মস্কো ও নয়াদিল্লি: রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনা ভারত বন্ধ করছে, নয়াদিল্লির তরফে এমন কোনো সরকারি বিবৃতি আমাদের নজরে আসেনি। মার্কিন-ভারত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এমনই বার্তা দিল মস্কো। মঙ্গলবার তারা বলেছে, ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে তুলতে আগ্রহী রাশিয়া।
উল্লেখ্য, সোমবার রাতে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সূত্রেই তাঁর দাবি ছিল, রাশিয়া থেকে ভারত তেল কেনা থামাচ্ছে। বদলে আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলা থেকে আরও তেল কিনবে নয়াদিল্লি। তাই ভারতীয় পণ্যে শুল্কের পরিমাণ কমিয়ে ১৮ শতাংশ করছে আমেরিকা। ট্রাম্পের সেই দাবির পরের দিনই মস্কো জানিয়ে দিল, রুশ তেল কেনা বন্ধ করার ব্যাপারে ভারত সরকারিভাবে কিছু জানায়নি।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার উপর পশ্চিমের দেশগুলি নিষেধাজ্ঞা চাপায়। রাশিয়া তাদের তেলের দরে ছাড় দেওয়ায় ভারত রুশ তেলের অন্যতম বড় আমদানিকারী হয়ে উঠে। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, তেল কেনার মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে পরোক্ষে সহায়তা করছে ভারত। রুশ তেল কেনা বন্ধ করার জন্য ভারতের উপর চাপ বাড়ায় আমেরিকা। সেই সূত্রেই গত এক বছর ধরে সঙ্গে বাণিজ্য ক্ষেত্রে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়। ভারতের উপর প্রথমে ২৫ শতাংশ পালটা শুল্ক চাপায় ওয়াশিংটন। এরপর রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘জরিমানা’ হিসাবে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। সংঘাতের আবহেই ঝুলে ছিল ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণাও। তারই মধ্যে কয়েকদিন আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথা ঘোষিত হয়। দীর্ঘ স্নায়ুর লড়াই ও তীব্র কূটনৈতিক দর কষাকষির মধ্যেই শেষ পর্যন্ত সোমবার রাতে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি পাকা। যদিও রাশিয়া থেকে ভারত তেলা কেনা বন্ধ করছে বলে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, এদিন তা কার্যত উড়িয়েই দিল মস্কো। এদিন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আবহে ট্রাম্পের মন্তব্য সর্তকতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করে দেখছে রাশিয়া। আমরা ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সম্মান করি। তবে ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার কৌশলগত সম্পর্কের অগ্রগতিও আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।