Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বলি বন্ধ করতে হাড়িকাঠে মাথা ঢুকিয়েছিলেন সন্ন্যাসী, নওদার মুখোপাধ্যায় বাড়ি

নওদা ব্লকের কেদারচাঁদপুরের মুখোপাধ্যায় বাড়ির দুর্গাপুজোয় পশুবলি বন্ধ করতে হাড়ি কাঠে মাথা ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন এক সন্ন্যাসী।

বলি বন্ধ করতে হাড়িকাঠে মাথা ঢুকিয়েছিলেন সন্ন্যাসী, নওদার মুখোপাধ্যায় বাড়ি
  • ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

তাপস ঘোষ, বহরমপুর: নওদা ব্লকের কেদারচাঁদপুরের মুখোপাধ্যায় বাড়ির দুর্গাপুজোয় পশুবলি বন্ধ করতে হাড়ি কাঠে মাথা ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন এক সন্ন্যাসী। তিনি বলেছিলেন, পশু বলির আগে আমাকে বলি দাও। এরপর থেকে মুখোপাধ্যায় পরিবারের বলিদান প্রথা বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে দেবী দুর্গাকে শোল মাছের ঝোল দিয়ে ভোগ নিবেদনের প্রথা চালু হয়। সেবারই পরিবারের কর্তা স্বপ্নাদেশ পেয়ে পরের বছর থেকে সাত পুতুলের প্রতিমার বদলে তিন পুতুলের প্রতিমায় পুজো শুরু করেন। আনুমানিক ৩৭০ বছর ধরে মুখোপাধ্যায় পরিবারে সিংহবাহিনী দুর্গা মহিষাসুর সহ পূজিত হয়ে আসছেন। দশমীর দিন পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠা গৃহিণী কড়ি ছেটান। সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে গ্রামবাসসীরা সেই কড়ি তুলে ঘরে নিয়ে যান। পরিবারের সদস্য বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের পরিবারে দুর্গা সহ জগদ্ধাত্রী ও কালী পুজো হয়। তিন শরিক পালা করে পুজো করে। তবে পুজোর সময় সকলের জন্য একটাই হেঁশেল থাকে।

Advertisement

মুখোপাধ্যায় পরিবারের দাবি, আজ থেকে প্রায় ৩৭৫ বছর আগে বনমালী নামে এক সন্ন্যাসী কেদারদাঁদপুরে একটি চালা ঘরে দুর্গা পুজো শুরু করেন। ওই তল্লাটের জমিদার ছিলেন কেদারনাথ মুখোপাধ্যায়। গ্রামে পুজো প্রতিষ্ঠার দু’বছর পর কেদারনাথবাবু সন্ন্যাসীর আনা দুর্গাপুজো পারিবারিক পুজো হিসেবে শুরু করেন। ১০ কাঠা জায়গার উপর মন্দির তৈরি করে পুজো শুরু করেন। কেদারনাথবাবুই সেই পুজোয় মোষ বলি শুরু করেন। বনমালী সন্ন্যাসীবলিদান প্রথার ঘোর বিরোধিতা করেন। একবার বলিদানের সব প্রস্তুতি শেষ। সন্ন্যাসী ছুটে এসে নিজেই হাঁড়িকাঠে মাথা ভরে দিয়ে বলেন, ‘আমাকে বলি দিয়েই পশু বলি দাও।’ এরপর আর কেদারনাথবাবু মোষ বলি দেওয়ার সাহস পাননি। তারপর থেকে নবমীতে শোল মাছের ঝোল দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়।শাক্তমতে পুজোর বাকি দিনগুলিতেও মায়ের ভোগে বিভিন্ন মাছের পদ থাকে। তখন একচালার সাত পুতুলের প্রতিমা হতো মুখোপাধ্যায় পরিবারে।
বলিদান প্রথা বন্ধ হওয়ার পর কেদারনাথবাবু স্বপ্নাদেশ পান। স্বপ্নে সাত পুতুলের পরিবর্তে তিন পুতুলের প্রতিমা পুজোর নির্দেশ পান কেদারনাথবাবু। তারপর থেকে মুখোপাধ্যায় পরিবারের এক কাঠামোয় থাকে দুর্গা, সিংহ ও অসুর। তিন শরিক বিভিন্ন জায়গায় থাকলেও পুজোয় সব এক হয়ে যান। প্রদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘এক সময় পরিবারের মেয়ে জামাই আত্মীয়, কুটুম্বদের নিয়ে পুজো চারদিন গমগম করত। এখন সবাই আসতে পারেন না। তবে পুজোর ঐতিহ্য আর রীতির কোনও বদল হয়নি। পরিবারের বর্তমান বয়োজ্যেষ্ঠা গৃহিণী হলেন সুলেখা মুখোপাধ্যায়। বিসর্জনের আগে সুলেখাদেবী মাটির হাঁড়িতে কড়ি নিয়ে মন্দিরের চাতালে এসে দাঁড়ান। শুরু হয় কড়ি ছেটানো। সেই কড়ি সংগ্রহে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। বিন্দুবাসিনি তলা বিলে মুখোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গা বিসর্জনের পর বাকি প্রতিমা জলে দেওয়া হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ