নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: তারাপীঠের পর নিউমার্কেট। ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই যে হোটেলগুলি চলছিল তা প্রকাশ্যে এসেছে। যার পরিণাম প্রাণ দিয়ে চোকাতে হয়েছে বহু মানুষকে। ফলে চিন্তা বাড়ছে অন্যত্র। পর্যটন কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম হল সুন্দরবন। শতাধিক হোটেল ও লজ রয়েছে সেখানে। দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সেখানকার পরিস্থিতি কেমন, খোঁজ করতে গিয়ে সামনে এসেছে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। কারণ বেশিরভাগ হোটেলেই নেই অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। নেওয়া হয়নি ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট। এই ভাবেই দিনের পর দিন, বছরের পর বছর চলছে সুন্দরবনের প্রায় শতাধিক হোটেল। আগুন নেভানোর ব্যবস্থা নেই, সে কথা অবশ্য স্বীকারও করেছেন হোটেল মালিকরা। তবে এ মাসের মধ্যেই ক্যানিং মহকুমায় দমকল বিভাগের কাছ থেকে ফায়ার লাইসেন্স সহ অন্যান্য অনুমতি পত্র সংগ্রহ করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হোটেল মালিকরা। এমনিতেই গোসাবায় কোনো দমকল কেন্দ্র নেই। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে স্থানীয় পুকুর বা জলাশয় থেকে পাম্পের সাহায্যে জল নিয়ে আগুন নেভানোর চল রয়েছে। কিন্তু যেখানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক বেড়াতে আসেন এবং এইসব হোটেলে রাত কাটান সেখানে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা না থাকাটা এক প্রকার আইনবিরুদ্ধ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্রের খবর, মাস দেড়েক আগে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা দমকল বিভাগ থেকে হোটেলগুলিকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। যাদের কোনো ফায়ার সেফটি লাইসেন্স নেই তাদের অবিলম্বে যাবতীয় অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থা করে এই শংসাপত্র নেওয়ার আবেদন জানানো হয় তাতে। রাজি হয়েছেন সব হোটেল মালিকরাই। তবে সার্টিফিকেট নেওয়ার আগে যেসব কাজ করা প্রয়োজন, তা করতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা। পাখিরালয় হোটেল ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক জয়দেব খাটুয়া বলেন, আমরা সরকারের আইন মানতে রাজি। দমকল থেকে আমাদের চিঠিও করা হয়েছে। আমরা কয়েকদিন সময় চেয়েছি। এ মাসের মধ্যেই যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ মিটিয়ে ফেলা হবে বলে আমরা আশা করছি। নিজস্ব চিত্র



