের সিংহভাগ এলাকা থেকে। ‘গোদের উপর বিষফোঁড়া’ হয়ে ওঠে জোয়ারের ভরা গঙ্গা। হাওড়া পুরসভার ৫০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৮টিরই এদিন কার্যত বানভাসি দশা হয়ে যায়। দ্বিতীয়ার সকালে বহু পুজোমণ্ডপেই জল থইথই অবস্থা। পুজোর আগে মঙ্গলাহাটের শেষ বিকিকিনিও উঠল লাটে।
রবিবার মধ্যরাতেই জলের তলায় চলে যায় উত্তর ও মধ্য হাওড়ার একাধিক ওয়ার্ড। দক্ষিণ হাওড়া ও শিবপুরের বিস্তীর্ণ অংশে জল জমার কারণে বাজার-হাট বন্ধ ছিল বিকেল পর্যন্ত। সবথেকে খারাপ অবস্থা হয় মৈনাক পোড়েল লেন, সীতানাথ বোস লেন, কালীচরণ লেন, ফকির বাগান, বেলগাছিয়া, লস্করপাড়া রোড, টিকিয়াপাড়া, শৈলেন মান্না সরণিতে। পঞ্চাননতলা রোড সংলগ্ন বেশ কয়েকটি মণ্ডপের ভিতরে হাঁটুসমান জল জমে ছিল। সকালে দীর্ঘক্ষণ নবান্নের আশেপাশেও জল জমে থাকতে দেখা যায়। রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে থাকায় যান চলাচল চূড়ান্তভাবে বিপর্যস্ত হয়। সকাল থেকে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর কলকাতামুখী লেন অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। হাওড়া সিটি ট্রাফিকের তরফে কোনা এক্সপ্রেসওয়ে থেকে দূরপাল্লার বাস ও লরিগুলি হ্যাংস্যাং ক্রসিং, শৈলেন মান্না সরণি, টিকিয়াপাড়া বাইপাস, ফাঁসিতলা হয়ে হাওড়া ব্রিজের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। বহু বাসকে কাজিপাড়া থেকে ফোরশোর রোড, রামকৃষ্ণপুর ঘাট রোড, রেল মিউজিয়ামের পাশ দিয়ে হাওড়া ব্রিজের দিকে পাঠানো হয়।
পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একটি দল গঠন করা হয়। সুজয়বাবু বলেন, ‘৭০টি পাম্প সচল রয়েছে। কিন্তু দুপুরে জোয়ার থাকার কারণে পাম্পগুলি চালানো সম্ভব হয়নি। তাই বেশ কিছু এলাকা থেকে জল সরতে সময় লেগেছে। কয়েকটি ওয়ার্ডে পানীয় জল ও শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দল তৈরি রয়েছে। সিইএসসি ও পুরসভার বিদ্যুৎ বিভাগ শহরের ল্যাম্পপোস্টগুলির উপর নজর রাখছে। পাশাপাশি, অতি বিপজ্জনক বাড়িগুলি থেকে বাসিন্দারা যাতে আপাতত অন্যত্র সরে যান, তার জন্য বরো অফিসের তরফে ধারাবাহিক মাইকিং করা হয়েছে।’
হাওড়ার মতো এতটা খারাপ পরিস্থিতি হয়নি বালি এলাকায়। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এদিন সকালে প্রায় তিন ঘণ্টা বেলুড় বাজার এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। বালি পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ রানা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘জল সরাতে লাগাতার ৮টি পাম্প চালানো হয়েছে। কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে পুরসভায়। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে।’
অন্যদিকে, এদিনই ছিল মঙ্গলাহাটের শেষ পুজোর বাজার। মূলত আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে খুচরো ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা ভিড় করেন এই সপ্তাহে। কিন্তু এদিন মডার্ন হাট, ফ্যান্সি হাট, পোড়া হাটের ভিতরেই ছিল এক হাঁটু জল। ফুটপাতেও পসরা সাজিয়ে বসতে পারেননি দোকানদাররা। - নিজস্ব চিত্র