নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: রানিনগর বিধানসভায় সাড়ে ছ’হাজারের বেশি ভুয়ো ভোটারের সন্ধান মিলেছে। বাংলার ভোট রক্ষার অভিযানে ভুয়ো ভোটার ধরতে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রতিটি বুথে এজেন্ট পাঠিয়ে ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে শাসকদল। দিল্লি ও মহারাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোটার বাড়িয়ে ভোটে কারচুপি করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। এমনটাই দাবি করেছে তৃণমূল। এদিন বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন জেলা তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার, চেয়ারম্যান রবিউল আলম চৌধুরী, বর্ষীয়ান নেতা অশোক দাস, আব্দুল মাতিন প্রমুখ। সেখানেই তৃণমূল নেতৃত্ব এবিষয়ে সরব হয়। তাদের দাবি, সীমান্তবর্তী রানিনগর বিধানসভায় ব্যাপক ভুয়ো ভোটার নজরে এসেছে। একই এপিক নম্বরে এরাজ্যের পাশাপাশি অন্য রাজ্যের বাসিন্দার হদিশ মিলেছে।
অপূর্ববাবু বলেন, মুর্শিদাবাদে বহিরাগতদের ঢোকানো হয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে অনেকেই এসেছে। বিভিন্ন জায়গায় সেই রিপোর্ট প্রকাশ হচ্ছে। রানিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে ছ’হাজারের বেশি ভুয়ো ভোটার মিলেছে। সেগুলি সংশোধিত করার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন ভোটার তালিকা যাচাই হচ্ছে। আমরা চাইছি, শুধু বাংলার মানুষই যেন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। এটি আমাদের বাংলার গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। এটি শুধু রাজনৈতিক কাজ নয়, একটি আন্দোলন। ভোটার বৃদ্ধির কারণে দু’টি রাজ্য দখল করেছে বিজেপি। আগামীতে বিজেপির লক্ষ্য এই রাজ্য দখল করা। বাংলার প্রকৃত ভোটাররা যাতে ভোট দিতে পারেন, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা নষ্ট করার যে চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই।
জানা গিয়েছে, তৃণমূলের তরফে বুথ লেভেল এজেন্টরা কাজ করা শুরু করেছে। জেলাস্তরে যেমন কাজ হচ্ছে, তেমনই ব্লক ও শহরে কাজ হচ্ছে। বুথ লেভেল এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যাতে স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করা যায়। প্রথমবার রাজ্যের শাসকদলের তরফে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী বিধানসভা পর্যন্ত এই কাজ চলবে।