নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর : রাস্তার করুণ দশা! পথ চলতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠে যায়। কিন্তু প্রশাসনকে জানিয়েও সংস্কারের কাজ হয়নি। অগত্যা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে রাস্তার সমস্যার কথা জানিয়ে এমন দশ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে নবান্নে। তবে জেলা প্রশাসনও জানাচ্ছে, ধাপে ধাপে জেলার প্রতিটি ব্লকের রাস্তার সংস্কার হবে। কিন্তু বর্ষা চলে আসায় রাস্তা তৈরির কাজ থমকে রয়েছে। বৃষ্টি কমলেই পুজোর আগে একাধিক রাস্তা মেরামত হবে। ইতিমধ্যেই প্রতিটি ব্লক প্রশাসনের তরফে বেহাল রাস্তার তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সেই তালিকা অনুসারে এগবে সংস্কারের কাজ। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা তৈরি করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তবে এও ঠিক, বন্যা পরিস্থিতি ও অতিবৃষ্টির কারণে বিপুল পরিমাণে রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি সংস্কারের কাজ শুরু হবে। মানুষের যাতে সমস্যা না হয়, সেইদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, গরমকালে বহু রাস্তার হাল খারাপ হতে শুরু করে। বর্ষা আসতেই রাস্তাগুলির কঙ্কালসার ছবি বেআব্রু হয়ে পড়ে। রাস্তার বেহাল দশা থাকায় যাতায়াত করা যায় না। এছাড়া দুর্ঘটনা নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এক টাকাও সাহায্য করছে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের উদ্যোগে বহু রাস্তার সংস্কার করেছেন।
প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকার শুধু পথশ্রী প্রকল্পের আওতায় এক হাজারের বেশি রাস্তার সংস্কার করেছে। এর ফলে রাজ্যের তিন হাজারেরও বেশি গ্রামের মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। জানা গিয়েছে, জেলার বেশিরভাগ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দশ থেকে কুড়িটি রাস্তার হাল শোচনীয়। সেই রাস্তাগুলি চিহ্নিত করার কাজ চলছে। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, মানুষের আবেদন অনুসারে সব রাস্তার সংস্কার করতে হলে চার থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। ফলে একসঙ্গে সব রাস্তার সংস্কার সম্ভব হচ্ছে না। তবে জোন অনুসারে রাস্তার কাজ হবে। এদিকে, রাস্তা নিয়ে সরব বিজেপিও। জেলা বিজেপির সহ সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, তৃণমূলের নেতারা কাটমানি নিতে ব্যস্ত। টাকার অপচয় হচ্ছে। থমকে গিয়েছে উন্নয়ন।