Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুর হাসপাতালে আসা তিনশোর বেশি মহিলাকে নার্সিংহোমে প্রসবে বাধ্য‌ করানোর অভিযোগ!

পুরসভার হাসপাতালের পরিবর্তে সন্তানসম্ভবা মহিলাকে নার্সিংহোমে সিজারের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল চিকিৎসকের বিরুদ্ধে

পুর হাসপাতালে আসা তিনশোর বেশি মহিলাকে নার্সিংহোমে প্রসবে বাধ্য‌ করানোর অভিযোগ!
  • ১১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পুরসভার হাসপাতালের পরিবর্তে সন্তানসম্ভবা মহিলাকে নার্সিংহোমে সিজারের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। শোরগোল হতেই ওই চিকিৎসককে শো-কজ করা হয়। তাঁর উত্তরে সন্তুষ্ট হতে পারেনি দক্ষিণ দমদম পুর কর্তৃপক্ষ। গত এক বছরে হাসপাতালের ডেলিভারি রিপোর্ট দেখিয়ে ফের শো-কজের চিঠি ধরানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে ওই চিকিৎসক চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্রুত নতুন স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

Advertisement

২০১৩ সাল থেকে দক্ষিণ দমদম পুরসভা হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন দীপক দাস। তিনি স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। তাঁর বিরুদ্ধে পুরসভার হাসপাতালে প্রসব না করিয়ে বাইরের নার্সিংহোমে সিজার করানো, নিয়মিত হাসপাতালে না আসার মতো নানা অভিযোগ উঠেছিল। ১৫ জানুয়ারি পুরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদ গেটের এক গৃহবধূকে পুরসভার হাসপাতালে তিনি সিজার করাতে চাননি বলে অভিযোগ। পরিবর্তে ৪০ হাজার টাকায় স্থানীয় নার্সিংহোমে সিজার করানোর প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ। অথচ, কয়েক মাস ধরে তিনি ওই গৃহবধূর চিকিৎসা করছিলেন। এনিয়ে পুরসভায় অভিযোগ হওয়ায় দীপকবাবুকে শো-কজ করা হয়েছিল। দীপকবাবু জানান, অভিযোগ ভিত্তিহীন।
এরপর পুরসভার তরফে গত ১০ মাসে হাসপাতালের চিকিৎসকদের রোগী দেখা ও সিজারের তালিকা বের করা হয়। তাতে দেখা যায়, দীপকবাবু ২০২৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত আউটডোরে মোট ১,৪৯৯ জন রোগী দেখেছেন। তারমধ্যে ৩৯৪ জন সন্তানসম্ভবা মহিলা ছিলেন। অথচ, তাঁদের মধ্যে তিনি মাত্র সাতজনকে সিজার করিয়েছেন। অন্যান্য অপারেশন করিয়েছেন ১৬ জনকে। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, সাধারণত গর্ভাবস্থার প্রথম দিন থেকে  মায়েরা একই চিকিৎসকের কাছে যান। তাহলে এত কম সংখ্যক সিজার কেন হল? ওইসব প্রসূতিদের সিজার কোথায় হয়েছে? এমন নানা প্রশ্নের উত্তর চাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।  তিনশো জনের বেশি প্রসূতিকে নার্সিংহোমে পাঠানো হয়েছে বলে মনে কার হচ্ছে।  তার আগে তিনি পদত্যাগপত্র পাঠান। সিআইসি মিটিংয়ে তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে। 
 দীপক দাস বলেন, ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি। আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়েছিল। পুরসভার সিআইসি (স্বাস্থ্য)  সঞ্জয় দাস বলেন, ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আগেও এমন বহু অভিযোগ উঠেছিল। সতর্ক করে লাভ হয়নি। এবার অভিযোগ ওঠার পর তিনি নিজে থেকেই পদত্যাগ করেছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ