


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গঙ্গা ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মালদহ, মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এর প্রভাব পড়ছে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির উপরেও। বাড়ি, জমি খুইয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই অবস্থায় রাজ্য সরকার সর্বতোভাবে দুর্গত মানুষের পাশে থাকলেও ভাঙন প্রতিরোধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের মোদি সরকার সম্পূর্ণ উদাসীন বলে সরব হলেন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। তাঁর বক্তব্য, ‘মালদহ ও মুর্শিদাবাদ মিলিয়ে ২৫ হাজার বিঘার বেশি জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। তারপরেও কেন্দ্রীয় সরকার কালো চশমা পরে বসে আছে। আর্থিক সহযোগিতা না করে বাংলার গলা টিপে ধরছে কেন্দ্র।’ প্রসঙ্গত, মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলায় গঙ্গার ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে বিধানসভার সেচ, জলপথ এবং জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটি। এই কমিটির চেয়ারম্যান বিধায়ক সমীরকুমার জানা রিপোর্টে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন, তিন জেলায় নদী ভাঙনের ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেই রিপোর্ট নিয়ে বুধবার বিধানসভার অধিবেশনে আলোচনা হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে কেন্দ্রের সমালোচনায় মুখর হন সেচমন্ত্রী। ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের জীবন নিয়ে কেন্দ্র ছিনিমিনি খেলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রের কাছে জানতে চাই, বাংলা কি ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন?’
‘ফ্লাড ম্যনেজমেন্ট অ্যান্ড বর্ডার এরিয়া প্রোগ্রাম’-এর কথা উল্লেখ করে বিজেপি বিধায়কদের উদ্দেশে মানসবাবুর আবেদন, ‘মুখ্যমন্ত্রী বারবার কেন্দ্রকে বলছেন। প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। বিজেপি বিধায়কদেরও উচিত রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের জীবন বাঁচাতে কেন্দ্রের কাছে দরবার করা।’ এদিন বিধানসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে মানসবাবু জানান, ‘নদী ভাঙন প্রতিরোধে ৪৫৪৯ কোটি টাকা, কেলেঘাই-কপালেশ্বরী প্রকল্পে ১৬০ কোটি টাকা, কান্দি প্রকল্পে ১০৩ কোটি টাকা ছাড়াও একাধিক প্রকল্পে বাংলার টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র।’
এই অবস্থায় মালদহ, মুর্শিদাবাদের ভাঙন দুর্গতদের পাশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কীভাবে দাঁড়িয়েছে, তার তথ্য এদিন বিধানসভায় পেশ করে সরকারপক্ষ। সেখানে বলা হয়েছে, ২৫৯৯ জনকে পাট্টা প্রদান করা হয়েছে। ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেশী বিহার ও ঝাড়খণ্ড সরকারের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছে রাজ্য। মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দির তৃণমূল বিধায়ক অপূর্ব সরকার, মালদহের রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়দের বক্তব্যে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক মানুষের দুরাবস্থার কথা উঠে আসে। এছাড়া, তৃণমূল বিধায়ক দেবেশ মণ্ডল, মুকুটমণি অধিকারীরা এই বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।