


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী শনিবার নাগাদ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর, আন্দামান সাগর ও আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কিছু অংশে বর্ষা অর্থাৎ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে যাবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই, বর্ষার এই আগমন বলে মনে করা হচ্ছে। নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু, কেরলম, কর্ণাটক প্রভৃতি রাজ্যে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা দিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। বেশি মাত্রায় বৃষ্টি হবে উত্তর-পূর্ব ভারতেও।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই নিম্নচাপের সরাসরি প্রভাব রাজ্যে পড়বে না। তবে বায়ুপ্রবাহের গতিপ্রকৃতির উপর কিছুটা প্রভাব পড়ার কারণে দখিনা জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস বঙ্গোপসাগর থেকে রাজ্যের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে। এই দখিনা বাতাস আগমনের ফলে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে যে শুষ্ক ও উষ্ণ বাতাস রাজ্যে, বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে আসতে পারত, তা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। ফলে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও, তা মারাত্মক হবে না বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া দপ্তরের আঞ্চলিক অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস। আপাতত দক্ষিণবঙ্গে কোথাও তাপপ্রবাহ বা অস্বস্তিকর গরম পড়ার পূর্বাভাস দেয়নি আবহাওয়া দপ্তর। যদিও উত্তর-পশ্চিম, পশ্চিম ও মধ্য ভারতে তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি চলছে। রাজস্থানের বারমের এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। রাজস্থান, মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ-মারাঠাওয়াড়া এলাকা, গুজরাত, পশ্চিম মধ্যপ্রদেশের অনেক জায়গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি বা তার বেশি আছে।
আপাতত রাজ্যের উত্তরবঙ্গের, বিশেষ করে পাহাড় ও লাগোয়া এলাকায় বেশি মাত্রায় বৃষ্টি হবে। আছে ঝড়েরও সম্ভাবনা। বঙ্গোপসাগর থেকে ঢোকা জলীয় বাষ্প পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে শক্তিশালী বজ্রমেঘ তৈরি হওয়ার ফলে এটা হবে। মধ্যপ্রদেশ থেকে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিকের উপর দিয়ে গিয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে কোথাও কোথাও কোনো কোনো দিন ঝড়বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বুধবারও দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় কোনো কোনো জায়গায় বজ্রমেঘ সৃষ্টি হয়। এই জেলাগুলির মধ্যে ছিল উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া ও বীরভূম।