কাঠমাণ্ডু, ৩০ আগস্ট: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বানের ঘটনা কেটে গিয়েছে ৪ দিন। এখনও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতদের সংখ্যা। যার মধ্যে এখনো ২৭৫ জনেরও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি ১২৮ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরও এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। শনিবার বিদেশ মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত নেপালে ১০৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। আগে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া প্রায় ৫০ জন ভারতীয়র সঙ্গেও নতুন করে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। মোট নিখোঁজ ২০০০-এর বেশি মানুষ।
অন্যদিকে, গত দু’দিনে চীন থেকে ৫৯৮ জন ভারতীয় নিরাপদে নেপালে প্রবেশ করেছেন বলে চীনের স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রায় ৯০০ জন ভারতীয় এখনও চীনের ভূখণ্ডে রয়েছেন। তবে তাঁরা নিরাপদ এবং তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় রাসুয়া জেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে সংকটজনক এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে। সেখানকার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে চার ভারতীয় উদ্ধার হয়েছেন। তাঁদের শীঘ্রই কাঠমান্ডুতে পৌঁছনোর কথা রয়েছে। নেপালি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৫ হয়েছে। আরও মৃতদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি এখনও জোরকদমে চলছে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান।
এদিকে শুক্রবার গভীর রাতে ভারতীয় বায়ুসেনা নেপালে ১১ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। এটি নেপালের উদ্দেশে ভারতের পাঠানো চতুর্থ দফার ত্রাণ। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, ওই বিমানে ত্রাণসামগ্রীর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের একটি দল, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজের সরঞ্জাম এবং ডিএনএ পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম-সহ ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের একটি দলও পাঠানো হয়েছে। বন্যায় মৃতদের দেহ শনাক্ত করতে নেপালি কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করবে এই ফরেন্সিক দল। এছাড়া ২৩০ ফুট দীর্ঘ একটি ‘সিঙ্গল লেন মডুলার স্টিল ব্রিজ’ তৈরির সরঞ্জাম নিয়ে ১৬টি ট্রাক নেপালে পৌঁছেছে। আরও সাতটি বেইলি ব্রিজ তৈরির সরঞ্জাম শীঘ্রই পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। সেগুলি বসানোর জন্য প্রযুক্তিগত দলও দ্রুত নেপালে পৌঁছবে। এখনও পর্যন্ত ভারত মোট ৬৮.৫ টন ত্রাণসামগ্রী নেপালে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধান, উদ্ধার, মৃতদেহ শনাক্তকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে।