Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিচারাধীন তালিকা থেকে অর্ধেকেরও বেশি নাম বাদ, উত্তর ২৪ পরগনায় উদ্বেগ

উত্তর ২৪ পরগনায় এসআইআরে বিচারাধীন তালিকা ঘিরে যে স্ক্রুটিনি চলছে, তার সাম্প্রতিক হিসাব সামনে এসেছে

বিচারাধীন তালিকা থেকে অর্ধেকেরও বেশি নাম বাদ, উত্তর ২৪ পরগনায় উদ্বেগ
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: উত্তর ২৪ পরগনায় এসআইআরে বিচারাধীন তালিকা ঘিরে যে স্ক্রুটিনি চলছে, তার সাম্প্রতিক হিসাব সামনে এসেছে। আর তাতেই মাথায় হাত মানুষের। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলছেন মানুষ। তৃণমূলের অভিযোগ, এই যাচাই আসলে গণছাঁটাই। ফলে ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য বলছে, উত্তর ২৪ পরগনায় মোট বিচারাধীন ভোটার ছিলেন ৫ লক্ষ ৯১ হাজার ২৫২ জন। সোমবার রাতে সেই তালিকার ‘রায়’ ঘোষণা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, মোট ভোটারের মধ্যে ৫ লক্ষ ৯০ হাজার ৭৪৩ জনের স্ক্রুটিনি সম্পন্ন। কিন্তু তার ফলাফল এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে ‘যোগ্য’ বলে বিবেচিত হয়েছেন মাত্র ২ লক্ষ ৬৫ হাজার ৭৭ জন। বাদ পড়েছেন ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৬৬ জন ভোটার। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি আবেদনকারী এক ধাক্কায় তালিকার বাইরে। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে আগের পরিসংখ্যান। 

Advertisement

এই জেলায় তালিকা থেকে আগেই বাদ পড়েছিল ৮ লক্ষ ৩৪ হাজার ২৯৭ জন। সব মিলিয়ে ভোটারের স্বীকৃতি হারালেন ১১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৯৬৩ জন। এই বিপুল বিয়োজনকে কেন্দ্র করেই প্রশ্ন উঠছে। একি নিছক নিয়ম মেনে যাচাই, নাকি কোথাও পদ্ধতিগত গলদ? শাসকদলের একাংশের দাবি, যাচাইয়ের নামে অতিরিক্ত কড়াকড়ি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যার ফল ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তাঁদের অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিরাও বাদ পড়েছেন। নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা সামনে না আসায় জল্পনা আরও বাড়ছে। জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, বিচারাধীন ভোটারদের মধ্যে বেশি বাদ পড়েছে বনগাঁয়। তবে, বনগাঁ মহকুমায় কত নাম বাদ পড়েছে, তা অবশ্য খোলসা করছে না দপ্তর। সেই সঙ্গে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাতেও প্রচুর নাম ‘অযোগ্য’ বলে বাদ দিয়েছে কমিশন। ফলে, রাজ্যে নাম বাদের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। 
প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, সব কিছুই নিয়ম মেনে হচ্ছে। জেলার ৮,৩৩৭টি পার্টের মধ্যে ৭,১৬০টির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। বাকি অংশ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— যে প্রক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ নাম বাদ পড়ছে, সেখানে জবাবদিহি কোথায়?
প্রসঙ্গত, বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে সরব তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কমিশন ভুল করেছে। আর এর ফল ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তাঁর প্রশ্ন, একসঙ্গে এত মানুষ অযোগ্য হয়ে যায় কী করে? স্বভাবতই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ