Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিদেশে আটকে মুর্শিদাবাদের ৪০ জনেরও বেশি শ্রমিক

দেশের বাইরে কাজে গিয়ে বারবার বিপদে পড়ছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। ফিরতে পারছেন না নিজভূমে। কেউ আটকে পড়েছেন মালিকের রোষানলে পড়ে। আবার কেউ আটকে পড়েছেন বিদেশের জেলে।

বিদেশে আটকে মুর্শিদাবাদের ৪০ জনেরও বেশি শ্রমিক
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: দেশের বাইরে কাজে গিয়ে বারবার বিপদে পড়ছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। ফিরতে পারছেন না নিজভূমে। কেউ আটকে পড়েছেন মালিকের রোষানলে পড়ে। আবার কেউ আটকে পড়েছেন বিদেশের জেলে। বন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন মুর্শিদাবাদের প্রায় ২০জন পরিযায়ী শ্রমিক। সৌদি আরব, দুবাই, কুয়েতের মতো দেশে জেলবন্দি হয়ে দিন কাটাচ্ছেন অসহায় শ্রমিকরা। দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারের লোকজনের। কীভাবে তাঁরা জেল থেকে বেরিয়ে দেশে ফিরবেন তা নিয়েই উৎকণ্ঠা বাড়ছে। 

Advertisement

এক মালিকের হয়ে কাজ করে বেতন না মেলায় অন্য কারও কাছে কাজ করলে বিপদ বাড়ছে। বেতন না দেওয়া মালিক ওইসব শ্রমিকদের নামে নানা অভিযোগ জানিয়ে পুলিসের দ্বারস্থ হচ্ছেন। না হলে এনওসি আটকে দিচ্ছেন। ফলে, দেশে ফিরতে সমস্যায় পড়ছেন শ্রমিকরা। এমন নানা সমস্যায় জড়িয়ে ১৮জন পরিযায়ী শ্রমিক দেশে ফিরতে পারছেন না বলে জানা গিয়েছে। 
বহরমপুরের বাসিন্দা জিনারুল শেখ ২০১৮সালে সৌদি আরবে কাজে গিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি নিখোঁজ হয়েছেন বলে বাড়ির লোক জানতে পারে। বিভিন্নভাবে ভারতীয় হাই কমিশনের কাছে অভিযোগ জানান ওই শ্রমিকের পরিবার। পরে হাইকমিশন জানায়, তিনি জেলে আছেন। চলতি বছর ২৮জুন তাঁর জেলমুক্তির খবর হাইকমিশন জানিয়েছিল। কিন্তু, তারপর দু’মাস হতে চলল, তিনি এখনও বাড়ি ফেরেননি। 
কান্দি থানার বাসিন্দা গোলাম আম্বিয়া সৌদি আরবে জেলে আটকে রয়েছেন। এক বছর ধরে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ নেই। বহরমপুর থানার বাসিন্দা এসএ ইসলাম মালয়েশিয়া থেকে ফিরতে পারছেন না। কারণ, প্রথমে তিনি যাঁর কাছে কাজে যান ওই মালিক বেতন দিতেন না। সেজন্য অন্য জায়গায় কাজে লেগেছিলেন। এরপর প্রথম মালিক তাঁকে এনওসি না দেওয়ায় দেশে ফিরতে সমস্যায় পড়েছেন তিনি। এমনই শোচনীয় অবস্থা আরও অনেক পরিযায়ী শ্রমিকের। হরিহরপাড়ার খিদিরপুরের বাসিন্দা সাফিকুল শেখকেও বিদেশের জেলে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। পুলিস তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়েছে বলে পরিবার জানতে পারে। জেল থেকে প্রায় তিন মাস ফোনও করতে দেয়নি। অবশেষে বহরমপুরের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে অভিযোগ জানায় পরিবার। কিছুদিন পর বাড়িতে ফোন করতে দেওয়া হয় তাঁকে। আইনি জটিলতা কাটিয়ে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন তিনি। 
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার মতিউর রহমান বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলার ২০ জন পরিযায়ী শ্রমিক বিদেশের জেলে বন্দি রয়েছেন। আরও ১৮জন নানা কারণে দেশে ফিরতে পারছেন না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ