Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাত ছেড়ে জোড়াফুলে মোশারফ

হাত ছেড়ে জোড়াফুলে মোশারফ
  • ২৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ফের কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে এলেন মোশারফ হোসেন ওরফে মধু। ২০১৩ সালে কংগ্রেসের টিকিটে পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলা পরিষদের কৃষি ও সমবায় দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ হন তিনি। ২০১৬ সালে তৃণমূলে যোগ দেন নওদার ওই নেতা। ২০১৮ সালে তিনি তৃণমূলের জেলা পরিষদের সভাধিপতি নির্বাচিত হন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে হাওয়া বুঝে তিনি ফের কংগ্রেসে যোগদান করেন। কংগ্রেসের টিকিটে তিনি বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করেন। পরাজয়ের পর কংগ্রেসের সঙ্গেই এতদিন ছিলেন। কিছুদিন আগেও জেলা পরিষদের সামনে মঞ্চ বেঁধে অধীর চৌধুরীর সঙ্গে এক মঞ্চে থেকে তৃণমূল সরকারকে লাগাতার আক্রমণ করেন। কয়েক মাস যেতে না যেতেই সদলবলে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিলেন তিনি।

Advertisement

বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা কার্যালয়ে কয়েক হাজার কর্মী সমর্থককে নিয়ে এদিন বেশ কয়েকজন নেতা কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেন। যোগদান করিয়েছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার, বিধায়ক নিয়ামত শেখ, হাসানুজ্জামান, হুমায়ুন কবীর প্রমুখ। মধুর পাশাপশি এদিন যোগদান করেন কংগ্রেসের জেলা পরিষদের সদস্য রিজিয়া খাতুন, বেলডাঙা-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আজাদ মণ্ডলও, ডোমকল শহরের কংগ্রেসের টাউন সভাপতি প্রদীপ চাকি। 
মধু সাহেব এদিন বলেন, মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ কংগ্রেস। এখানকার কংগ্রেস মানুষের আন্দোলন নিয়ে কথা বলে না। কংগ্রেস বিজেপির সুরে কথা বলে। একসময় তৃণমূলে ছিলাম। এই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সভাধিপতি হয়ে অনেক কাজ করেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতকে শক্ত করতে তৃণমূল এলাম। 
অপূর্ববাবু বলেন, কয়েক হাজার মানুষ এদিন যোগদান করেছে। সম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ও ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য আমরা একত্রিতভাবে সকলে মিলে লড়াই করব। 
কংগ্রেস মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন, মধু জোড়া ফুলে যাওয়ায় কংগ্রেস হাফ ছেড়ে বাঁচল। বাঁশের মধ্যে ঘুন ধরলে সেই বাঁশ খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। মধুও তেমন ছিল। এত বড় যদি পালোয়ান হতো, তাহলে নিজে হারল কেন। কংগ্রেসের সংগঠন বাড়াতে পারেনি কেন? তৃণমূলের থেকে ঘাড় ধাক্কা খেয়েছিল বলে কংগ্রেস ফের দলে নিয়েছিল। কংগ্রেসের হৃদয় বড় বলেই ওকে দলে নেওয়া হয়েছিল। আজ কংগ্রেস স্বস্তি পেল।  
যদিও এদিনের যোগদান সভায় দেখা যায়নি তৃণমূলের নওদা ব্লক সভাপতি সফিউজ্জামান শেখকে। তাঁর মামা তথা মুর্শিদাবাদ লোকসভার সাংসদ আবু তাহের খানও এদিন যোগদান অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন না। 
অপূর্ববাবু বলেন, কারও সঙ্গে কারও মতানৈক্য থাকতে পারে, কিন্তু মতবিরোধ নেই। নির্বাচন আসবে যখন, তখন দেখতে পাবেন, সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুর্শিদাবাদের মানুষ একসঙ্গে লড়বে। নওদার জেলা পরিষদের সদস্য রিজিয়া বলেন, কংগ্রেস আমাকে কোনও কাজই করতে দিত না। জনসাধারণকে আমি কিছুই দিতে পারিনি। তাই তৃণমূলে এলাম। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ