Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

বর্ষার উৎসব

বর্ষার উৎসব
  • ২৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

পরিসংখ্যান বলছে, এবার উত্তরবঙ্গে বর্ষার ঘাটতি চলছে। তবে, শ্রাবণে বেশ কয়েকদিন ভালোই বৃষ্টি হয়েছে। বর্ষার আনন্দে কীভাবে মেতে উঠছে তারা, জানাল কোচবিহারের দিনহাটা হাই স্কুলের পড়ুয়ারা।

Advertisement

বৃষ্টিতে ভেজাই শখ
গ্রীষ্মের প্রখর রোদের তেজ থেকে মুক্তি মেলে বর্ষা এলে। তাই তো সমগ্র জীবকুল অপেক্ষায় থাকে এই ঋতুর। শুকনো মাটি পায় পর্যাপ্ত রস। সেই রসেই সতেজতা ফিরে পায় প্রকৃতি। ঘরের জানলা দিয়ে বৃষ্টি পড়ার দৃশ্য মন ভালো করে দেয়। বৃষ্টির আস্বাদন নিতে শরীর ভেজাই তার জলে। এটা এক অন্য ধরনের অনুভূতি এনে দেয়। বর্ষায় ভেজা আমার জীবনের অন্যতম শখ। বৃষ্টির দিনে গল্পের বই পড়ি আর পরিবারের সঙ্গে আড্ডা দিই। এই সুমধুর স্মৃতিগুলি ফিরে আসার জন্য আবারও বর্ষার জন্য অপেক্ষায় থাকি।
—অন্বেষা গোস্বামী, দ্বাদশ শ্রেণি

কবিতা লেখার সময়
বর্ষাকাল সাহিত্য সৃষ্টির জন্য উপযুক্ত সময়। বর্ষার আগমনি বার্তায় সাড়া জাগে কবির মনে। প্রকৃতি যেমন তার প্রাণ ফিরে পায়, লেখকও সৃষ্টির রসদ খুঁজে পান এই রূপ দেখে। বর্ষা শুধু সবুজ সৃষ্টি করে না, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বন্যা ধ্বংসও করে। প্রচুর মানুষ তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে কষ্টের মধ্যে দিন কাটায়। সাহিত্যিকের সৃষ্টিতে এই ভাঙা-গড়ার খেলা ধরা পড়ে। বৃষ্টির দিনে আমিও কবিতা লিখি মাঝেমধ্যে।
—রাকেশ মালাকার, দ্বাদশ শ্রেণি

মাটির সোঁদা গন্ধ
গ্রীষ্মের পরেই বর্ষার আগমন ঘটে। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে সবকিছু শুকিয়ে যায়। বর্ষার বৃষ্টিতে সতেজতা ফিরে আসে সেগুলিতে। চারদিকে যখন জলে পরিপূর্ণ হয়ে যায় অনেকেরই চলাফেরার অসুবিধা হয়। তবে ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ অন্য অনুভূতি আনে আমার কাছে। আমাদের এলাকায় বর্ষাকালে বন্যা হয়। বিদ্যালয়ে ছুটি থাকে বেশিরভাগ দিন। তবে, বর্ষার মাটির সোঁদা গন্ধ আমি উপভোগ করি। 
—অর্ঘ্য কর্মকার, অষ্টম শ্রেণি

জীবনের আশার আলো
প্রখর গ্রীষ্মের দাবদাহে শুষ্ক ধরিত্রী চাতক পাখির মতো যখন একটু জলের জন্য হাহাকার করে, তখনই হঠাৎ কোনও উষ্ণ পড়ন্ত  বিকেলে ধুলো উড়িয়ে কালবৈশাখীর সঙ্গে আবির্ভাব ঘটে বৃষ্টির। তারপর জ্যৈষ্ঠ পেরলে আগমন ঘটে বর্ষা ঋতুর। এই ঋতুর আগমনে আলগা হয়ে যাওয়া শুকনো মাটিগুলি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। ধুলো জমা গাছের পাতাগুলি থেকে ধুলোর আস্তরণ মুছে গিয়ে সতেজতা ফিরে আসে। আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা আর সবুজ সতেজ প্রকৃতির আবির্ভাব হতাশাগ্রস্ত মানুষের মনের মধ্যেও নিয়ে আসে বেঁচে থাকার আশার আলো। নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াইয়ের রসদ দেয় টাপুরটুপুর বৃষ্টি। জানলার ধারে বসে নয়নাভিরাম দৃষ্টিতে প্রকৃতির অপরূপ এই দৃশ্য উপভোগ করি।
—সুকৃতি কুণ্ডু,  দ্বাদশ শ্রেণি

গোয়েন্দা গল্প আর আড্ডা
বাংলার ছ’টি ঋতু।  আমার অন্যতম প্রিয় ঋতুগুলির মধ্যে একটি বর্ষাকাল। কারণ এই সময়ে বৃষ্টির জন্য বেশিরভাগ জায়গায় জল জমে, কর্দমাক্ত পথঘাট হলেও নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়।  বর্ষাকালে বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ, মেঘের গর্জন, শান্ত, স্নিগ্ধ  সবুজ প্রকৃতি দেখা যায়। আমি প্রকৃতির এই অপরূপ রূপ দেখার জন্য বর্ষার জন্য অপেক্ষায় থাকি। হ্যাঁ, ঠিকই আমারও একটু খারাপ লাগে বর্ষায় কর্দমাক্ত পথ ধরে চলাচল করতে। তবে  সতেজ সবুজ প্রকৃতি উপভোগ করলে নিজের মনের এক শান্ত অনুভূত হয়। বৃষ্টির মনোমুগ্ধকর রূপের পাশাপাশি এসময় বাড়ি বসে গোয়েন্দা গল্পের বই পড়তে ভালোবাসি।  বাড়িতে বন্ধুরা এলে  আড্ডা জমে যায় বেশ।
—আয়ুষ মজুমদার,  দ্বাদশ শ্রেণি

ইলিশ-খিচুড়ির মজা
বর্ষাকালের অনুভূতি খুবই সুন্দর। দারুণ গরমে বর্ষাকাল আমাদের জীবনে শান্তি নিয়ে আসে। বৃষ্টির দিনে রাস্তায় জল জমে নদীর মতো হয়ে য়ায়। তখন আমি কাগজের নৌকো বানিয়ে জলে ভাসাই । বর্ষা এলে আমি যেন একজন ছোট শিশুর মতো হয়ে যাই। বর্ষার দিনে খিচুড়ি, ইলিশ মাছ ভাজা, পাঁপড় ভাজা হল আমার প্রিয় খাদ্য। বর্ষার সময় ঘরে বসে বাইরে প্রকৃতির রূপ দেখতে খুবই ভালো লাগে। এই সময়ে বৃষ্টির পর যে ঠান্ডা হাওয়া বয়ে যায় তা খুবই মনোরম। এককথায় বর্ষা আমার কাছে সেরা ঋতু।
—পুষ্পরাজ সরকার, নবম শ্রেণি

প্রধান শিক্ষকের কলমে, দিনহাটা হাই স্কুল, কোচবিহার

সার্ধ শতবর্ষের দোরগোড়ায় উপনীত হয়েছে দিনহাটা হাই স্কুল। কোচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণ ভূপ বাহাদুরের উদ্যোগে ১৮৬৪ সালে স্থাপিত হয় একটি মিডল ইংলিশ স্কুল। পরবর্তীকালে ১৮৯০ সালের ৬ জুলাই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন পায় স্কুলটি। সেটিই এখন দিনহাটা উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। ১৮৯০ সালটিকেই স্কুলের প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে বহু স্বনামধন্য শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সচেতন ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্তমান রূপ পরিগ্রহ করেছে। ২০০১ সালে  মাধ্যমিকে রাজ্যের মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে এই স্কুলেরই ছাত্র শুভাশিস সাহা। সেই ধারা অনুসরণ করে ২০০৯ সালে মাধ্যমিকে রাজ্যে চতুর্থ হয় সৌমেন সাহা। ২০১১ সালের উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যে প্রথম হয়েছে এই সৌমেনই। ওই বছর বিদ্যালয়ের আরও এক ছাত্র  জয় সাহা রাজ্যে উচ্চ মাধ্যমিকে দশম স্থান অধিকার করে। সাময়িক বিরতির পরে ২০১৮ সালে মাধ্যমিকে ষষ্ঠ স্থান লাভ করে সুমিত বাগচী। পরের বছর উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যে দ্বিতীয় হয় স্বর্ণদ্বীপ সাহা। এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তনী কনক সাহা শান্তি স্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার পেয়েছেন। 
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হোসেন মহম্মদ এরশাদ এই বিদ্যালয়েরই প্রাক্তনী। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী কমল গুহ এবং তাঁর পুত্র বর্তমান উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ দু’জনেই এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। বিখ্যাত ভাওয়াইয়া শিল্পী আব্বাসউদ্দিন সহ বহু কৃতীর শিক্ষালাভের আঁতুড়ঘর এই স্কুল।
এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে 
তোলার মহৎ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়েছিলেন রমণীমোহন বসু, শরৎচন্দ্র মিত্র, অতুলচন্দ্র চক্রবর্তী প্রমুখ। দিনহাটা হাই স্কুল আজও কোচবিহার জেলা তথা রাজ্যের শিক্ষা জগতে প্রথম সারিতে অবস্থান করে। এই পৃথিবীকে শিশুর বাসযোগ্য করে তোলার মহৎ উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীরা অঙ্গীকারবদ্ধ।
 —উত্তম দেব, প্রধান শিক্ষক
ছবি ও সংকলক: মনসুর হাবিবুল্লাহ

সম্পর্কিত সংবাদ