মস্কো: আমেরিকার দু’টি সাবমেরিনকে রুখতে পর্যাপ্ত পরমাণু ডুবোজাহাজ রয়েছে রাশিয়ার। এভাবেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির জবাব দিল মস্কো। শুক্রবার রুশ সংবাদমাধ্যমকে পার্লামেন্ট ডুমার সদস্য ভিক্টর ভোডোলাটস্কি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন মহাসাগরে আমেরিকার তুলনায় অনেক বেশি পরমাণু অস্ত্রবাহী সাবমেরিন রাশিয়ার রয়েছে।’ শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে প্রাক্তন রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্যে ট্রাম্প ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, এর জবাবে রাশিয়ার নাকের ডগায় ‘যথাযথ’ স্থানে দু’টি মার্কিন পরমাণু সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ ভিক্টর। রুশ আইনপ্রণেতা বলেন, ‘উনি যথাযথ বলে যে জায়গার কথা বলছেন, তা দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে।তাই বিষয়টি নিয়ে রুশ প্রশাসনের কিছু মন্তব্য করার নেই।’ কিছুটা হাল্কা চালে তিনি বলেছেন, ‘মার্কিন সাবমেরিন দু’টি একটু আধটু ভেসে বেড়াক। অনেকদিন ধরে তো বসেছিল।’ পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পক্ষেও সওয়াল করেন ভিক্টর। এব্যাপারে তিনি বলেছেন, ‘রাশিয়া আর আমেরিকার মধ্যে একটা মৌলিক চুক্তি হওয়া দরকার। তাহলে গোটা বিশ্ব বিশ্ব শান্তিতে থাকতে পারবে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে যাবতীয় জল্পনাও বন্ধ হবে।’ মার্কিন শুল্কনীতি নিয়ে কয়েকদিন ধরেই ট্রাম্প-দিমিত্রি বাকযুদ্ধ চলছে। সম্প্রতি ভারত ও রাশিয়ার অর্থনীতিকে ‘মৃত’ আখ্যা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রুশ নিরাপত্তা পরিষদের অন্যতম সদস্য দিমিত্রিকে ‘ব্যর্থ’ প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বলে কটাক্ষ করেন তিনি। চুপ করে বসে থাকেননি দিমিত্রি। হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়েছিলেন, আমেরিকা যে নীতি নিয়ে এগচ্ছে তার জেরে যুদ্ধ হতে পারে। ‘মৃত’ অর্থনীতির জবাবে ঠান্ডা যুদ্ধের সময়কার রুশ পরমাণু অস্ত্রসম্ভারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। এরপরই রাশিয়ার কাছে পরমাণু সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ফিয়োডর লুকিয়ানভ। তাঁর কথায়, ‘ট্রাম্প আবেগতাড়িত হয়ে কথা বলেন। আমার মনে হয়ে, ট্রাম্পের ওই নির্দেশে মার্কিন সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরাও রীতিমতো অবাক হয়েছেন।’



