সংবাদদাতা, খড়্গপুর: খসড়া তালিকার পর চূড়ান্ত তালিকাতেও জেলার মধ্যে সবথেকে বেশি সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ গেল খড়্গপুর সদর বিধানসভাতে। এতে অবশ্য আশার আলো দেখছে তৃণমূল। মুখে কিছু না বললেও সামান্য ব্যাকফুটে বিজেপি। কারণ, বাদ পড়া বেশিরভাগ ভোটাররাই রেল কলোনির তেলেগু ভোটার বলে সূত্রের খবর। সেই তুলনায় সংখ্যালঘু মুসলমান অধ্যুষিত ওয়ার্ডগুলিতে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা নগণ্য। শনিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকাতে পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫টি বিধানসভায় বাদ পড়েছে মাত্র ১৮ হাজার ৮৬ জন। এর মধ্যে ৩৩৪২ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে বিজেপির দখলে থাকা খড়্গপুর সদর বিধানসভাতে। এর আগে খসড়া তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর মৃত ও স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত (পার্মানেন্টলি শিফটেড) মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল। এখনও ‘বিচারাধীন’ (আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন) প্রায় ১০ হাজার ভোটার।
প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, খড়্গপুর সদর বিধানসভার রেল কলোনি এলাকার ২১৯ নম্বর বুথে প্রায় ৪০৫ ভোটার, ২২০ নম্বর বুথে প্রায় ২৯০ জন ভোটার, ২২১ নম্বর বুথে প্রায় ৩৫০ জন ভোটার, ২২২ নম্বর বুথে প্রায় ১৮০ জন ভোটার, ২২৫ নম্বর বুথে প্রায় ৫৫০ জন ভোটার, ২২৮ নম্বর বুথে ৪২৫ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। নথি যাচাই পর্ব শেষ হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই এই সংখ্যা আরও বাড়বে। খড়্গপুর শহরে বা সদর বিধানসভায় জেলার সর্বাধিক ভোটার বাদ যাওয়া নিয়ে বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ রবিবার বলেন, খড়্গপুরে সবথেকে বেশি নাম বাদ যাওয়ার কারণ, এখানে লোকসংখ্যা বেশি এবং বাইরের লোক বেশি। সকলের কাছে সব ডকুমেন্ট নেই। হিন্দু ভোটারদের নাম বাদ পড়া নিয়ে দিলীপ বলেন, ভুয়ো ভোটাররা বাদ গিয়েছেন। এনিয়ে আমাদের কোনো আতঙ্ক নেই। যাদের আতঙ্ক আছে, তারাই এসব বলছে। তবে, বিজেপি যাই বলুক না কেন, হিন্দু ভোটারদের নাম বাদ পড়া এবং এসআইআর নিয়ে খড়্গপুরের সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগাতে প্রস্তুত শাসক শিবির। তৃণমূলের মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, খড়্গপুরে রেলের ধারাবাহিক অসহযোগিতা, বস্তিতে গিয়ে হামলা বা উচ্ছেদের চেষ্টা, রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া, এসবের জন্য সাধারণ মানুষের চরম ক্ষোভ রয়েছে। গত পাঁচ বছরে ওদের বিধায়কের (হিরন্ময় চট্টোপাধ্যায়) কোনো কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের চোখে পড়েনি। আর গোষ্ঠীকোন্দল তো আছেই। সেইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন আর বিজেপি চক্রান্ত করে যেভাবে সাধারণ মানুষকে এসআইআর-এর লাইনে দাঁড় করিয়েছে, জীবিত মানুষের নাম কেটে দিয়েছে, তাতে ক্ষোভে ফুঁসছেন খড়্গপুরবাসী। খড়্গপুরের মানুষ এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের পক্ষেই রায় দেবেন।
অন্যদিকে, খড়্গপুর শহরের প্রবীণ নাগরিক তথা ‘আমরা বামপন্থী’ সংগঠনের সম্পাদক অনিল দাস বলেন, বাদ পড়া বেশিরভাগ ভোটারই তেলুগু। এনিয়ে তেমন সন্দেহ নেই। অনেকের নাম দু’ জায়গাতেই ছিল। অনেকে আবার চলেও গিয়েছেন। সেই তুলনায় মুসলমান ভোটারের নাম বেশি বাদ যায়নি। তবে কি শাসকদল তৃণমূল সুবিধা পাবে? প্রবীণ বাম নেতা বলেন, বিজেপি ও তৃণমূল দুই দলের উপরই সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আছে। খড়্গপুরের ভয়াবহ দূষণ নিয়ে কেউই পথে নামেনি। এখানে পানীয় জল, আবর্জনার সমস্যা মাত্রাতিরিক্ত। সেজন্যই তো তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ড ভেঙে দিয়েছিল ওদের সরকারই! অন্যদিকে আছে রেলের তীব্র অসহযোগিতা। কলোনিগুলিতে গিয়ে বারবার উচ্ছেদের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। এ সবকিছুর প্রভাবই এবার ভোটে পড়বে বলে জানিয়েছেন অনিলবাবুর মতো অসংখ্য সাধারণ মানুষ।