Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

ঘুমের আগে মোবাইল, আসক্ত ৯০ শতাংশের বেশি, ফোনের স্ক্রিনেই রাতকাবার ভারতবাসীর

ঘুমের আমি, ঘুমের তুমি, ঘুম দিয়ে যায় চেনা! হ্যাঁ, শুধু গোঁফ নয়, ঘুম দিয়েও বিলক্ষণ চেনা যায় মানুষকে।

ঘুমের আগে মোবাইল, আসক্ত ৯০ শতাংশের বেশি, ফোনের স্ক্রিনেই রাতকাবার ভারতবাসীর
  • ২৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘুমের আমি, ঘুমের তুমি, ঘুম দিয়ে যায় চেনা! হ্যাঁ, শুধু গোঁফ নয়, ঘুম দিয়েও বিলক্ষণ চেনা যায় মানুষকে। চোখের নীচে কালি, ক্লান্তিভাব, কাজ করতে করতে হাই তোলা, অবসন্ন ভাব— উপসর্গ নেহাত কম নয়। চিকিৎসক-মনোবিদরাই বলছেন, শরীরকে ‘ডিটক্স’ করতে ঘুমের চেয়ে ভালো ওষুধ আর নেই! কিন্তু কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা, বাংলা থেকে বেলগাঁওতে মানুষের শান্তির নিদ্রাই যে এখন বিপন্ন! হবে না কেন? দিন শেষে বিছানায় এলিয়ে শরীরকে পরিপূর্ণ বিশ্রাম দেওয়ার আগে যে স্মার্টফোন ঘেঁটে চলেছেন দেশের ৯০ শতাংশ মোবাইল ব্যবহারকারী! ফলে কয়েক ইঞ্চির স্ক্রিনের দিকে তাকিয়েই হয়ে যাচ্ছে রাতকাবার। গত তিন বছর ধরে দেখা যাচ্ছে এই প্রবণতা। আর সার্বিকভাবে? দেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ ব্যবহারকারী ঘুমের আগে ফোন দেখে চলেছেন। অবশ্য এই দোষে বেশিই দুষ্ট গুরুগ্রাম (৯৪ শতাংশ) ও বেঙ্গালুরুর (৯০ শতাংশ) বাসিন্দারা। ঘুমের আগে ফোনের নেশায় কারা বেশি মগ্ন? উত্তরটা সোজা, ২৫-৩০ বছর বয়সিরা। ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান স্লিপ ক্রাইসিস’ শীর্ষক এক সমীক্ষা থেকে সম্প্রতি উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য। 

Advertisement

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষজনকে নিয়ে করা এই সমীক্ষা থেকে জানা যাচ্ছে চমকে দেওয়ার মতো আরও তথ্য। অংশগ্রহণকারীদের ৫৮ শতাংশই জানিয়েছেন, তাঁরা রাত ১১টার পর ঘুমোতে যান। এব্যাপারে দেশে সবচেয়ে এগিয়ে কলকাতা। এখানকার প্রায় ৭৩ শতাংশ শহরবাসীরই দাবি, তাঁরা ঘুমোতে যান রাত ১১টা পর। তুলনায় হায়দরাবাদ ও চেন্নাইতে কিছুটা কম সংখ্যক—৫৮ শতাংশ মানুষ রয়েছেন এই তালিকায়। মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, পুরুষ না মহিলা, কাদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি? জানা যাচ্ছে, মহিলাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই রাত্রি ১১টার পর ঘুমোতে যান। আর প্রায় অর্ধেকই সকালে উঠে ক্লান্তিতে ভোগেন। পুরুষের ক্ষেত্রে সেই হার হল ৪২ শতাংশ। 
বেশি রাত করে ঘুমানোর ফল কী হচ্ছে? বলা বাহুল্য, দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা। অন্তত ১৮ শতাংশ মানুষ ঘুম থেকে উঠছেন সকাল ৯টার পর। ৪৪ শতাংশ বিছানা ছাড়ার পর মনে করছেন, খুব একটা ফ্রেশ লাগছে না। এই পরিসংখ্যান সবচেয়ে বেশি কলকাতা ও চেন্নাইতে, ৫৬ শতাংশ। বেঙ্গালুরুতে তা ৫৪ শতাংশ।     
ঘুম কত গাঢ় হচ্ছে? আড্ডাবাজ বাঙালি মাঝেমধ্যেই দুঃখ করেন, রাতে বারবার তন্দ্রা ভাঙে তাঁদের। সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, এতে অংশগ্রহণকারী পুরুষদের মধ্যে অন্তত ৯ শতাংশ এবং মহিলাদের অন্তত ১৩ শতাংশের রাতে তিনবারের বেশি ঘুম ভাঙছে!
এপ্রসঙ্গে বিশিষ্ট মনোবিদ ডঃ অমিত চক্রবর্তী বলেন, রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা—এই ৮ ঘণ্টা সময়সীমার ঘুমই হল আদর্শ। বর্তমানে সিংহভাগ মানুষই এই নিয়ম মানছেন না। রাতে শুতে যাওয়ার আগে ফোন ঘাঁটার অর্থ হল, মস্তিষ্ককে সজাগ ও উত্তেজিত রেখে দেওয়া। আগে আমরা বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়তাম। মস্তিষ্ক তখন সিগন্যাল পেত, এবার ঘুমোতে যেতে হবে। এখন মস্তিষ্ক রাতে সঙ্কেত পাচ্ছে, জাগতে হবে। ওটিটির পরবর্তী সিজন দেখা যে বাকি!  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ