Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রাপ্য আদায়ের লড়াইয়ে নবান্নের অস্ত্র মোরারজি দেশাই সরকারের নির্দেশিকা

মাথা নোয়ানো নয়। কেন্দ্রের থেকে ন্যায্য প্রাপ্য ছিনিয়ে আনার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।

প্রাপ্য আদায়ের লড়াইয়ে নবান্নের অস্ত্র মোরারজি দেশাই সরকারের নির্দেশিকা
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: মাথা নোয়ানো নয়। কেন্দ্রের থেকে ন্যায্য প্রাপ্য ছিনিয়ে আনার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ধারাবাহিক সেই লড়াইয়ে এবার রাজ্যের অস্ত্র হয়ে উঠল ১৯৭৭ সালের ১৮ আগস্ট মোরারজি দেশাই সরকারের জারি করা একটি দুষ্প্রাপ্য বিজ্ঞপ্তি। ৪৯ বছর আগের সেই নথিকে সামনে রেখে নির্বাচন বাবদ বকেয়া কেন্দ্রের থেকে ছিনিয়ে আনতে মাঠে নামল নবান্ন।

Advertisement

লোকসভা নির্বাচনের যাবতীয় খরচ বহন করে কেন্দ্র। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য যাবতীয় খরচ প্রথমে করতে হয় রাজ্যকে। আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয় বলে দেখিয়ে টাকা দেওয়া এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলেও এই অর্থ পরিশোধ করার কথা কেন্দ্রেরই। এর জন্য এজি বেঙ্গলকে দিয়ে খরচের অডিট করানো বাধ্যতামূলক। তবে এই অডিট করাতে রাজ্যকে কেন্দ্রের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয়। কারণ, এজি বেঙ্গলকে এই অডিটের জন্য অনুমতি দেয় কেন্দ্র। সেই আরজি জানিয়ে গত ২৬ নভেম্বর কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রককে চিঠি দিয়েছে রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর। কিন্তু, দু’মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অনুমতি দেওয়া নিয়ে উদাসীন কেন্দ্র। অথচ, অডিট না হলে রাজ্যের পক্ষে এই খাতের ১০৮৬ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা পাওয়া অসম্ভব। এই দোলাচলে ইতি টানতে নবান্ন খুঁজে বের করেছে ১৯৭৭ সালে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তি। কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়াই এজি বেঙ্গল যাতে এই অডিটের কাজ শুরু করতে পারে, সেই চেষ্টাই চালাচ্ছে রাজ্য সরকার।

কী ছিল সেই বিজ্ঞপ্তিতে? আইন মন্ত্রকের অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট ইউনিটের জারি করা ওই নির্দেশিকায় সাফ বলা হয়েছে, ‘... সাধারণ নির্বাচনে রাজ্য যদি কোনও খরচ করে, তাহলে তা কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে নিজস্ব বাজেট গ্রান্ট থেকে গ্রান্ট-ইন-এইড হিসেবে মেটাতে হবে রাজ্যগুলিকে।’ মোরারজি দেশাই সরকারের তরফে একটি চিঠি সহ এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল প্রতিটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে। সেটাই এখন রাজ্যের ন্যায্য পাওনা বুঝে নেওয়ার হাতিয়ার! অভিজ্ঞ আমলারা জানাচ্ছেন, এই বিজ্ঞপ্তি  রাজ্যের ন্যায্য প্রাপ্যের দাবি আরও জোরদার করল। আবার, কেন্দ্রীয় অনুমোদন ছাড়াই এজি বেঙ্গলকে অডিটের আবেদন জানানোর রাস্তাও খুলে দিল। প্রশাসনিক মহলের মতে, অডিটের জন্য কেন্দ্রীয় অনুমোদনের প্রয়োজন নেই—এমন কোনও কথা সরাসরি ওই বিজ্ঞপ্তিতে লেখা নেই। তবে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ‘গ্রান্ট-ইন-এইড’ বাবদ এই টাকা মেটাবে। সাধারণত ‘গ্রান্ট-ইন-এইড’ বাবদ দেওয়া অর্থের খরচ সংক্রান্ত অডিটের আলাদা কোনও অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে না। স্বাভাবিকভাবে এক্ষেত্রেও আলাদা করে আর

অডিটের অনুমোদনের দরকার পড়ার কথা নয়। এই বিষয়টি তুলে ধরেই ১৩ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেলকে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র দপ্তর। শীঘ্রই একইভাবে কেন্দ্রকেও চিঠি দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ