Bartaman Logo
১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নজরে শুভেন্দুর গতিবিধিও! বর্ধমানে গ্রেপ্তার জয়েশ জঙ্গি

২০১৪ সালের খাগড়াগড় কাণ্ডের স্মৃতি বঙ্গবাসীর মন থেকে এখনও মুছে যায়নি। সেই ঘটনার ১২ বছর পর ফের জঙ্গিযোগে নাম জড়াল বর্ধমানের।

নজরে শুভেন্দুর গতিবিধিও!  বর্ধমানে গ্রেপ্তার জয়েশ জঙ্গি
  • ১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ২০১৪ সালের খাগড়াগড় কাণ্ডের স্মৃতি বঙ্গবাসীর মন থেকে এখনও মুছে যায়নি। সেই ঘটনার ১২ বছর পর ফের জঙ্গিযোগে নাম জড়াল বর্ধমানের। বৃহস্পতিবার বর্ধমানের রেনেসাঁ উপনগরীতে অভিযান চালিয়ে জঙ্গি সন্দেহে হামিম মণ্ডল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ। সে কুখ্যাত পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদের সক্রিয় সদস্য বলেই অভিযোগ। এসটিএফ সূত্রে খবর, পাকিস্তানি জঙ্গি শাহজাদ ভাট্টি ও লস্করের সাজ্জাদ গুল ঘনিষ্ঠ হামিম। বর্ধমানে বসেই সে নতুন একটি জঙ্গি মডিউল তৈরির কাজ করছিল। ধৃত হামিমের মূল কাজ ছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ রাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রী এবং জনপ্রতিনিধির গতিবিধির উপর নজর রাখা। সেই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য একটি অ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো হত পাকিস্তানে। সেখান থেকে যেমন নির্দেশ আসত, হামিম সেইমতো কাজ করত। অর্পিতা নামে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা এক সুন্দরী বাঙালি তরুণীকে হানিট্র্যাপ হিসাবেও ব্যবহার করছিল সে। চলতি মাসেই হামিম হাওড়ায় বড়ো একটি ‘অপারেশনে’র টার্গেট নিয়েছিল। টার্গেট ছিল ওই জেলার বাসিন্দা রাজ্যের এক মন্ত্রী ও তাঁর এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। দু’জনকেই খুন করার ছক কষেছিল ওই সন্দেহভাজন জঙ্গি। কিন্তু, তার আগেই সে এসটিএফের জালে ধরা পড়ে। ধৃতের কাছ থেকে দু’টি মোবাইল সহ বেশ কিছু ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে ১৪ দিনের হেপাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছে এসটিএফ। পরে হামিমকে তুলে দেওয়া হতে পারে এনআইএর হাতে। 

Advertisement

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, তিনমাস আগেই জাতীয় সড়কের পাশে রেনেসাঁয় ১০ হাজার টাকা দিয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন হামিমের বাবা। তাঁদের আদি বাড়ি মন্তেশ্বরের কুসুমগ্রামে। যদিও গোটা পরিবার থাকত হাওড়ার পিলখানায়। ২৪ বছর বয়সি হামিমের জন্মও হয়েছে সেখানে। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর সে কলেজে ভরতি হয়েছিল। কিন্তু, তারপর আর পড়াশোনা করেনি। বাবা হাওড়ায় ‘ডায়োগ্রাফ’ অর্থাৎ বারকোড তৈরির কাজ করতেন। হামিমও মাঝেমধ্যে তাঁকে সাহায্য করত। এদিন হামিমের এক আত্মীয় বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই ওর হাবেভাবে সন্দেহ হত। সব সময় মোবাইলে চ্যাট করত। কারও সঙ্গে তেমন কথা বলত না। ছেলে খারাপ কোনো কাজের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে বলে অনুমান করেছিল হামিমের বাবাও। সেই কারণেই তারা হাওড়া থেকে বর্ধমানে এসে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে।’ বাবা-মা ছাড়াও বাড়িতে এক বোন রয়েছে হামিমের। প্রতিবেশীদের দাবি, সে নিজের কাজের ব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করত। কাউকে বলত, কলকাতায় আইটি সেক্টরে কাজ করে। আবার কাউকে বলেছিল, তার ব্যবসা রয়েছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, হামিম কারও সঙ্গেই তেমন কথা বলত না। তার বাবা বর্ধমান থেকে প্রতিদিন হাওড়ায় যাতায়াত করতেন। হামিমও প্রায়ই কলকাতা যেত। মোটরবাইক চালিয়েও কয়েকবার সে কলকাতা ও হাওড়া গিয়েছে। 
এসটিএফের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ার একাধিক গ্রুপের মাধ্যমে পাকিস্তানি জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত হামিম। পাকিস্তান থেকে তার কাছে টাকা আসত কি না, সেটা গোয়েন্দারা তদন্ত করে দেখছেন। এসটিএফের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভাট্টি ও গুলের সঙ্গে হামিমের যোগাযোগ ছিল। এরাজ্যে কয়েকটি অপারেশনের পর পাকিস্তানেও যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল সে।     নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ