নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: মানি লন্ডারিং সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ধৃত মহম্মদ সাইদুলের আরও তিনটি ডেরার হদিশ ফাঁসিদেওয়ায়। শনিবার সংশ্লিষ্ট ঘটনা নিয়ে দার্জিলিং জেলা পুলিসের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) তদন্তে নেমে ডেরাগুলি চিহ্নিত করে। যার মধ্যে দু’টি বাড়ি ও একটি দোকান। সেগুলি থেকে বেশকিছু সিমকার্ড ও এটিএম কার্ড উদ্ধার হয়েছে। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিসের সন্দেহ, সহজে মোটা অঙ্কের টাকা কামানোর টোপ দিয়ে ওই বাড়ি ও দোকানের মালিকদের নামেও সারোগেটেড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলেছিল ধৃত। এনিয়ে গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
দার্জিলিংয়ের পুলিস সুপার প্রবীণ প্রকাশ বলেন, আর্থিক প্রতারণার ওই মামলা নিয়ে সিট তদন্তে নেমেছে। প্রথম দিনই সিট গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পেয়েছে। সেগুলি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে।
কয়েকদিন আগে সাইদুল ও তার সাগরেদ তপন গোপকে গ্রেপ্তার করেছে ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিস। অভিযোগ, এক বছরে হাজার সারোগেটেড বা মিউল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে ১০০ কোটি টাকার লেনদেন করেছে সাইদুল। যার সঙ্গে দুবাই, আবুধাবি, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি প্রভৃতি এলাকায় ঘাঁটি গেড়ে থাকা মানি লন্ডারিং সিন্ডিকেটের সংস্রব রয়েছে বলেই সন্দেহ। চাঞ্চল্যকর সেই শুক্রবার জেলা পুলিস সিট গঠন করেছে। এদিন সিটের প্রতিনিধিরা ফাঁসিদেওয়া থানার অফিসারদের নিয়ে তদন্তে নেমেছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, আদালতের নির্দেশে কয়েকদিন ধৃত সইদুল ও তার সাগরেদ তপন পুলিস হেফাজতে রয়েছে। এদিন সিটের প্রতিনিধিরা ধৃতদের নিয়ে দিনভর অভিযান চালায়। তারা চটহাট এবং নিকরগছের দু’টি বাড়িতে এবং নয়ারহাটের একটি মোবাইল ফোনের দোকানে অভিযান চালায়। সংশ্লিষ্ট তিনটি জায়গা থেকে তিনটি এটিএম কার্ড ও ২৫টি মোবাইল ফোনের সিমকার্ড উদ্ধার হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসডিপিও (নকশালবাড়ি) নেহা জৈন। টিমে সিআই (নকশালবাড়ি) সৈকত ভদ্র, ফাঁসিদেওয়া থানার ওসি চিরঞ্জিৎ ঘোষ ও ঘোষপুকুর ফাঁড়ির ওসি সঞ্জয় তিরকে ছিলেন।
দীর্ঘক্ষণ ধরে অভিযান চললেও পুলিস কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। পুলিস অফিসাররা জানান, ধৃত সইদুলের দেওয়া তথ্য অনুসারেই অভিযান চালানো হয়েছে। নয়ারহাটের মোবাইল দোকানের মালিকের সঙ্গে ধৃতের পরিচয় দীর্ঘদিনের। এজন্য দোকানের পাশাপাশি তাঁর বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছে। সম্ভবত সহজে মোটা টাকা কামানোর টোপ দিয়ে তাঁর নামেও সারোগেটেড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলে সাইদুল।
পাশাপাশি, যাতে কারও সন্দেহ না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট মোবাইল দোকানে সিমকার্ড মজুত রেখেছিল। একই ভাবে চটেরহাটে আর এক গ্রামবাসীকে ব্যবহার করে ধৃত সইদুল। সেই বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। তাদের গ্রেপ্তার করা না হলেও তাদের ভূমিকা গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। তাদের গতিবিধির উপর নজরও রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি, উদ্ধার হওয়া এটিএম কার্ড ও সিমকার্ড খতিয়ে দেখা হবে। চটহাট এলাকায় ধৃতের এমন আরও কিছু ডেরা রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। সেগুলির খোঁজ চলছে।