নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে হিমালয় লাগোয়া উত্তরবঙ্গের কিছু অংশে মৌসুমি বায়ু বা বর্ষাকাল আসতে চলেছে বলে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর রবিবার জানিয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার আগমন নিয়ে এদিন কিছু বলা হয়নি। তবে রাজ্যের উপকূল লাগোয়া উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের আরো কিছু অংশে দু-তিন দিনের মধ্যে বর্ষা অগ্রসর হবে বলে জানানো হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, বর্ষা যে দক্ষিণবঙ্গের দিকে এগিয়ে আসছে এটা তারই ইঙ্গিত। আবহাওয়া দপ্তর বর্ষার অগ্রগতির যে রেখাচিত্র এদিন প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল থেকে বর্ষার দূরত্ব কমছে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা আসার স্বাভাবিক দিন যথাক্রমে ৫ ও ১০ জুন। এটা দিনসাতেক এদিক-ওদিক হলেও তা আবহাওয়া বিজ্ঞানের বিচারে স্বাভাবিক বলেই ধরা হয়। রবিবার উত্তর-পূর্ব ভারতের অসম, ত্রিপুরা ও অরুণাচল প্রদেশের কিছু অংশে বর্ষা শুরু হয়েছে। বর্ষা ঢুকে গিয়েছে মণিপুর, নাগাল্যান্ড ও মিজোরামের পুরো এলাকায়।
বর্ষা এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যে বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি হয়ে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, বর্ষা এগিয়ে আসার প্রভাব রাজ্যে পড়তে শুরু করেছে। রবিবার কলকাতাসহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় জোরালো বৃষ্টির মেঘ তৈরি হওয়ায় ‘লাল’ ও ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করে আবহাওয়া দপ্তর। এর মধ্যে কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, নদীয়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়াসহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি ছিল। আকাশ কালো মেঘে ঢেকে ঝড়বৃষ্টি হয়েছে কোথাও কোথাও। রবিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ৭৮.৬ মিমি বৃষ্টি হয়েছে পুরুলিয়ার শিমুলিয়ায়। নদীয়ার কল্যাণীতে এইসময়ে ৫৭.৪ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই। আপাতত আগামী কয়েকদিন রাজ্যজুড়ে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বৃষ্টি চলবে বলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প প্রবেশ করার কারণে বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টির প্রবণতা বেড়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বর্ষা প্রবেশ করার আগে এরকম হয়ে থাকে।