Bartaman Logo
২৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৭০টির বেশি লাশ অব্যবস্থা উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে, মর্গের ফ্রিজার অকেজো, পচা গন্ধে প্রাণ ওষ্ঠাগত

সকলেই ভোট নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। তার জেরে চরম অব্যবস্থার ছবি ধরা পড়ল উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে

৭০টির বেশি লাশ অব্যবস্থা উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে, মর্গের ফ্রিজার অকেজো, পচা গন্ধে প্রাণ ওষ্ঠাগত
  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শিলিগুড়ি, সংবাদদাতা: সকলেই ভোট নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। তার জেরে চরম অব্যবস্থার ছবি ধরা পড়ল উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে। গত চার দিন ধরে মর্গের ফ্রিজার অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে, অথচ বারবার জানানো সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট সংস্থা তা মেরামত করতে আসেনি। 

Advertisement

ফ্রিজার বিকল থাকার ফলে মর্গে রাখা মৃতদেহগুলিতে পচন ধরেছে এবং সেই পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। সোমবার পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে সুপার স্পেশালিটি ব্লক পর্যন্ত দুর্গন্ধে দাঁড়িয়ে থাকা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। দুর্গন্ধের মধ্যে বাধ্য হয়েই মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মর্গের সামনে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। নাজেহাল অবস্থায় পড়েন পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। মাস্কে সুগন্ধি ব্যবহার করেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। 
মর্গ কর্মীদের দাবি, গত চার দিন ধরেই ফ্রিজার খারাপ থাকায় মৃতদেহ দ্রুত পচে যাচ্ছে। গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিয়েছে বেওয়ারিশ মৃতদেহের চাপ। নির্বাচনি ব্যস্ততার কারণে গত এক মাসে জেলা প্রশাসন মর্গ থেকে বেওয়ারিশ দেহ সরানোর ব্যবস্থা করেনি। বর্তমানে মর্গে ৭০টিরও বেশি মৃতদেহ জমে রয়েছে। 
উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান ডাঃ রাজীব প্রসাদ এই সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, গত চার দিন ধরে ফ্রিজার কাজ করছে না। আমরা চিঠি দিয়েছি, কিন্তু নির্বাচনের অজুহাতে সংশ্লিষ্ট এজেন্সি এখনও মেরামত করতে আসেনি। এর ফলে মৃতদেহ পচে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ভোটের ব্যস্ততার কারণে প্রশাসন এই সময়ে বেওয়ারিশ দেহ সরাবে না ধরে নিয়ে গত মাসে আমরা চিঠি করিনি। প্রথম দফার ভোট পর্ব শেষ হওয়ায় আবার জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে ফ্রিজার মেরামত না হলে আগামী দিনে এখানে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি স্বাস্থ্যভবনেও জানানো হয়েছে। এখন প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছি আমরা। • মর্গের বাইরে মাস্কই ভরসা। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ