প্রীতেশ বসু, কলকাতা: বিনিয়োগ টানতে এবার আরও বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে নবান্ন। শিল্পস্থাপন ও বাণিজ্যের জন্য বাড়তি ‘ফ্লোর এরিয়া রেশিও’ (এফএআর) ধার্য করা নিয়ে সরকারি মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। নির্দিষ্ট কোনও জমির কতটা অংশে বাড়ি বা কোনও নির্মাণ তোলা যাবে, তাকে বলে ‘বিল্ট-আপ এরিয়া’। জমি ও ‘বিল্ট-আপ এরিয়া’র পরিমাণের অনুপাতকেই বলা হয় এফএআর। নয়া নিয়ম চালু হলে শিল্পস্থাপন বা বাণিজ্যিক কাজের জন্য আরও বেশি জমি ব্যবহার করতে পারবেন শিল্পোদ্যোগীরা। শীঘ্রই এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সূত্রের খবর, বর্তমানের তুলনায় এফএআর আরও ২০-২৫ শতাংশ বাড়ানোর কথাও রাজ্যের চিন্তাভাবনায় রয়েছে।
একটি জমির সর্বাধিক কতটা অংশে নির্মাণ করা যাবে বা ‘ফ্লোর এরিয়া রেশিও’ মূলত নির্ভর করে সামনের রাস্তা কতটা চওড়া, সেটার উপর। সেই নিরিখে আবাসিক বাড়ির এফএআর ১.২৫ থেকে ৩-এর মধ্যে থাকে। আর শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজের জন্য তা ২ থেকে ২.৭৫-র মধ্যে। রাজ্য সরকার অবশ্য শুধুমাত্র শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেই এই নিয়মে বদল আনতে চাইছে। ফলে আবাসিক ক্ষেত্রে কোনও প্রভাব পড়বে না।
রাজ্যে বিনিয়োগ টেনে শিল্পস্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান করাই এখন প্রধান লক্ষ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ কর্মসূচির অধীন একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় এবার নয়া সংযোজন বাড়তি এফএআর-এর সুবিধা। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে একাধিক দপ্তরের সমন্বয় বৈঠক হয়েছে নবান্নে। আগামী ৬ আগস্ট মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের নেতৃত্বে ফের আলোচনায় বসা হবে বলে খবর। জানা গিয়েছে, সেই বৈঠকেই বর্তমান এফএআর আরও কতটা বাড়ানো হবে, সেব্যাপারে প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। সেই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষমহলে। কিন্তু ‘ফ্লোর এরিয়া রেশিও’ বাড়ানো হলে শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজের জন্য তৈরি বাড়ি বা কারখানার চারপাশে কি কম জায়গা ছাড়তে হবে? প্রশাসনিক সূত্রে দাবি, মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই আইন অনুযায়ী পর্যাপ্ত জায়গা ছেড়ে রেখেই বাড়ি তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়। নিরাপত্তার বিষয়টি কোনওভাবেই অগ্রাহ্য করা হবে না। তাই কতটা এফএআর বৃদ্ধি হলে সব দিক বজায় থাকবে, তা হিসেব কষে দেখতে বলা হয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরকে। অর্থাৎ রাজ্যের পুর এলাকাতেই এই নয়া নিয়ম প্রাথমিকভাবে চালু হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজ্যের এক আধিকারিক এপ্রসঙ্গে বলেছেন, নতুন এই সিদ্ধান্তে শিল্পোদ্যোগীদের সুবিধা হবে। কারণ, বিল্ট-আপ এরিয়া বেড়ে যাওয়ার অর্থ শিল্পস্থাপন বাবদ খরচ কম হওয়া। পুর ও নগরোন্নয়ন ছাড়াও পঞ্চায়েত, শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প, পরিবেশ, অর্থ সহ একাধিক দপ্তরের জড়িত রয়েছে এই কাজের সঙ্গে। কারণ, শিল্পস্থাপনের জন্য পরিবেশ সহ অন্যান্য ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশকিছু পরিবর্তন আনার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। যেমন, গ্রামীণ এলাকায় ভারী, ছোট এবং ক্ষুদ্র শিল্পস্থাপনের জন্য জমির সামনের রাস্তা ন্যূনতম কতটা চওড়া হওয়া আবশ্যক, তা জানিয়ে দেওয়া হবে। প্রতিটি ধরনের শিল্পের ‘কালার কোডিং’ও করা হয়েছে। গত ৩১ জুলাইয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী, মাইক্রো বা ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য জমির সামনে ৩.৭৫-৫.৫ মিটারের রাস্তা থাকা জরুরি। ছোট ও মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে তা ৫.৫ মিটার। আর ভারী শিল্পে প্রয়োজন অন্তত ৭ মিটার চওড়া রাস্তা।