Bartaman Logo
৩০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

‘মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই’, হড়পা বানের অভিজ্ঞতা জানালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা

‘প্রথমে ভেবেছিলাম ভূমিকম্প হচ্ছে। পরের মুহূর্তেই বুঝতে পারলাম, পাহাড় থেকে মাটি-পাথর বয়ে নিয়ে আসছে বিশাল জলের দেওয়াল। তার জেরেই পায়ের তলার মাটি কেঁপে উঠেছে।

‘মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই’, হড়পা বানের অভিজ্ঞতা জানালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কাঠমান্ডু: ‘প্রথমে ভেবেছিলাম ভূমিকম্প হচ্ছে। পরের মুহূর্তেই বুঝতে পারলাম, পাহাড় থেকে মাটি-পাথর বয়ে নিয়ে আসছে বিশাল জলের দেওয়াল। তার জেরেই পায়ের তলার মাটি কেঁপে উঠেছে। কি করব, বুঝে উঠতে পারছিলাম না।’ কথাগুলো বলছিলেন দীপক তামাং। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের সিন্ধুপালচক জেলায় তার বাড়ি। বৃহস্পতিবার ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে কোনোক্রমে প্রাণে বেঁচেছেন দীপক। তবে চোখের সামনে ভেসে যেতে দেখেছেন বন্ধু-বান্ধব, পরিচিত ও আত্মীয়দের। দীপক বলেন, ‘আমার কাছে খুব বেশি বিকল্প ছিল না। পিছনে যমের মতো এগিয়ে আসছিল জলরাশি। সামনে দেওয়ালের খাড়া পাহাড়। আমি সেখানেই উঠতে শুরু করি। বারবার পড়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু ঝোপঝাড় ধরে কোনোমতে রক্ষা পাই। এটা যেন জীবন ও মৃত্যুর লড়াই।’ শেষ পর্যন্ত পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হন তামাং। আরো কয়েকজনের সঙ্গে একটি কাঠের গুদামে রাত কাটায় সে। পরে সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। 

Advertisement

একই রকম অভিজ্ঞতা চেন্নাইয়ের বাসিন্দা সাথিয়া জয়রমণের। তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির আরও ৫৬ জন পুণ্যার্থীর সঙ্গে কৈলাসে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২১ জনকে ইতিমধ্যেই দেশে ফেরানো হয়েছে। বাকি ৩৬ জনের এখনো খোঁজ মেলেনি। তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমরা দূর থেকে ধুলোর মেঘ দেখতে পাই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভেবে তাঁর ভিডিয়ো রেকর্ড করছিলাম।’ তবে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াল রূপ নিয়ে হাজির হয় হড়পা বান। সাথিয়া বলেন, ‘আমাদের বাস ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমরা পাসপোর্ট, লাগেজ সব ফেলে দিয়ে বাস থেকে নেমে পড়ি। পা সমান কাদায় ডুবে যাচ্ছিলাম। কোনোমতে পাহাড়ের কাছে পৌঁছাই। এক মহিলার শাড়িকে দড়ি হিসাবে ব্যবহার করে আমরা উপরে উঠে আসি। শাড়িটিকে কোমরে বেঁধে কয়েকজনকে টেনে উপরে তোলা হয়েছিল।’ একই রকম অভিজ্ঞতা ভারতীয় বংশোদ্ভূত অঞ্জনা রাজা ও পাত্তাভিরামান বেঙ্কটেশের। অঞ্জনা বলেন, ‘মৃত্যুকে যেন প্রত্যক্ষ দেখছিলাম। কোনোমতে গাড়ি থেকে নেমে পড়ি। বেঙ্কটেশের জামার কলার ধরে বলি, দৌড়াও। কয়েক মুহূর্ত 
সময় পেয়েছিলাম, কোনোমতে প্রায় ১০ ফুট উপরে উঠে আসি। এরপরেই ভয়ঙ্কর সেই জলের স্রোত আমাদের নীচে চলে আসে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ