Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভুয়ো ইডি-সিবিআই অফিসার সেজে টাকা হাতানোর চক্র ফাঁস, গ্রেপ্তার ৬

স্পেশাল ২৬ সিনেমার গল্পের কথা নিশ্চয়ই অনেকের মনে আছে

ভুয়ো ইডি-সিবিআই অফিসার সেজে টাকা হাতানোর চক্র ফাঁস, গ্রেপ্তার ৬
  • ২৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: স্পেশাল ২৬ সিনেমার গল্পের কথা নিশ্চয়ই অনেকের মনে আছে। সেখানে কীভাবে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার অফিসার সেজে কিছু মানুষ বড় বড় ব্যবসায়ীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে টাকা পয়সা, গয়না ইত্যাদি লুট করেছিল। সিনেমার রিল যেন এবার বাস্তবে জীবন্ত হয়ে উঠল। ডায়মন্ডহারবারে অফিস খুলে এক দল প্রতারক কখনও সিবিআই অফিসার, কখনও আবার ইডি,  নারকোটিক ব্যুরো প্রভৃতি অফিসারের মিথ্যে পরিচয় দিয়ে মানুষজনকে ভয় দেখিয়ে টাকা তোলার কাজ শুরু করেছিল। সেই চক্রের পর্দা ফাঁস করল ডায়মন্ডহারবার পুলিস জেলা। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬ জনকে। গত একমাস ধরে এই অপকর্ম তারা করছিল। 

Advertisement

ডায়মন্ডহারবার পুলিস জেলার অতিরিক্ত সুপার (জোনাল) মিতুনকুমার দে মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ডায়মন্ডহারবার পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ানি কোর্ট পাড়ায় রীতিমতো অফিস খুলে বসেছিল ওই প্রতারণা চক্র। এমনকী, অফিস উদ্বোধনের সময় কেন্দ্রীয় সরকারের লোগো লাগানো নীলবাতির গাড়িতে চেপে সংস্থার অফিস উদ্বোধন করতে এসেছিল এক ব্যক্তি। তাঁকে সংস্থার এক অফিসার হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছিল। সোশ্যাল-লিগ্যাল-ক্রাইম অ্যান্ড ইনফরমেশন নামে সংস্থা খুলেছিল তারা। অফিসের বাইরে এই নামে একটি ব্যানারও লাগানো হয়েছিল। সংস্থাটি ভারত সরকারের রেজিস্টার্ড ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত বলে তাতে উল্লেখ রয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক মানুষকে মামলার ভয় দেখিয়ে কখনও ১০ হাজার, কখনও পাঁচ হাজার করে টাকা নিয়েছিল ওই চক্র বলে অভিযোগ। সূত্র মারফত পুলিসের কাছে এই চক্রের ব্যাপারে খবর আসে। শুরু হয় তদন্ত। তারা জানতে পারে, এখনও পর্যন্ত ১১ জনের কাছ থেকে টাকা তুলেছে ওই প্রতারকরা। কত টাকা নেওয়া হয়েছে, সেই হিসেব করা হচ্ছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। চক্রের মূল কারবার দক্ষিণ দিনাজপুরে।  সম্প্রতি তারা ডায়মন্ডহারবারে জাল বিস্তার করেছিল। 
পুলিসের দাবি, যে ছ’জন ধরা পড়েছে, তাদের মধ্যেই রয়েছে মূল মাথা—ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়। তিনি কলকাতার লেক থানার বাসিন্দা। যে অফিসে বসে এই প্রতারণা চক্র চালানো হচ্ছিল, সেটি সিল করে দিয়েছে পুলিস। স্থানীয়ভাবে এই প্রতারকদের কেউ সহযোগিতা করেছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। 
ডায়মন্ডহারবারের এই ঘটনা সামনে আসতেই অনেকেই বলছেন, কিছুদিন আগে বীরভূমের নেতা বিভাস অধিকারী যেভাবে ভুয়ো থানা খুলে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল, এখানেও অবিকল কায়দায় মানুষ ঠকানোর কাজে নেমেছিল চক্রটি।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ